হযরত মুহাম্মদ (সা:) কিসের তৈরী?

হযরত মুহাম্মদ (সা:) কীসের তৈরী?
20018 views

3 Answers

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাটির মানুষ ছিলেন; নূরের তৈরী নন। আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী!) ‘তুমি বলে দাও, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মত একজন মানুষ মাত্র। (পার্থক্য হ’ল) আমার নিকট ‘অহি’ করা হয় ...’ (কাহ্ফ ১৮/১১০) । এটা কেবল আমাদের নবীই নন, বরং বিগত সকল নবীই স্ব স্ব কওমের উদ্দেশ্যে একথা বলেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের মত মানুষ মাত্র’ (ইবরাহীম ১৪/১১) । রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আমি তো একজন মানুষ। আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। সুতরাং আমি (ছালাতে কিছু) ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ো’ (বুখারী হা/৪০১; মুসলিম হা/৫৭২; মিশকাত হা/১০১৬ ‘সিজদায়ে সহো’ অনুচ্ছেদ) । তিনি বলেন, আমি একজন মানুষ। আমি তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কোন কিছু আদেশ করলে তা গ্রহণ করবে। আর নিজস্ব রায় থেকে কিছু বললে আমি একজন মানুষ মাত্র। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে আমার ভুলও হ’তে পারে (মুসলিম হা/২৩৬৫, মিশকাত হা/১৪৭) । বস্ত্ততঃ ফেরেশতারা হ’ল নূরের তৈরী, জিনেরা আগুনের তৈরী এবং মানুষ হ’ল মাটির তৈরী মুসলিম হা/২৯৯৬; মিশকাত হা/৫৭০১; মুমিনূন ২৩/১২, আন‘আম ৬/২) । উল্লেখ্য যে, রাসূল (ছাঃ) নূরের তৈরী ছিলেন মর্মে সমাজে কিছু হাদীছ প্রচলিত রয়েছে। যেমন ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেন’। এ মর্মে বর্ণিত সব বর্ণনাই জাল (‘আজলূনী, কাশফুল খাফা হা/৮২৭; ছহীহাহ হা/৪৫৮- এর আলোচনা দ্রষ্টব্য) । সূরা মায়েদাহ ১৫ আয়াতে বলা হয়েছে, ﻗَﺪْ ﺟَﺎﺀَﻛُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻧُﻮْﺭٌ ﻭَﻛِﺘَﺎﺏٌ ﻣُﺒِﻴْﻦٌ ‘তোমাদের কাছে এসেছে একটি জ্যোতি এবং একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ’। উক্ত আয়াতে ‘নূর’ বা জ্যোতি দ্বারা কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন শিরকের অন্ধকার হ’তে মানুষকে তাওহীদের আলোর পথে বের করে আনে। এখানে ‘ওয়া কিতাবুম মুবীন’ ‏(ﻭَﻛﺘﺎﺏٌ ﻣﺒﻴْﻦٌ‏) তার পূর্ববর্তী ‘নূর’ ‏( ﻧُﻮْﺭٌ‏) -এর উপর ﻋﻄﻒ ﺑﻴﺎﻥ হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন, ‘তোমাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে একটি জ্যোতি ও সমুজ্জ্বল গ্রন্থ’। যেমন ইতিপূর্বে সূরা নিসা ১৭৪-৭৫ আয়াতে ﺑُﺮْﻫَﺎﻥٌও ﻧُﻮْﺭًﺍ ﻣُﺒِﻴْﻨًﺎ বলে কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অমনিভাবে সূরা আ‘রাফ ১৫৭ আয়াতের কুরআনকে ‘নূর’ বলা হয়েছে। উক্ত আয়াতের তাফসীরে ‘নূর’-এর ব্যাখ্যায় যাজ্জাজ বলেন, এখানে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে (কুরতূবী) । যদি সেটাই ধরে নেওয়া হয়, তাহ’লেও এর অর্থ এই নয় যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) নূরের তৈরী ছিলেন। কারণ কুরআনেই বলা হয়েছে যে, তিনি তোমাদের মত মানুষ ছিলেন’ (কাহফ ১৮/১১০) । আর মানুষ বলেই তো তিনি পিতা-মাতার সন্তান ছিলেন এবং সন্তানের পিতা ছিলেন। তিনি খানা-পিনা ও বাজার- ঘাট করতেন। অতএব রাসূল (ছাঃ) যে মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন, এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

20018 views Answered

নবি (সাঃ) নুরের তৈরি নন আবার মাটির তৈরি ও নন। নবি কারিম সাঃ নুরের তৈরি এ সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট হাদিস বা কুরআনে কোন উল্লেখ নেই। সতরাং নবি কারিম (সাঃ) নুরের তৈরি নন/ মাটির তৈরি কিনা? মানব জাতির সুচনা হযরত আদম (আঃ) ব্যতিত অন্য কেউ মাটির তৈরি এ কথা স্বয়ং আল্লাহ তালাও অস্বীকার করেছেন। আল্লাহ তালা বলেন خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন রক্ত পিণ্ড থেকে । এই আয়াতের মাধ্যমে প্রমানিত হয় মানুষ মাটির তৈরি নয়, মানুষ মাটির তৈরি বলা মানেই এই আয়াতের বিরধিতা করা । অপর আয়াতে আল্লাহ তালা বলেন قُل إِنَّما أَنا۠ بَشَرٌ مِثلُكُم يوحىٰ إِلَىَّ أَنَّما إِلٰهُكُم إِلٰهٌ وٰحِد (হে নবি) আপনি বলুন নিশ্চয় আমি তমাদের মতই মানুষ। তার মানে নবি কারিম (সাঃ) মাটির তৈরি নন। তাহলে নবি কারিম (সাঃ) কিসের তৈরি? নবি কারিম (সাঃ) আমাদের মত রক্ত মাংসের তৈরি । জিনে জুধ্যে আহত হয়েছেন, ক্ষুধার তাড়নায় পেটে পাথর বেধেছেন, হ্যা উনি সিরাতুন্নাবিয়িন, খাতামুল আম্বিয়া বিশ্ব নবি হযরত মুহাম্মদ মস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি অয়াসাল্লাম।

20018 views Answered

সকল নবী রাসূলগণ মাটির সৃষ্ট মানুষ ছিলেন। তারা জিন বা ফেরেস্থা ছিলেন না। নবীজি (সা:)ও তাদের ব্যতিক্রম নয়। যারা নবীজি (সা) নূরে সৃষ্ট বলে তারা বাড়াবাডিতে আছেন।

যে আয়াতকে তারা দলিল হিসেবে সেখানে কোথাও নবীজি (সা)কে নূরে সৃষ্ট বলা হয়নি। সৃষ্টি নিয়ে কোন আলোচনাই হয়নি। নূর শব্দটি এই আয়াতে ব্যবহার হয়েছে কেবল রূপক অর্থে।

নূর দিয়ে কোরান বোঝালে তার মানে হবে: কোরান জাহেলিয়াতের সকল অন্ধকার মিটিয়ে দেন, তাই কোরান নূর।

নূর দিয়ে মুহাম্মদ (সা:)কে বোঝালে তার মানে হবে: আল্লাহ মুহাম্মদের দ্বারা আরবে জাহেলিয়াতের দূর করেছেন, তাই তিনি নূর। যদিও এই আয়াতে নূর বলতে কোরানকে বোঝানো হয়েছে।

আয়াতটি নিয়ে বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন।

https://abubakarnetwork.blogspot.com/2017/01/515.html?m=1

20018 views Answered

Related Questions

Next steps