peace tv কে কি যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে?
2 Answers
Peace Tv কে যাকাত দেওয়া জায়েয আছে কি? এই বেপারে অনেক আলেমদের মধ্যে মত- বিমত রয়েছে।অনেক আলেমরা বলে থাকে সবসময় peace tv কে যাকাত দেওয়া হবে কেন?এটা তো গরীবের হক। আসলে যারা কোরআন এর অর্থ জানেনা তারাই এই ধরনের কথা বলে থাকে।তারা শুধু কোরআনের আরবিটাই পড়ে কিন্তু বাংলা অর্থ পড়ে না তাই তারা কিছুই জানেনা বুঝেনা। পবিএ কোরআনে আল্লাহ বলেন, যাকাত হল কেবল ফকির মিসকিন, যাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্য ঋন গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে,এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান।আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।[সূরা ঃ আত-তাওবাহ আয়াত ৬০] তাহলে এখানে আমরা বুঝতে পারলাম যে যাকাত শুধু মাএ গরীবের হক নয়। আল্লাহর পথে যারা জিহাদ করে তাদের জন্যও আল্লাহ যাকাত ফরয করেছেন। জিহাদ সম্পর্কে আল্লাহ পবিএ কোরআনে বলেন, হে রাসূল তুমি কাফেরদের আজ্ঞাবহ হইয় না।বরং এ কেতাবের শিক্ষা প্রচারের মাধ্যমে বড় জিহাদ করবে। [সূরাঃ ফোরকান আয়াত ৫২] তাহলে উপরোক্ত আয়াত ধারা বুঝা গেল, কোরআনের শিক্ষা প্রচার করা বা ইসলাম প্রচার করা বড় জিহাদ। সুতরাং Peach Tv ইসলাম প্রচার বা কোরআনের শিক্ষা প্রচার করে থাকে। তাই peach tv কে যাকাত দেওয়া জায়েয রয়েছে। বিদ্রঃ কারো যদি আমার সাথে মত বিরুদ্ধ থাকে তাহলে কোরআনের এই আয়াত গুলো কোরআনে মিলিয়ে দেখুন।
কুরআন এবং হাদীস থেকে যা জানা যায় তা হলো, যাকাত প্রদানের খাত শরীয়তের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট। আল্লাহ তাআলা আট প্রকারের ব্যক্তিদের যাকাত দেয়ার কথা বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺎﺕُ ﻟِﻠْﻔُﻘَﺮَﺍﺀِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺍﻟْﻌَﺎﻣِﻠِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆَﻟَّﻔَﺔِ ﻗُﻠُﻮﺑُﻬُﻢْ ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟﺮِّﻗَﺎﺏِ ﻭَﺍﻟْﻐَﺎﺭِﻣِﻴﻦَ ﻭَﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻞِ ۖ ﻓَﺮِﻳﻀَﺔً ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۗ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ﺣَﻜِﻴﻢٌ অর্থাৎ, যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা-৬০) যে আট ধরণের ব্যক্তিকে যাকাত দেয়ার কথা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা। ১- গরীব। যার সম্পদ আছে কিন্তু নেসাব পরিমাণ মালের মালিক নয়। ২- মিসকিন। যার একদমই কোন সম্পদ নেই। ﻭﺍﻟﻔﻘﻴﺮ ﻣﻦ ﻟﻪ ﺃﺩﻧﻰ ﺷﻲﺀ ﻭﺍﻟﻤﺴﻜﻴﻦ ﻣﻦ ﻻ ﺷﻲﺀ ﻟﻪ (হিদায়া-১/১৮৪) ৩- ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট যাকাত আদায়কারী আমেল। এটা ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান দ্বারা নিযুক্ত হতে হবে। নিজে নিজে মনে করে নিলে হবে না। (জাওয়াহিরুল ফিক্বহ-৬/৬৯) ৪- নব মুসলিমদের ইসলামের প্রতি মোহাব্বত বাড়ানোর জন্য উৎসাহমূলক যাকাত প্রদান। এ বিধানটি রহিত হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে কোন ধনী নওমুসলিমকে যাকাত প্রদান জায়েজ নয়। ﻭﻗﺪ ﺳﻘﻂ ﻣﻨﻬﺎ ﺍﻟﻤﺆﻟﻔﺔ ﻗﻠﻮﺑﻬﻢ ﻷﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺃﻋﺰ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﻭﺃﻏﻨﻰ ﻋﻨﻬﻢ ﻭﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﺍﻧﻌﻘﺪ ﺍﻹﺟﻤﺎﻉ (হিদায়া-১/১৮৪, মাআরিফুল কুরআন-৪/১৭১, তাফসীরে মাযহারী-৪/২৩৫) ৫- দাসমুক্তির জন্য। যেহেতু বর্তমানে দাসপ্রথা নেই। তাই এ খাতটি বাকি নেই। ৬- ঋণগ্রস্তের