3 Answers
টনসিল সাধারণত গলার দুপাশে থাকে। এটা এক ধরনের লিম্ফয়েড টিস্যু। এই টিস্যু শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ায় বা প্রটেকশন দেয়। টনসিলের ইনফেকশন যখন হয় তখন এটাকে টনসিলাইটিস বলে থাকি। সাধারণ চিকিৎসায় প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়া যাবে না। বড়দের ক্ষেত্রে অফিসে বা দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারবে না। পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে যতদিন সুস্থ না হবে। মুখের হাইজিন (মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য) বা ওরাল হাইজিন যেটাকে বলি। ওটা মেইনটেন করতে হবে। এটা আমরা মাউথ ওয়াশ বলি। মাউথ ওয়াশ দিয়ে কুলি করতে হবে। নরমাল স্যালাইন (ওয়াটার গার্গেল) গরম পানি দিয়ে গড়গড়া কুলি করা। আজকাল বাজারে পাওয়া যায় ওরোক্লিন। ওরোক্লিন দিয়ে গড়গড়া কুলি করতে পারেন। তাহলে হাইজিনটা মেইনটেন হবে। ওষুধের চিকিৎসায় যেহেতু তীব্র ব্যথা থাকে এবং জ্বর থাকে তাই আমরা প্যারাসিটামল বা রিসেট জাতীয় ওষুধ দেই। বাচ্চাদের বেলায় সিরাপ, বয়স্কদের বেলায় ট্যাবলেট ৫০০ মি. গ্রা. ১টা করে তিনবার যতদিন জ্বর থাকে ততদিন ভরাপেটে খেতে হবে। এটা যেহেতু ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন। এই ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের জন্য এন্টিবায়োটিক খেতে হবে। এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন খুব ভালো কাজ করে। এমপিসিলিন আজকাল সেফাকুইন, বাজারে পাওয়া যায় এগুলো ভালো ওষুধ। যেমন সেফিক্সিম যেটা মিকচার হিসেবে বাজারে পাওয়া যায়। এমোক্সিসিলিন, সিফিউরোক্সাইম বাজারের কিলব্যাক ৫০০ মি. গ্রা. ২ বার করে ৭ থেকে ১০ দিন অথবা সিকিউরোক্সাইম মিকচার হিসেবে পাওয়া যায় এটা ২০০ মি. গ্রা. করে ২ বার বা ৪০০ মি. গ্রা. দিনে ১ বার করে খেতে হবে। এই ওষুধ ৮ থেকে ১০ দিন খেলে ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যায় এবং রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। এটাই হলো আসল চিকিৎসা। পরবর্তীতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তীব্র বা একিউট টনসিলাইটিস সাধারণত পানি থেকে হয়। পানি থেকে ব্যাকটেরিয়া এবং খুব ঠাণ্ডা থেকে হয়। ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি খেলে, আইসক্রিম খেলে, খুব বেশি ঠাণ্ডা লাগালে এটি হয়। এছাড়া ভাইরাসজনিত কারণেও হয়। টনসিলের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া মূলত দায়ী। তাই যে সকল ব্যাকটেরিয়ার কথা বলেছি, সেই ব্যাকটেরিয়া থেকে যদি দূরে থাকা যায় তাহলে টনসিলাইটিস হবে না। আর কিন্তু এগুলোতে যদি ইম্পোজড হয়ে যাই, তাহলে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।
তুলসী-চা, লেবু ও আদা দিয়ে চা ইত্যাদি পান করলে আরাম পাওয়া যায়। ঠাণ্ডাজাতীয় যে কোনো খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার খেতে হবে।
♥»—বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে হেলদি অ্যান্ড ন্যাচারাল ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে টনসিলাইটিসের ব্যথা প্রতিরোধের ঘরোয়া উপায়ের কথা। ♥»—রসুন♥»— রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। রসুন কাঁচা খেতে পারেন। এছাড়া দই ও মধুর মধ্যে মিশিয়ে রসুন খেতে পারেন। ♥»—লবণ পানিতে গার্গল লবণ পানি গলার মিউকাসকে ভাঙতে সাহায্য করে। এটি টনসিলের ব্যথা সারাতেও কাজ করে। লবণ পানি বানাতে আধা থেকে এক চা চামচ লবণ এক গ্লাস গরম পানিতে মেশান। দিনে কয়েবার এটি দিয়ে গার্গল করুন। ♥»—পুদিনা অথবা তুলসি তুলসির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান। এক কাপ পানিতে কয়েকটি তুলসি বা পুদিনার পাতা দিন। এবার পানি ফুটান। এই পানিতে সামান্য লেবুর রস মেশান। স্বাদের জন্য এর মধ্যে সামান্য মধু মেশাতে পারেন। এই পানীয় তিন বেলা পান করুন। ♥»—দারুচিনি, মধু ও দারুচিনি এক সাথে মিশিয়ে খেলে শরীরের অনেক উপকার হয়। ঠাণ্ডা বা সর্দি বা গলা ব্যথায় আক্রান্ত হলে এক টেবিল চামচ মধু, ১/৪ টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়োর মধ্যে মেশান। মিশ্রণটি পরপর তিনদিন খান।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy