2 Answers
রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেন, প্রথম আঘাতে টিকটিকি মারতে পারলে ১০০ নেকী, দ্বিতীয় আঘাতে তার চেয়ে কম, তৃতীয় আঘাতে মারতে পারলে তার চেয়েও কম নেকী পাবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৪১২১)। এর কারণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেন, টিকটিকি ইবরাহীম (আ:)-এর বিরুদ্ধে আগুনে ফুঁক দিয়েছিল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪১১৯)। উল্লেখ্য, অনেকেই গিরগিটি (কোন কোন এলাকায় কাঁকলাস, ডাহিন, রক্তচোষা বলে) মারতে বলেন। এটা ঠিক নয়। কারণ হাদীছে وزغ শব্দ এসেছে। যার অর্থ টিকটিকি। আর গিরগিটির আরবী হ’ল حرباء (আল-মুনজিদ, পৃ: ১২৫; আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব দ্র:)।
উম্মে শারীক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) টিকটিকি মারতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন, টিকটিকি ইবরাহীম (আঃ)-এর বিরুদ্ধে আগুনে ফুঁক দিয়েছিল (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪১১৯ ‘কোন্ কোন্ বস্ত্ত খাওয়া হালাল ও হারাম’ অনুচ্ছেদ)। সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) টিকটিকি মারার আদেশ দিয়েছেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪১২০)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘প্রথমবারে টিকটিকি মারতে পারলে ১০০ নেকী, দ্বিতীয়বারে তার চেয়ে কম, তৃতীয় বারে তার চেয়ে কম নেকী পাবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪১২১)। প্রকাশ থাকে যে, ‘আল-ওয়াযাগ’ (ﺍَﻟْﻮَﺯْﻍُ ) শব্দের উর্দূ অনুবাদ ‘ছিপকলী’ (মিছবাহুল লুগাত (আরবী-উর্দূ অভিধান), পৃঃ ৯৪৩; আল- মুনজিদ (আরবী-উর্দূ) পৃঃ ১০৮২)। যার বাংলা অর্থ টিকটিকি (ফ‘রহঙ্গ-ই-রববানী; পৃঃ ২৬০; ফরহঙ্গ-এ-জাদীদ (উর্দূ-বাংলা অভিধান), পৃঃ ৩৫৬)। আর ‘আল-হিরবাউ’ ( ﺍَﻟْﺤِﺮْﺑَﺎﺀُ ) -এর উর্দূ অর্থ গিরগিট্ (মিছবাহুল লুগাত পৃঃ ১৪৪; আল-মুনজিদ পৃঃ ১৯৮)। যার বাংলা গিরগিটি বা কাকলাস ব্যবহৃত হয় (ফরহঙ্গ-এ-জাদীদ, পৃঃ ৬৯১; ফ‘রহঙ্গ-ই-রববানী, পৃঃ ৫০৭-৮)। গিরগিটি মুহূর্তের মধ্যে গায়ের রং পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু টিকটিকি তা পারে না। ফলে গিরগিটির গায়ের পরিবর্তিত রং দেখেই আমাদের দেশের লোকজন মারতে বেশী উদ্যত হয়। (বিস্তারিত দেখুন : আল-ক্বামূস; আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব পৃঃ ১০২৯; আরবী-বাংলা অভিধান (ঢাকা : বাংলা একাডেমী), ৩/২৫৫৪ পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, ভারতের কতিপয় লেখক স্ব স্ব লেখনীতে এবং এ দেশের বাংলা অনুবাদ মিশকাতে ও ‘আল- কাওছার’ আরবী-বাংলা অভিধানে ‘আল-ওয়াযাগ’ ( ﺍَﻟْﻮَﺯْﻍُ ) অর্থ গিরগিটি লেখা হয়েছে, যা ভুল।