জন্য। ৭- ফী সাবিলিল্লাহ। তথা আল্লাহর রাস্তায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য। এখন প্রশ্ন হল আল্লাহর রাস্তায় কারা আছে? ফুক্বাহায়ে কেরাম বলেন এতে রয়েছেন- জিহাদরত মুজাহিদরা। তাদের জিহাদের অস্ত্র ও পাথেয় ক্রয় করার জন্য যাকাতের টাকা গ্রহণ করবে। হজ্বের সফরে থাকা দারিদ্র ব্যক্তির জন্য। ইলমে দ্বীন অর্জনকারী দারিদ্র ব্যক্তির জন্য। (আদ দুররুল মুখতার-৩৪৩, হিদায়া-১/১৮৫, রূহুল মাআনী-৬/৩১৩) ৮- সফররত ব্যক্তিকে। যার টাকা পয়সা আছে বাড়িতে। কোন সফর অবস্থায় অসহায়। তাকে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েজ। উপরোক্ত ক্যাটাগরিতে যাকাত আদায় করলেই কেবল যাকাত আদায় হবে। অন্য কাউকে যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। ফুক্বাহায়ে কেরাম যাকাত আদায়ের জন্য একটি শর্তারোপ করেছেন এই যে, যাকাতের টাকার মালিক বানিয়ে দিতে হবে দানকৃত ব্যক্তিকে। যদি মালিক বানিয়ে দেয়া না হয়, তাহলে যাকাত আদায় হবে না। যেমন কাউকে কোন বস্তু ভোগ দখলের অধিকার দিয়ে নিয়ত করল যাকাতের, তাহলে এর দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। সেই হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, মসজিদে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েজ নয়, যদিও তাতে গরীব মানুষ থাকে, নামায পড়ে, পড়াশোনা করে। তবে প্রতিষ্ঠানের গরীবদের, মাদরাসা গরীব ছাত্রদের, মসজিদের গরীব মুসল্লিদের যাকাত দিলে তাতে মালিক বানিয়ে দেয়ার বিষয়টি থাকায় তা জায়েজ হবে। (ইনায়া আলা ফাতহিল কাদীর-২/২৬৭-২৬৮, আল হিদায়া-১/২০৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/২৯৯) আল্লামা বুরহানুদ্দীন মরগনানী রহঃ বলেন, ﻭﻻ ﻳﺒﻨﻰ ﺑﻬﺎ ﻣﺴﺠﺪﺍ ﻭﻻ ﻳﻜﻔﻦ ﺑﻬﺎ ﻣﻴﺖ ﻹﻧﻌﺪﺍﻡ ﺍﻟﺘﻤﻠﻴﻚ ﻫﻮ ﺍﻟﺮﻛﻦ ، অর্থাৎ, যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদ বানানো যাবে না। এবং তা দ্বারা কোন মায়্যেতকে কাফন কিনে দেয়া যাবে না। কেননা, সেখানে কাউকে মালিক বানিয়ে দেয়া হচ্ছে না। অথচ, যাকাতের মালের কাউকে মালিক বানিয়ে দেয়া রুকুন। (হেদায়াঃ১/২০৫) উল্লিখিত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, পিস টিভিতে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে না। কারণ, টিভির আপত্তিকর বিষয় ছাড়াও যাকাত আদায়ের জন্য অন্যতম শর্ত হল, তামলীক অর্থাৎ যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত কোন ব্যক্তিকে যাকাতের মালিক বানিয়ে দেয়া। টিভিতে যাকাত দিলে সেই শর্ত পাওয়া যায় না। সেখানে নির্দিষ্টভাবে কোন ব্যক্তিকে যাকাতের মালিক বানিয়ে দেয়া হচ্ছে না। তাই টিভি চালানোর জন্য যাকাতের টাকা দিলে, সেই যাকাত আদায় হবে না। আর যদি কেউ পূর্বে সেখানে যাকাত দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই যাকাত আদায় না হওয়ায় পুনরায় উপযুক্ত খাতে সে পরিমাণ যাকাত আদায় করা জরুরী। এখন প্রশ্ন হল পিস টিভিকে কোন হিসেবে যাকাত দেয়া হবে? পিস টিভি কুরআনে উল্লেখিত যাকাতের খাতের কোন খাতে পরে? আর পিস টিভি কোন ব্যক্তি? যেহেতু প্রতিষ্ঠান কোন ব্যক্তি নয়, তাই প্রতিষ্ঠানকে যাকাত দেয়া জায়েজ নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের গরীবদের জন্য যাকাত দেয়া জায়েজ। সেই হিসেবে পিস টিভিতে যাকাত দেয়া কিছুতেই জায়েজ নয়। তবে যদি পিস টিভির কর্তৃপক্ষ গরীব হয়, যাকাত খাওয়ার যোগ্য হয়, তাহলে তাদের জন্য যাকাত দেয়া জায়েজ আছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১২৩৯৪ বাদায়েউস সানায়ে ২ : ১৪২, ২৪৯ ইযাহুন নাওয়াদির, ২য় খণ্ড, ২২৯-২৩২ আল বাহরুর রায়িক, ২ : ৪১৯ ফাতাওয়া শামী, ২ : ৩৩৯