তারাবির নামাজ সুন্নত, না পড়লে গুনা হবে কি,পড়লে কত রাকাত পড়তে হবে
4547 views

2 Answers

ছালাতুল লাইল বা তারাবীহর ছালাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। এর ফযিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺇِﻳﻤَﺎﻧًﺎ ﻭَﺍﺣْﺘِﺴَﺎﺑًﺎ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ ‘যে ব্যক্তি রামাযানের রাত্রিতে ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় রাত্রির ছালাত আদায় করে, তার বিগত সকল গোনাহ মাফ করা হয়’। ( মুসলিম, মিশকাত হা/১২৯৬ ‘রামাযান মাসে রাত্রি জাগরণ’ অনুচ্ছেদ-৩৭।) তবে কেউ যদি তারাবীহর ছালাতকে ছেড়ে দেয়, সেক্ষেত্রে গুনাহগার হবেনা। কেননা ইসলামী শরীয়তে গুনাহগার হওয়ার কথা বলা হয়নি। আর গুনাহগার হলে শুধু রামাযান মাসেই কেন, অন্য সারা বছরই তো হওয়ার কথা! কেননা আল্লাহর রাসূল গোটা বছরই নিয়মিত এই ছালাত আদায় করতেন। তবে হ্যা, এই মহিমান্বিত মাসে তারাবীহর মতো ফযীলতপূর্ন ইবাদাতকে অলসতা করে ছেড়ে দেওয়া কোনভাবেই উচিৎ না। মহান আল্লাহ এ মাসে বেশী বেশী তার ইবাদাত-বন্দেগী করার তাওফিক দিন। আমীন! এখন প্রশ্ন হলো তারাবীহ ছালাত কয় রাকা'আত বিশিষ্ট হবে? ১১/১৩ নাকি ২০ রাকা'আত? এবার চলুন! বিস্ময় অ্যানসারের এই ক্ষুদে প্লাটফরমে বিষয়টি নিয়ে একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা যাক... রাসূলুল্লাহর (ছাঃ) রাতের ছালাত ১১ বা ১৩ রাক‘আত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রামাযান মাসে বিতর সহ ১১ রাক‘আতের বেশী রাতের ছালাত (তারাবীহ) আদায় করেননি (বুখারী ১/১৫৪ পৃঃ; মুসলিম ১/২৫৪ পৃঃ; আবুদাঊদ ১/১৮৯পৃঃ; নাসাঈ ১/১৯১ পঃ:; তিরমিযী ১-৯৯ পৃঃ; ইবনু মাজাহ ১/৯৬-৯৭ পৃঃ; মুওয়াত্ত্বা মালেক ১/৭৪ পৃঃ)। ওমর (রাঃ) উবাই বিন কা’ব ও তামীম দারী (রাঃ)-কে রামাযান মাসে লোকদের নিয়ে ১১ রাকা‘আত (তারাবীহ্র) ছালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন (মুওয়াত্ত্বা ১/৭১ পৃঃ; মিশকাত হা/১৩০২, হাদীছ ছহীহ; ঐ বঙ্গানুবাদ হা/১২২৮ রামাযান মাসে রাত্রি জাগরণ অনুচ্ছেদ)। এবার ২০ বা ২৩ রাকা'আত তারাবীহ ছালাতের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করবো। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, মুওয়াত্ত্বায় বর্ণিত ইয়াযীদ বিন রূমান কর্তৃক যে বর্ণনাটি এসেছে যে, ‘লোকেরা ওমরের যামানায় ২৩ রাক‘আত তারাবীহ পড়ত’ একথাটি যঈফ। কেননা ইয়াযীদ বিন রূমান ওমর (রাঃ)-এর যামানা পাননি (দ্র: আলবানী, মিশকাত হা/১৩০২ টীকা-২)। অতএব ইজমায়ে ছাহাবা কর্তৃক ওমর, ওছমান ও আলীর যামানা থেকে ২০ রাক‘আত তারাবীহ সাব্যস্ত বলে যে কথা বাজারে চালু রয়েছে, তার কোন শারঈ ভিত্তি নেই। একথাটি পরবর্তীকালে সৃষ্ট। হাদীছের বর্ণনাকারী ইমাম মালেক নিজে ১১ রাক‘আত তারাবীহ পড়তেন, যা রাসূল (ছাঃ) হ’তে প্রমাণিত (হাশিয়া মুওয়াত্ত্বা পৃঃ৭১; দ্র: তুহফাতুল আহওয়াযী শরহ তিরমিযী হা/৮০৩-এর ব্যাখ্যা ৩/৫২৬-৩২)। বিশ রাক‘আত তারাবীহ-এর প্রমাণে বর্ণিত হাদীছটি জাল। (আলবানী, ইরওয়াউল গালীল হা/৪৪৫, ২/১৯১ পৃঃ)। ভারত বিখ্যাত হানাফী মনীষী আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ:) বলেন, বিশ রাক‘আত সম্পর্কে যত হাদীছ এসেছে, তার সবগুলিই যঈফ (আরফুশ শাযী, তারাবীহ অধ্যায়, পৃঃ ৩০৯)। হেদায়া-র ভাষ্যকার ইবনুল হুমাম হানাফী বলেন, ২০ রাক‘আতের হাদীছ যঈফ এবং ছহীহ হাদীছ সমূহের বিরোধী (ফাৎহুল ক্বাদীর ১/২০৫ পৃঃ)। আল্লামা যায়লাঈ হানাফী বলেন, বিশ রাক‘আতের হাদীছ যঈফ এবং আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত ছহীহ হাদীছের বিরোধী (নাছবুর রা’য়াহ ২/১৫৩ পৃ:)। আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী হানাফী বলেন, রাসূল (ছাঃ) থেকে বিশ রাক‘আত তারাবীহ প্রমাণিত নয়, যা বাজারে প্রচলিত আছে। এছাড়া ইবনু আবী শায়বাহ বর্ণিত বিশ রাক‘আতের হাদীছ যঈফ এবং ছহীহ হাদীছের বিরোধী (ফাৎহু সির্রিল মান্নান লিতা’য়ীদি মাযহাবিন নু‘মান, পৃঃ ৩২৭)। দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ক্বাসিম নানুতুবী বলেন, বিতরসহ ১১ রাক‘আত তারাবীহ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত, যা বিশ রাক‘আতের চাইতে যোরদার (ফুয়ূযে ক্বাসিমিয়াহ, পৃঃ১৮)। হানাফী ফিক্বহ কানযুদ দাক্বায়েক্ব-এর টীকাকার আহসান নানুতুবী বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বিশ রাক‘আত তারাবীহ পড়েননি; বরং আট রাক‘আত পড়েছেন (হাশিয়া কানযুদ দাক্বায়েক্ব, পৃঃ৩৬:) এবার আপনিই ঠিক করুন, রাসূলুল্লাহর (ছাঃ) ছহীহ সুন্নাহ দ্বারা সুপ্রমানিত ১১ বা ১৩ রাকা'আত তারাবীহ পড়বেন, নাকি দূর্বল সনদে প্রমাণিত ২০ বা ২৩ রাকা'আত তারাবীহ ছালাত আদায় করবেন? (মহান আল্লাহ সঠিকভাবে তার দ্বীন বুঝার তাওফিক দিন। আমীন!)

4547 views

তারাবি নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা তাই তারাবি নামাজ পরতেই হবে না পরলে গুনাহগার হবে আর হ্যা যারা বলে তারাবি আয়শা রাঃ বেতর সহ ১১রাকাত কথা বলেছেন তাদের কে বলছি সেটা বলা হয়েছে তাহাজ্জুদ নামাজের কথা ১১রাকাতের যেই হাদিস সেটা যদি তারাবির নামাজ হতো তাহলে তাহাজ্জুদের অধ্যায় কেন?তারাবি নামাজ 20রাকাতই সহি

4547 views

Related Questions