এটা করা কি ঠিকএ ব্যপারে বিস্তারিত জানতে চাই?
1 Answers
মূলতঃ শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, কুরআন ও হাদীছে মাস গণনার জন্য চাঁদ দেখার যে নির্দেশনা এসেছে তা স্থানিক তথা একটি নির্দিষ্ট জনসমষ্টির জন্য প্রযোজ্য, যাদের উপর চন্দ্র উদিত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস (রামাযান) পাবে, সে যেন ছিয়াম রাখে’ (বাকারাহ ২/১৮৫) । রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে ছিয়াম রাখ এবং চাঁদ দেখে ছিয়াম ভঙ্গ কর’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৭০) । যদি হাদীছে বর্ণিত এই নির্দেশটি স্থানিক না হয়ে সমগ্র বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য হ’ত, তাহ’লে চাঁদের সর্বপশ্চিমের উদয়স্থল তথা বর্তমান আমেরিকা মহাদেশকে অথবা পৃথিবীর মধ্যস্থল হিসাবে সঊদীআরবকে শরী‘আতে মানদন্ড হিসাবে গ্রহণ করা হ’ত এবং সেখানে চাঁদ দেখা মাত্রই সমগ্র বিশ্বে একই সাথে ছিয়াম ও ঈদ পালনের জন্য নির্দেশ দেয়া হত। কিন্তু কুরআন ও হাদীছের কোথাও এর প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং তাৎপর্যপূর্ণভাবে কুরআনের ভাষাটি এসেছে এভাবে যে, ‘যারা এ মাস পাবে’ অর্থাৎ সকলেই নয়, বরং তারাই যারা চাঁদ দেখতে পাবে (হাদীছের ব্যাখ্যা থেকে যা আরো সুস্পষ্ট হয়)। অতএব রামাযানে ছিয়াম রাখা ও রামাযান শেষে ঈদ পালন করার সাথে ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির চাঁদ দেখা শর্ত। এটাই আরবী মাস বা চন্দ্রমাস নির্ণয়ের চিরাচরিত ও স্বতঃসিদ্ধ পদ্ধতি। আধুনিক যুগে স্যাটেলাইট আবিষ্কারের পূর্বে এ নিয়ে কখনও সেভাবে প্রশ্ন উঠেনি। মূলতঃ চন্দ্র ও সূর্য একই নিয়মে পৃথিবীর চতুর্পার্শ্বে ঘূর্ণায়মান। চন্দ্র হ’ল মাসের সময় নির্ধারক, আর সূর্য হল দিনের সময় নির্ধারক। কোন স্থানে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে যেমন দিনের শুরু হয়, তেমনি অমাবস্যার পর চন্দ্র উদয়ের সাথে সাথে মাসের শুরু হয়। এটাই স্বতঃসিদ্ধ প্রাকৃতিক রীতি। এভাবেই চন্দ্র ও সূর্য প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এক্ষণে ছিয়াম ও ঈদ পালনে এই প্রাকৃতিক চক্রকে (Natural cycle) অস্বীকার করা যেমন অবৈজ্ঞানিক, তেমনই অজ্ঞতার পরিচায়ক।