হযরত মুহাম্মদ সাঃ-এর সময়ে আরবে আরবী-বর্ষ গণনা করার পদ্ধতি কি ছিলো?
1 Answers
হযরত মুহাম্মদ সাঃ-এর সময়ে আরবে কোনই প্রচলিত সন-তারিখ ছিল না।
এটা ছিলো অনেকটা হাইব্রীড পদ্ধতির বর্ষ গণনার মতো, অর্থাৎ চান্দ্র-সৌর বর্ষ বা luni-solar period.
বর্তমানে যে হিযরী সন চলছে, সেটাও হযরত মুহাম্মদ সাঃ-এর জন্মের ৫২ বৎসর পর (আর্থাৎ ৬২২ খ্রীষ্টাব্দে) আরম্ভ হয়।
এখন যে পদ্ধতিতে হিযরী সন গণনা করা হচ্ছে, মহানবী সাঃ-এর জন্ম-সময় ঠিক সেই পদ্ধতিতেও আরবী-বর্ষ গণনা করা হত না।
তখন প্রত্যেক বৎছরের মাস ও দিন সংখ্যাও সমান থাকিত না। প্রথম ও দ্বিতীয় বৎসর একরুপে গণনা করা হত, তৃতীয় বৎসরে অন্যরুপে গণনা করা হত।
প্রথম দুই বৎসরের প্রত্যেকটিতে ৩৫৪ দিন থাকত, তৃতীয় বৎসরে ৩৮৪ দিন থাকত। এইরুপে প্রতি তিন বৎসরের গড় ধরিলে তবে এক বৎসরে ৩৬৪ দিন পাওয়া যেত; যথা (৩৫৪+৩৫৪+৩৮৪)/৩=৩৬৪ দিন।
অন্য কথায় প্রথম দুই বৎসরের প্রত্যেকটিতে ১০ দিন করে কম থাকত এবং প্রতি তৃতীয় বৎসরে ৩০ দিনের একটি অতিরিক্ত মাস (Intercalary Month) জুড়ে দেওয়া হত।
এইরুপে গোঁজামিল দিয়ে প্রতি তিন বৎসরান্তে সৌর ও চান্দ্রবর্ষের মধ্য একটা সামন্ঞ্জস্য বিধান করা হত। বলা বাহুল্য এই সংযোগ-বিয়োগের ফলে কোন্ বৎসরের কোন্ মাস কখন আরাম্ভ হত, তাহা নিশ্চিতরুপে জানা যেত না।
এই অনিশ্চয়তার দরুন আরবের 'পবিত্র' মাসগুলির অর্থাৎ মহররম, রজব, জিলকদ্ এবং জিলহাজ্ব মাসগুলির স্থিরতা থাকত না।
ফলে দস্যু ও লুন্ঠকারীরা ইহার সুযোগ লইয়া পবিত্র মাসগুলিতেও লুটতরাজ করিত।
স্যার উইলিয়াম মূয়র বলিয়াছেনঃ
"There is reason to believe at the (Arabic) year was originally lunar so continued till the beginning of the fifth century, When imitation of the Jews it was turned, by the interjection of a month at the close of every third year, into a luni-solar period."
