4 Answers

তাবীজ ব্যবহার করা কোন ধরনের শিরক, এ সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে তাবীযের হাক্কীকত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করাকে বেশি সংগত মনে করছি। অতএব, আল্লাহর নিকট তাওফীক চেয়ে বলছি: আল্লাহর সাথে শিরক করার অর্থ হল: বান্দা কোন ব্যক্তিকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে, তার নিকট প্রার্থনা করা, কোন কিছু আশা করা, তাকে ভয় করা, তার উপর ভরসা করা, কিংবা তার নিকট এমন বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করা যায় সমাধান আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারে না, অথবা তার নিকট মীমাংসা চাওয়া, অথবা আল্লাহর অবাধ্যতা করে তার আনুগত্য করা, অথবা তার কাছ থেকে শরীয়তের বিধান গ্রহণ করা কিংবা তার জন্য (বা তার নামে) যবাই করা, অথবা তার নামে মানত করা, অথবা তাকে এতটুকু ভালোবাসা যতটুকু আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত। সুতরাং, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সকল কথা, কাজ ও বিশ্বাসকে ওয়াজিব বা মোস্তাহাব রূপে নির্ধারণ করেছেন, সেগুলির সব কিংবা কোন একটি গায়রূল্লাহ্‌ তথা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্য করাই হল শিরক। এ সম্পর্কে শায়খ ইবনে কাইয়ূম র. যা বলেছেন, তার সারমর্ম নিম্নরূপ: আল্লাহপাক তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, যাতে মানব জাতি তাঁর পরিচয় লাভ করতে পারে, তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি দিতে থাকে এবং সম্পূর্ণরূপে তাঁর বিধানই যেন বাস্তবায়িত হয়ে যায়। সকল আনুগত্য তাঁর জন্যই নির্ধারিত হয়ে যায় এবং সমস্ত প্রার্থনা যেন তাঁর উদ্দেশ্যই হয়। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, শিরক দুই প্রকার। প্রথমত: যা আল্লাহর জাত (সত্তা), নাম ও গুণাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট। দ্বিতীয়ত: যা তাঁর ইবাদত মুয়ামালাতের সাথে সম্পৃক্ত, যদিও শিরকে লিপ্ত বান্দা মনে মনে এই ধারণা পোষণ করে যে, আল্লাহর জাত, গুণাবলি ও কাজে কোন শরীক বা অংশীদার নেই। প্রথমোক্ত শিরক আবার দুই প্রকার যেমন: ১। র্শি‌কুত ত্বাতীল এটাই হচ্ছে সবচেয়ে জঘন্য শিরক। ফিরআউনের শিরক এই প্রকারের একটি দৃষ্টান্ত। উহা আবার তিন প্রকার। প্রথমত: সৃষ্টিকে তার স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন করা। দ্বিতীয়ত: আল্লাহর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলীকে অস্বীকার করে মহান স্রষ্টাকে তাঁর পরিপূর্ণতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা। তৃতীয়ত: আল্লাহর সাথে মুয়ামালাত বা কার্যাবলীর মাধ্যমে অস্বীকার করা, যেগুলি আল্লাহর একত্ববাদে বান্দার উপর স্বীকৃতি দেয়া ওয়াজিব। ২। আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ বা মা'বুদ সাব্যস্ত করা মূলত: শিরক হচ্ছে সৃষ্টি ও স্রষ্টা হওয়ার জন্য যেসব গুণাবলি দরকার, সেগুলির ক্ষেত্রে কোন লোক সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা বা সাদৃশ্যপূর্ণ করলে, সে মুশরিক হয়ে যাবে। ক্ষতি করা, উপকার করা, দান করা ও দান না করার একক অধিকারী হওয়া ইলাহীর বৈশিষ্ট্য, তথা আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। আর এ সব গুণাবলির একক অধিকারী হওয়ার কারণে প্রার্থনা করা ভয় করা, কোন কিছুর আশা করা এবং ভরসা করা কেবলমাত্র তাঁর সাথেই সম্পৃক্ত হতে পারে। সুতরাং, যদি কোন ব্যক্তি এসব গুণকে কোন মাখলুক বা সৃষ্টির সাথে সম্পৃক্ত করে, তা হলে সে যেন সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে শরীক