2 Answers
আমরা অনেকেই হয়ত ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক সহবাসের স্বাভাবিক নিয়ম বা পন্থা সম্পর্কে জানি না। এখানে এ বিষয়ে একটু ধারণা দেয়া হলো যদিও হাদিস থেকে বিভিন্ন আসনে সহবাস করার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তবে সহবাসের স্বাভাবিক পন্থা হলো এই যে, স্বামী উপরে থাকবে আর স্ত্রী নিচে থাকবে। প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেও এই স্বাভাবিক পন্থা পরিলক্ষতি হয়। সর্বপরি এ দিকেই অত্যন্ত সুক্ষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে আল কুরআনে। আয়াতের অর্থ হলোঃ “যখন স্বামী -স্ত্রীকে ঢেকে ফেললো তখন স্ত্রীর ক্ষীণ গর্ভ সঞ্চার হয়ে গেলো।” আর স্ত্রী যখন নিচে থাকবে এবং স্বামী তার উপর উপুড় হয়ে থাকবে তখনই স্বামীর শরীর দ্বারা স্ত্রীর শরীর ঢাকা পড়বে। তাছাড়া এ পন্থাই সর্বাধিক আরামদায়ক। এতে স্ত্রীরও কষ্ট সহ্য করতে হয়না এবং গর্ভধারণের জন্যেও তা উপকারী ও সহায়ক। বিখ্যাত চিকিতসা বিজ্ঞানী বু-আলী ইবনে সীনা তার অমর গ্রন্থ “কানুন” নামক বইয়ে এই পন্থাকেই সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে উলেখ করেছেন এবং ‘স্বামী নিচে আর স্ত্রী উপরে’ থাকার পন্থাকে নিকৃষ্ট পন্থা বলেছেন। কেননা এতে পুংলিংগে বীর্য আটকে থেকে দুর্গন্ধ যুক্ত হয়ে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আনন্দঘন মুহুর্তটা পরবর্তিতে বেদনার কারণ হয়ে না দাড়ায়। তাই ইসলামী জীবন বিধান মেনে চলুন আনন্দকে অনন্দ হিসেবে উপভোগ করুন। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে বিধান অনুযায়ী মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।
সহবাসের সময় যেসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত, সংক্ষেপে তা নিম্নে পেশ করা হল-
১. স্ত্রীর সাথে সহবাস করার সময় নিয়ত ঠিক রাখা। অর্থাৎ মুসলিম উম্মার সংখ্যা বৃদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সহবাস।
২. সহবাসের সময় স্ত্রীকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন।
৩.স্ত্রীর সাথে যেকোন আসনেই সঙ্গম করা যায়। অর্থাৎ দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায়, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে (সঙ্গম করতে পারো, তবে তা হতে হবে) স্ত্রীর যোনিপথে।
৪.স্ত্রীর সাথে সহবাস করা যেমন সোয়াবের কাজ। আল্লাহ এতে অনেক খুশি হন। কিন্তু মলদ্বার দিয়ে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম। নবিজি হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে, আল্লাহ্ তার দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকান না।”
৫.স্ত্রীর যখন পিরিয়ড চলে তখন সহবাস করা ইসলামে হারাম। নবিজি হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলো অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করলো অথবা গণকের নিকট গেলো এবং সে যা বললো তা বিশ্বাস করলো, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ ﷺ -এর উপর নাযিলকৃত জিনিসের (আল্লাহ্র কিতাবের) বিরুদ্ধাচরণ করলো।
৬.স্ত্রীর সাথে দিনে একাধিকবার সঙ্গম করা যায় কিন্তু প্রতিবার সঙ্গমের পূর্বে অজু করে নেওয়া মুস্তাহাব। হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর আবার সহবাস করতে চায় তখন সে যেন এর মাঝখানে ওযু করে নেয়। কেননা, এটি দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক। তবে গোসল করে নেয়া আরো উত্তম।
চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক সহবাসের সুন্নত নিয়মগুলোঃ
১. স্ত্রী সহবাসের আগে ভালো করে দাঁত ব্রাশ বা মিসওয়াক করে নেবে।
২. স্বামী ও ভালো করে দাঁত ব্রাশ বা মিসওয়াক করে নিবে বর্তমানে অনেক যুবক সিগারেট বা অনেক বদ নেশার সঙ্গে যুক্ত তাই এভাবে স্ত্রীর কাছে যাওয়া ঠিক নয়।
৩. স্বামী স্ত্রীর সহবাসের পূর্বে উভাই অজু করে নিবে।
৪. বিসমিল্লাহ সহ সহবাসের দোয়া পড়তে হবে কেননা এটা মুস্তাহাব।
৫. স্বামী স্ত্রী একে অন্যের সুগন্ধি জাতীয় জিনিস বা আতর মেখে নেবে।
৬. সহবাসের সময় কেবলামুখী হয়ে করবে না।
৭. সহবাসের সময় একেবারে উলঙ্গ হয়ে করবে না যদি তৃপ্তি না আসে তাহলে উপরে চাদর বা কাপড় বিছিয়ে নিবে