Rf.- (The life of Mohammad, page c-2)
কোন্ সময়ে যে এই অতিরিক্ত মাসটি জুড়ে দেওয়া হত, তার কোন রেকর্ড বা প্রমাণ বিদ্যমান নেই।
আরবী বর্ষ গণনায় এই বিভ্রাট লক্ষ করে সয়ং আল্লাহ্ এর সংশোধনের জন্য এক আয়াত নাযিল করেন।
"নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।
(At-Tawba {Madani}- 9: 36)"
কিন্তু এই আয়াতও হিযরী ১০ম সনে অবতীর্ণ হয়, অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ সাঃ-এর জন্মের প্রায় ৬২ বৎসর পরে।
অতঃপর ১১শ হিযরী হইতে অতিরিক্ত মাস (Intercalary Month) যোগ করার প্রথা রহিত হয়ে যায়। কিন্তু এই নতুন গণনা পদ্ধতিও সরকারীভাবে অনুমোদিত হয় ১৭শ বা ১৮শ হিযরীতে, অর্থাৎ হযরত ওমর রাঃ-এর খেলাফতের সময়ে।
কাজেই এটা নিশ্চিতরুপে প্রমাণিত হচ্ছে যে, হযরত মুহাম্মদ সাঃ-এর জীবদ্দশায় আরবী বষগণনার কোনই বিধিবদ্ধ নিয়ম-কানুন ছিল না; যা ছিলো তাও হযরত ওমর রাঃ -এর সময় হতে রদ-বদল হয়ে গেছে।
সূত্রঃ
গ্রন্থঃ বিশ্বনবী (দ্বিতীয় খন্ড, পরিচ্ছেদ নং-১; নাম - "হযরত মুহম্মদের সাঃ জন্ম-তারিখ কবে", পৃষ্ঠা- ৩৬০-৩৬১)
লেখকঃ কবি মৌলভী গোলাম মোস্তফা
সংস্করণঃ ত্রয়োবিংশতিতম ;মার্চ-১৯৯০
প্রকাশকঃ মহিউদ্দিন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউস)
মূলত চাঁদ কিন্তু ইসলামের কোন প্রতীক নয়, অথচ মুসলিমরা বিভিন্ন অবকাঠামো, মসজিদ, পতাকা ইত্যাদিতে সৌন্দর্যের জন্য বা কারুকাজ হিসেবে বাকা চাঁদ অথবা বাকা চাঁদ ও তারকা এত বেশি ব্যাবহার করে যে, অমুসলিমরা হয়তো ভূলবশত ধারণাই করে বসে যে, বাকা চাঁদ অথবা বাকা চাঁদ ও তারকা হয়তো ইসলামের প্রতীক।
কিন্তু এটা একদমই ভূল ধারণা। ইসলামের কোন প্রতীক নেই এবং এটা কাবা ঘরেও ব্যাবহার করা হয় না। কোন কিছু ব্যাপক ভাবে সৌন্দর্যের জন্য বা কারুকাজ হিসেবে ব্যাবহার করলেই সেটা প্রতীক হয়ে যায় না।
কিন্তু কেন ইসলামে বাকা চাঁদের এত ব্যাপক ব্যাবহার?
এর কারণ হতে পারে ইসলামের বিভিন্ন উৎসব যেমনঃ ঈদ, ইত্যাদি চান্দ্র বর্ষের উপর অর্থাৎ চাঁদের উপর নির্ভরশীল। হয়তো সেই জন্যই মুসলিমদের অবচেতন মনেই বাকা চাঁদের প্রতি একটা ভালোবাসা বা টান চলে এসেছে।
এছাড়া ইসলামে কোন প্রানীর ছবি ও মূর্তি ব্যাবহার করাও নিষিদ্ধ এবং সেটাও সৌন্দর্য প্রিয় মুসলিমদেরকে সৌন্দর্যের জন্য বা কারুকাজ হিসেবে বাকা চাঁদ অথবা বাকা চাঁদ ও তারকা ব্যাবহার করতে উদ্ভুদ্ধ করেছে ।
"তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর।
(Ha mim Sajdah/Fussilat {Makki}- 41: 37)"
আসলে আল্লাহ চাঁদ ও সূর্যকে সময় গণনার জন্যই সৃষ্টি করেছেন এবং নিচে এই ব্যাপারে কিছু কোরআনের আয়াত দেওয়া হলো।
"তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানীর নির্ধারণ।
(Al-An'aam {Makki}- 6: 96)"
"তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম। আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী বা কল্যাণ নেই। অবশ্য নেকী হল আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা নিজেদের বাসনায় কৃতকার্য হতে পার।
(Al-Baqara {Madani}- 2: 189) "
"তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে।
(Yunus {Makki}- 10: 5)"
"আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতঃপর নিস্প্রভ করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগী করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা স্থির করতে পার বছরসমূহের গণনা ও হিসাব এবং আমি সব বিষয়কে বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছি।
(Bani Israil/Al-Israa {Makki}- 17: 12)"
হযরত মুহাম্মদ সাঃ-এর সময়ে আরবে বর্ষ গণনার পদ্ধতি হাইব্রীড পদ্ধতি তথা চান্দ্র-সৌর বর্ষ (বা luni-solar period) হলেও মাস (Lunar Month) গণনা প্রধানত চাঁদের উপরই নির্ভরশীল ছিলো, এই ব্যাপারে কিছু হাদীস নিচে দেয়া হলো।
১/// সূত্রঃ সহিহ বুখারী :: খন্ড- ৩ :: অধ্যায় ৩১ :: অধ্যায়ের নাম- সাওম বা রোজা:: হাদিস- ১৩১
"‘আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (র)...’আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা) থেকে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাত বিশিষ্ট হয়। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সাওম শুরু করবে না। যদি আকাশ মেঘাবৃত থাকে তাহলে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ন করবে।"
(প্রায় এই ধরণের বেশ কিছু হাদীস সহিহ মুসলিম, মুয়াত্তা মালিক, সুনান আবু দাউদ-এ রয়েছে।
যেমন-
সূত্রঃ সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৬ :: অধ্যায়ের নাম- কিতাবুস সিয়াম :: হাদিস ২৩৭০
সূত্রঃ মুয়াত্তা মালিক :: সাওম বা রোযা :: অধ্যায় ১৮ হাদিস ৬৩৪
সূত্রঃ সুনান আবু দাউদ :: সাওম বা রোজা :: অধ্যায় ১৪ :: হাদিস ২৩২৫)
২/// সূত্রঃ সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ৩১ :: অধ্যায়ের নাম- সাওম বা রোজা :: হাদিস ১৮৬
সারাংশঃ "রাসূলুল্লাহ (সা) বিরতিহীন সাওম পালন করতে নিষেধ করলেও লোকেরা সেটা শুনেনি, এরপরে একদিন মাসের নতুন চাঁদ উঠলে সকলেই সাওম ভেঙ্গে ফেলেন।"
৩/// সূত্রঃ সহিহ বুখারী :: খন্ড ৬ :: অধ্যায় ৬০ :: অধ্যায়ের নাম- তাফসির :: হাদিস ৩৭৪
সারাংশঃ "নবী (সাঃ) চৌদ্দ তারিখের রজনীর চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা যেমন এ চাঁদটি দেখতে পাচ্ছ, অনুরূপভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে এবং তাঁকে দেখার ব্যাপারে (তোমরা একে অন্যের কারণে) বাধাপ্রাপ্ত হবে না।"
৪/// সূত্রঃ সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৬ :: অধ্যায়ের নাম- কিতাবুস সিয়াম :: হাদিস ২৩৯১
বাক্যাংশঃ "মু-আবিয়া (রাঃ)-এর চাঁদ দেখা এবং তাঁর সওম পালন করা আপনার জন্য যথেষ্ট নয় কি? তিনি বললেন, না, যথেষ্ট নয় । কেননা রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে এরুপ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন । "
(প্রায় কাছাকাছি ধরণের এমন হাদিস "সুনান আবু দাউদ"-এ রয়েছে ।সূত্রঃ সুনান আবু দাউদ :: সাওম বা রোজা :: অধ্যায় ১৪ :: হাদিস ২৩৩২)
৫/// সূত্রঃ সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৬ :: অধ্যায়ের নাম- কিতাবুস সিয়াম :: হাদিস ২৬৩৫
"মুহাম্মাদ ইবন আববাদ ও ইবন আবু উমর (র)......আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সামনে কদরের রাত সস্পর্কে আলাপ-আলোচনা করছিলাম । তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে সেই (রাত) স্বরন রাখবে, যখন চাদ উদিত হরে থালার একটি টূকরার ন্যায় ।"
৬/// সূত্রঃ মুয়াত্তা মালিক :: হাজ্জ অধ্যায় ২০ :: হাদিস ৭৫৩
বাক্যাংশঃ "আয়েশা (রাঃ) প্রথমে হজ্জের পর যিলহজ্জ মাসেই মক্কা হইতে ইহরাম বাঁধিয়া ওমরা করিতেন, পরে উহা ত্যাগ করিয়া মুহাররম মাসের চাঁদ দেখার পূর্বে জুহফা আসিয়া অবস্থান করিতেন এবং মুহাররম মাসের চাঁদ উঠিলে ওমরার ইহরাম বাঁধিতেন।"
৭/// সূত্রঃ সুনান আবু দাউদ :: সাওম বা রোজা :: অধ্যায় ১৪ :: হাদিস ২৩২৯
সারাংশঃ " মু‘আবিআ লোকদের সম্মুখে খুতবা দেয়ার সময়ে বললেন, হে জনগণ! আমরা অমুক দিন চাঁদ দেখেছি। কাজেই আমরা রোযা রাখতে যাচ্ছি। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা ( শা‘বান) মাসে রোযা রাখবে এবং বিশেষভাবে এর শেষের দিকে। "
৮/// সূত্রঃ সুনান আবু দাউদ :: সাওম বা রোজা :: অধ্যায় ১৪ :: হাদিস ২৩১৯
সুলায়মান ইবন হরব--ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইরশাদ করেছেনঃ আমরা উম্মী জাতির অর্ন্তভূক্ত। আমরা লিখতে জানি না এবং মাসের হিসাবও করতে পারি না। এপর তিনি এরূপ , এরূপ বলে( তিনবার) নিজের ( দশ) অংগুলি প্রসারিত করেন। রাবী সুলায়মান তৃতীয়বারে তার একটি আঙ্গুল সূংকুচিত করেন, অর্থাৎ রোযার মাস উনত্রিশ বা তিরিশ দিনে হয় ( এর প্রতি ইশারা করে।)
৭/// সূত্রঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন :: বই ১ :: হাদিস ৪৯২ :: অধ্যায়ের নাম :: ক্ষুধার্ত থাকা, অনাসক্তির জীবন-যাপন, খাদ্য, পানীয় ও পোশাক ইত্যাদিতে অল্পে তুষ্টি এবং আসক্তি পরিত্যাগ সংক্রান্ত ফযীলত অধ্যায়
সারাংশঃ "এভাবে দু’মাসে তিন তিনটা নতুন চাঁদ দেখতাম। অথচ এ দীর্ঘ সময়ে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কোন ঘরের চুলায় আগুন জ্বলত না।"
৮/// সূত্রঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন :: বই ৯ :: হাদিস ১২২১ :: অধ্যায়ের নাম- রমযানের রোযা ফরয এবং রোযার গুরুত্ব ও তার আনুসঙ্গিক বিষয় সমূহ অধ্যায়
সারাংশঃ "রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর। আর যদি মেঘের আড়ালের কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে শাবান মাস তিরিশ দিন পূর্ণ কর।"
৯/// সূত্রঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন :: বই ৯ :: হাদিস ১২২৫ :: অধ্যায়ের নাম- অর্ধ শাবানের পর হতে রমযানের পূর্ব পর্যন্ত রোযা পালন করার উপর নিষেধাজ্ঞা, তবে যার পূর্বের সঙ্গে মিলাবার অভ্যাস হয়ে গেছে অধ্যায় ::
সারাংশঃ "রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ রমযানের আগেই রোযা রেখো না। চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোযা ছাড়।"
৯/// সূত্রঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন :: বই ৯ :: হাদিস ১২২৭ :: অধ্যায়ের নাম- অর্ধ শাবানের পর হতে রমযানের পূর্ব পর্যন্ত রোযা পালন করার উপর নিষেধাজ্ঞা, তবে যার পূর্বের সঙ্গে মিলাবার অভ্যাস হয়ে গেছে অধ্যায় ::
"আবূ ইয়াকযান আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সন্দেহের দিন (অর্থাৎ মেঘের কারণে চাঁদ না দেখে যাওয়ার দিন রোযা রাখা সন্দেহযুক্ত হয় সেদিন) রোযা রাখে, সে অবশ্যই আবুল কাসেম মুহাম্মাদ (সা)-এর নাফরমানী করে।"
১০/// সূত্রঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন :: বই ৯ :: হাদিস ১২২৮ :: অধ্যায়ের নাম- চাঁদ দেখে যে দোয়া পাঠ করতে হবে অধ্যায়
সারাংশঃ "নবী করীম (সা) নতুন চাঁদ দেখলে বলতেন, হে আল্লাহ! এ চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করুন নিরাপত্তা, শান্তি, ঈমান ও ইসলামের সাথে। (হে চাঁদ) তোমার ও আমার প্রভু একমাত্র আল্লাহ। (হে আল্লাহ!) এ চাঁদ যেন সঠিক পথের ও কল্যাণের চাঁদ হয়।"
(প্রায় এর কাছাকাছি একটি হাদিস "সুনান আবু দাউদ"-এ রয়েছে। সূত্রঃ সুনান আবু দাউদ :: আদব ও শিষ্টাচার অধ্যায় ৪৩ :: হাদিস ৫০৯২)
১১/// সূত্রঃ বুলুগূল মারাম অধ্যায় ৫ :: অধ্যায়ের নাম- সাওম বা রোজার নিয়মাবলী :: হাদিস ৬৮৪
"আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখার আদেশ দিলেন - চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ। "