করল। আর দুর্বল, নিঃস্ব কোন কিছুকে ক্ষমতাবান, স্বাবলম্বী, স্বয়ং সম্পূর্ণ সত্তার সাথে তুলনা করা খুবই নিকৃষ্ট মানের তুলনা। যে আল্লাহর সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব, বড়ত্ব জাহির করে এবং তার প্রশংসা করার জন্য, তাকে সম্মান জন্য তার কাছে অবনত হওয়া ও আশা করার জন্য মানুষকে আহ্বান করে, তাহলে ঐ ভয় করা, আশা করা, আশ্রয় প্রার্থনা করা, সাহায্য চাওয়া ইত্যাদির ক্ষেত্রে মানুষের অন্তরকে তার সাথে সম্পৃক্ত করার কারণে নিশ্চয়ই সে আল্লাহর একত্ববাদ ও প্রভুত্বের ক্ষেত্রে সংঘর্ষে লিপ্ত হল। শিরক হর আল্লাহর প্রতি অতি নিকৃষ্ট একটি ধারণা। সুতরাং, আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কোন প্রকার মাধ্যম দাঁড় করানো, তাঁর প্রভুত্ব, রবুবিয়ত ও একত্ববাদের প্রতি চরম আঘাত এবং তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করার শামিল। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য এরূপ ধারণা করাকে কিছুতেই অনুমোদন করেন না। আর স্বাভাবিক জ্ঞান ও নিষ্কলুষ প্রকৃতিও উহাকে পরিত্যাগ করে এবং সুস্থ প্রকৃতি ও উন্নত স্বভাবের নিকট এটা সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় বলে বিবেচিত। শায়খ মোবারক ইবনে মাইলী বলেছেন- আল্লাহ ওয়া জাল্লা জালালুহু সর্ব প্রকার শিরক এক সাথে উল্লেখ করে বলেন: قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ ﴿২২﴾ وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ (سباء ২২-২৩) অর্থাৎ বল: তোমরা আহ্বান কর তাদেরকে যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য মনে করতে। তারা আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবীর অনু পরিমাণও মালিক নয় এবং এত-দু-ভয়ে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের কেউ তাঁর সহায়কও নয়। যাকে অনুমতি দেয়া হয়, সে ব্যতীত আল্লাহর নিকট কারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না। (সুরা সাবা ২২ও ২৩ আয়াত) এ থেকে বুঝা গেল যে, উপরোক্ত আয়াতে শিরককে চার ভাগে শ্রেণি বিভাগ করত: প্রত্যেক শিরককে বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা প্রত্যেক প্রকারের জন্য এমন নাম নির্ধারণ করব, যাতে একটি অপটি হতে আলাদাভাবে চিহ্নিত হয়ে যায়। شرك الاحتياز (শিরকুল ইহতিয়াজ) অর্থাৎ মালিকানার শিরক। আসমান ও জমিনের মধ্যে অনু পরিমাণ বস্তুর উপরও অন্য কারো মালিকানাকে আল্লাহ বারী তাআলা অস্বীকার করেছেন। দ্বিতীয়ত: شرك الشياع (শিরকুশ শি'য়া) অর্থাৎ অংশীদারিত্বের শিরক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বীয় রাজত্ব ও মর্যাদার ক্ষেত্রে অপরের সব ধরনের অংশীদারিত্বকে অস্বীকার করেছেন। তৃতীয়ত: شرك الاعانة (শিরকুল ইয়ানা) অর্থাৎ সাহায্য সহযোগিতার শিরক। আল্লাহ তাআলা তাঁর কাজে অন্য কারো সাহায্যকারী হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। যেমন, কোন ব্যক্তি বোঝা উঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারে অন্যকে সাহায্য করে। চতুর্থত: شرك الشفاعة (শিরকুশ শাফাআত) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা এমন কারো অস্তিত্বকেও অস্বীকার করেছেন, যে তার মর্যাদার বলে আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে সুপারিশ করে কাউকে মুক্ত করতে পারে। অর্থাৎ, আল্লাহ কোন প্রকার শিরকই পছন্দ করেন না, তা যত দুর্বল ও সূক্ষ্ণই হোক না কেন। তবে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে বিনম্র ভাবে অনুমতি লাভ করে সুপারিশ করতো শিরক হবে না। উল্লেখিত আয়াতে সব ধরনের শিরকের কথাই বলা হয়েছে। কেননা, শিরক হবে হয় প্রভুত্বের ক্ষেত্রে, নতুবা কার্যকলাপের মাধ্যমে। আবার প্রথম প্রকারের শিরক হয় আল্লাহর অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে নিজ অধিকারভুক্ত করে নিবে, অথবা তার অংশ যৌথভাবে বহাল থাকবে। এমনিভাবে দ্বিতীয় প্রকারের শিরক প্রভুর জন্য সাহায্যকারী হবে, অথবা প্রভুর নিকট অন্য কারো জন্য সাহায্যকারী হবে। এই চার প্রকার শিরকের কথাই উক্ত আয়াতে ধারাবাহিক ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। উক্ত আয়াতের অনুসরণে শিরকের প্রকার সমূহের এরূপ আলোচনা আল্লামা ইবনুল কাইউম র. ব্যতীত, আমার জানা মতে অন্য কেই করেননি। ইবনুল কাইউম রা. এই চারটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা ঐ সকল মাধ্যমকে, মুশরিকরা যেগুলি অবলম্বন করেছিল, সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করে দিয়েছেন। বস্তুত: যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অপর কাউকে অভিভাবক অথবা সুপারিশকারী হিসাবে গ্রহণ করেছে, তার দৃষ্টান্ত হল মাকড়সার ঘর বানানোর ন্যায়, আর মাকড়সার ঘর হচ্ছে সব চেয়ে দুর্বল ঘর। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ ﴿২২﴾ وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ (سباء ২২-২৩) অর্থাৎ বল: তোমরা আহ্বান কর তাদেরকে যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য মনে করতে। তারা আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবীর অনু পরিমাণও মালিক নয় এবং এত দু ভয়ে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের কেউ তাঁর সহায়কও নয়। যাকে অনুমতি দেয়া হয়, সে ব্যতীত আল্লাহর নিকট কারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না। (সুরা সাবা ২২ও ২৩ আয়াত) মুশরিকরা যখন কারো নিকট থেকে কোন প্রকার উপকার পাওয়ার আশা করে কেবল তখনই সে তাকে মা'বুদ বা উপাস্য রূপে গ্রহণ করে নেয়। আর বলা বাহুল্য যে, উপকার একমাত্র তার কাছ থেকেই পাওয়া যায়, যার মধ্যে এই চারটি গুণের একটি হলেও বিদ্যমান আছে। গুণগুলি হল: (১) উপাসনাকারী যে জিনিসের আশা করে তার মালিক হওয়া। (২) মালিক না হলে, মালিকের অংশীদার হওয়া। (৩) অংশীদারও না হলে, সে জিনিসের ব্যাপারে মালিকের সাহায্যকারী হওয়া এবং (৪) সাহায্যকারীও না হলে,অন্তত: পক্ষে মালিকের কাছে কারো সম্পর্কে সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখা। সুতরাং, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উক্ত আয়াতে শিরকের এই চারটি স্তরকে ধারাবাহিক ভাবে অস্বীকার করেছেন। অর্থাৎ, আল্লাহ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর সার্বভৌমত্ব ও রাজত্বে অন্য কারো মালিকানা, অংশীদারিত্ব, সাহায্য সহায়তা এবং তাঁর কাছে সুপারিশের ক্ষমতা বিন্দুমাত্রও নেই। তবে, আল্লাহ যে সুপারিশ সাব্যস্ত করেছেন, সেটা তাঁর অনুমতিক্রমে হয় বলে তাতে মুশরিকদের জন্য কোন অংশ বা সুবিধা নেই। শায়খ মাইলী র. সম্ভবত: আল্লামা ইবনুল কাইয়ূমের রা. এই উক্তি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তদুপরি তার উক্তি উবনুল কাইয়ূমের উক্তির প্রায় কাছাকাছি। এতে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে ফিকাহ শাস্ত্রবিদদের অভিন্ন মতের পাওয়া যায়। আবার আবুল বাকা যুফী র. তার কুল্লিয়াত নামক কিতাবে শিরককে ছয় ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা: ১। شرك الاستقلال (শিরকুল ইসতিকলাল) দুজন ভিন্ন ভিন্ন শরীক সাব্যস্ত করাকে শিরকুল ইসতিকলাল বলা হয়। যেমন, মূর্তি পূজা করা করে থাকে। ২। شرك التبعيض (শিরকুত তাবঈদ) একাধিক মা'বুদের সমন্বয়ে এক মা'বুদ হওয়ার বিশ্বাসকে শিরকুত তাবঈদ বলা হয়। যেমন, নাছারাদের শিরক। ৩। شرك التقرير (শিরকুত তাকরীর) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মা'বুদের ইবাদত করা যাতে তারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে তাকে সহায়তা করে। যেমন, প্রাচীনকালের লোকদের শিরক অর্থাৎ জাহেলী যুগের শিরক। ৪। شرك التقليد (শিরকুত তাকলীদ) অন্যদের অনুসরণ করে গাইরুল্লাহর ইবাদত করাকে শিরকুত তাকলীদ বলা হয়। যেমন, জাহেলী মধ্য যুগের শিরক। ৫। شرك الاسباب (শিরকুল আসবাব্‌) ক্রিয়ার প্রভাবকে সাধারণ মাধ্যম সমূহের সাথে সার্বিক ভাবে সম্পৃক্ত করাকে শিরকুল আসবাব্‌ বলা হয়। যেমন, দার্শনিক, জড়বাদী এবং তাদের অনুসারীদের শিরক। ৬। شرك الاغراض (শিরকুল আগরাদ) গাইরুল্লাহর জন্য কোন কাজ করাকেই শিরকুল আগরাদ বলা হয়। লেখক বলেন, আমার মতে এখানে অনেক ধরনের শিরক আছে যেগুলি আল্লামা কাফাবী র. স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেননি। তবে, সেগুলি তাঁর নির্দেশিত মৌলনীতির আওতায় এসে যায়। যথা: শিরকুত তা'আও অর্থাৎ ইবাদতের শিরক। এটা শিরকের ক্ষেত্রে মৌলনীতি। এই মৌলনীতির আওতায় অনেক প্রকার শিরক এসে যায়। যেমন: ইয়াহুদী এবং নাছারাদের শিরক। তারা আল্লাহর তোয়াক্কা না করে হালাল-হারামের উৎস মনে করে তাদের ধর্ম যাজকদেরকে। এরূপ হারামকে হালাল মনে করার শিরক, আল্লাহর দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার শিরক, আল্লাহর বিধান অস্বীকার করার শিরক, মুনাফিকীর শিরক এবং গাইরুল্লাহকে ভালবাসার শিরক। এ সকল শিরক, মনোবৃত্তি, মনোবাসনা, কুপ্রবৃত্তি এবং শয়তানের ইবাদত করায় যে শিরক হয়, তার আওতায় এসে যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿الجاثية২৩﴾ অর্থাৎ তুমি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছ, যে তার খেয়াল-খুশিতে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে-শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন। তার কান ও অন্তরে মোহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তা ভাবনা করো না। (সুরা জাসিয়া, ২৩ আয়াত) অন্যত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آَدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ ﴿يس৬০﴾ অর্থাৎ হে আদম,সন্তান! আমি কি তোমাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করিনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সূরা য়াসীন ৬০ আয়াত শিরক দুই প্রকার। যথা: আকবর অর্থাৎ বড় শিরক এবং আছগর অর্থাৎ শেরক দুই প্রকার। যথা: আকবর অর্থাৎ বড় শিরক এবং আছগর অর্থাৎ ছোট শিরক। দুনিয়া এবং আখেরাতের দিক দিয়ে এই দুই প্রকার শিরকের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমন- বড় শিরকে যে ব্যক্তি লিপ্ত হবে তাকে দুনিয়াতে ধর্ম বিচ্যুতির দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে এবং তার যাবতীয় আদান প্রদান ও লেন-দেনের ব্যাপারে মূরতাদের (ধর্ম বিচ্যুত লোক) বিধি বিধান প্রযোজ্য হবে। ফিকাহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে এ প্রসঙ্গে আল্লাহ আয্‌যা ওয়া জাল্লা বলেন: وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا ﴿الفرقان২৩﴾ অর্থাৎ আর আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলিকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকনা রূপ করে দেব। (সূরা ফুরকান, ২৩ আয়াত।) আর আখিরাতে তার শাস্তি হচ্ছে, সে চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। কারণ, শিরকের অপরাধ আল্লাহ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ ওয়া জাল্লা শানুহু কুর'আনে এরশাদ করেন: إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ﴿৪৮النساء﴾ অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না, ইহা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। (সূরা নিসা ৪৮ আয়াত।) তবে শিরকে আছগর তথা ছোট শিরক জঘন্য হলেও, তার হুকুম বড় শিরক থেকে ভিন্নতর। ছাহাবায়ে কিরাম রা. থেকে বর্ণিত আছে, ছোট শিরক হচ্ছে কবিরা গুনাহ সমূহের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য। তবে হ্যাঁ, এটা জঘন্য হলেও বড় শিরকের সমকক্ষ নয়। তার চেয়ে অনেক নিম্নে। এখন কথা হচ্ছে, আমরা কীভাবে উভয় শিরকের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করব এবং সহজেই এই ফয়সালা করতে পারব যে, তাবীজ ব্যবহার কোন ধরনের শিরক? উল্লেখ্য যে, ছোট শিরক ও বড় শিরকের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য অনেক নীতিমালা রয়েছে। যেমন: ১। বাক্যের শব্দাবলিতে শিরকী অর্থ বিদ্যমান, কিন্তু উক্তিকারী বাক্য দ্বারা গাইরুল্লাহর জন্য কোন প্রকার ইবাদত সম্পাদনের উদ্দেশ্যে করেনি। এমতাবস্থায়, এ ধরনের বাক্য উচ্চারণ তথা ব্যবহার করা হবে ছোট শিরক। এ প্রসঙ্গে রাসূল সা. এমন এক ব্যক্তিকে লক্ষ করে এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাসূলকে সা. বলেছেন: لمن قال له ماشاءالله وشئت قال أجعلتني لله ندا بل ماشاءالله وحده (أحمد) অর্থাৎ (আল্লাহ এবং আপনি যা ইচ্ছা করেছেন) রাসূল সা. বলেছেন: তুমি কি আমাকে আল্লাহর সমকক্ষ বলে ফেললে? এ ভাবে না বলে তোমার উচিত শুধু আল্লাহ যা চেয়েছেন বলা। (আহমদ) অন্য একটি হাদীসে এসেছে- لا تقولوا ما شاء الله وشاء فلان ولكن قولوا ما شاء الله ثم شاء فلان (أحمد) অর্থাৎ রাসূল সা. এরশাদ করেছেন: তোমরা এ রকম কথা বলো না, আল্লাহ এবং অমুক লোক যা ইচ্ছা করেছেন, বরং বলবে, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন, অতঃপর অমুক যা ইচ্ছা করেছেন'। (মুসনাদে আহমদ) ছাহাবায়ে কেরামগণ রা. বলেছেন: শব্দ বা বাক্যের শিরক হচ্ছে অপ্রকাশ্য শিরক এবং ওটা ছোট শিরক। فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿البقرة২২﴾ অর্থাৎ জেনে শুনে কাউকেও আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করো না। (সুরা বাকারাহ, ২২ আয়াত) এই আয়াতের তাফসীরে ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: আন্দাদ অর্থ হচ্ছে এমন শিরক, যা রাতের অন্ধকারে মসৃণ কালো পাথরের উপর পিঁপড়ার চলাচলের চেয়েও অধিক গোপন। এই শিরকের দৃষ্টান্ত হচ্ছে, যেমন তুমি কাউকে বলে বসলে যে, হে অমুক! আল্লাহ এবং তোমার জীবনের শপথ, অথবা বলল: এই কুকুর না হলে আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করত, এই হাঁস বাড়িতে না থাকলে ঘরে চোর আসত, কিংবা একজন আর একজনকে বলল, আল্লাহ এবং আপনার ইচ্ছায়'। এভাবে কেউ বলল, আল্লাহ এবং অমুক না হলে সে কিছুই করতে পারত না' এ ধরনের সব কথাই হচ্ছে শিরক। অনুরূপভাবে উক্ত আয়াতের তাফসীরে আকরামা রা. বলেছেন, তার উদাহরণ হল আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর নাম নিয়ে শপথ করা। রাসূল সা. বলেছেন: من حلف بغيرالله فقد كفر أو أشرك (أحمد) অর্থাৎ যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর শপথ করল, সে কাফির হয়ে গেল অথবা মুশরিক হয়ে গেল। (আহমদ) এই হাদীসে শিরক বা কুফর দ্বারা ছোট শিরক বুঝানোই উদ্দেশ্য, যেমন ইবনে আব্বাসের রা. হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় যা আগে উল্লেখিত হয়েছে। এভাবে কাউকে গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দাস বানানো, যথা: আব্দুল হাসান (হাসানের গোলাম), আব্দুল হোসাইন (হোসাইনের গোলাম), গোলাম রাসূল (রাসূলের গোলাম) ইত্যাদি। এ ধরনের নাম রেখে গাইরুল্লাহর সাথে দাসত্বের সম্পর্ক করাও শিরক। ২। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শিরক বিদ্যমান থাকা (অর্থাৎ ব্যক্তির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পুর্ণরুপে শিরকী ভাবধারায় প্রভাবিত হওয়া)্‌ যেমন, এমন কোন লোক ভাল ও পুণ্য কাজ করল, যার অন্তরে ঈমান নেই অথবা শুধু পার্থিব স্বার্থ এবং ইহকালীন জীবনের লক্ষেই কেউ তার কর্ম তৎপরতা পরিচালিত করে। এরূপ অবস্থায় এটা হবে বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহপাক পবিত্র কালামে এরশাদ করেন: مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ ﴿১৫﴾ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآَخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿هود১৬﴾ অর্থাৎ যদি কেউ পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করে, তাহলে দুনিয়ায় আমি তাদের কর্মের ফল দান করি এবং সেথায় তাদের কম দেয়া হবে না, তাদের জন্য পরকালে অগ্নি ব্যতীত অন্য কিছুই নেই এবং তারা যা করে, আখিরাতে তা নিষ্ফল হবে এবং তারা যা করে থাকে তা নিরর্থক। (সূরা হুদ ১৫ ও ১৬ আয়াত) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছোট শিরকও বিদ্যমান থাকতে পারে। যথা: কোন মুসল্লী তার ছালাতকে এ জন্যই ঠিক মত এবং সুন্দর ভাবে আদায় করছে যে, তাকে কোন লোক লক্ষ্য করে দেখছে। রাসূল সা. বলেছেন: এরূপ করা ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। হাদীছ শরীফে এসেছে: জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূল সা. বের হলেন, অতঃপর বললেন: أيها الناس إياكم و شرك السرائر قالوا يا رسول الله ما شرك السرائر قال يقوم الرجل فيصلي فيزين صلاته جاهدا لما يري من نظرالناس إليه فذاك شرك السرائر (البيهقي ابن خزيمة) অর্থাৎ হে লোক সকল! তোমরা গোপন শিরক থেকে দুরে থেকো। ছাহাবাগণ রা. জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সা. গোপন শিরক কি? তিনি বললেন, কোন লোক ছালাত আদায় করার জন্য দাঁড়ায়, আর অত্যন্ত সুন্দর ভাবে ছালাত আদায় করে। কারণ, তার প্রতি মানুষ লক্ষ্য করছে। এটাই হল গোপন শিরক। (সুনানে বায়হাকী ও ইবনে খুযায়মা)। যায়েদ বিন আসলাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর রা. একদিন মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলেন, আর মা'আজ বিন জাবালকে রা. রাসূলুল্লাহর সা. কবরের কাছে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: হে মা'আজ! তোমাকে কোন জিনিস কাঁদাচ্ছে? মা'আজ রা বললেন- সে হাদীছটি আমাকে কাঁদাচ্ছে, যেটা রাসূলকে সা. আমি বলতে শুনেছি: সামান্যতম রিয়াও (অর্থাৎ লোক দেখানো) শিরক, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওলীদের সাথে শত্রুতা করে সে যেন আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ সমস্ত লোকদেরকে ভালোবাসেন যারা পুণ্যবান, পরহেজগার এবং অপরিচিত, যারা অনুপস্থিত থাকলে কেউ তাদের চিনে না। তাদের অন্তর হেদায়েতের প্রদীপ। তারা বের হয়, এ অন্ধকার ধুলাময় স্থান থেকে। (হাকেম ও ইবনে মাজাহ) ইমাম আবুল বাকা কাফাবী বর্ণনা করেছেন যে, এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করা হয়েছে যে, এ ধরনের ছোট শিরকে লিপ্ত লোককে এমন কাফের বলা যাবে না, যে, ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়। শিরকের আর একটি ধরন হল দুনিয়ার উদ্দেশ্যে কোন কাজ কিংবা আমল করা, তাহলো দুনিয়া তার একক অথবা একমাত্র উদ্দেশ্য নয় বরং দুনিয়ার সাথে সাথে সে আখেরাতের প্রতিদানও চায়। যেমন, কোন ব্যক্তি দুনিয়ায় সুনাম এবং আখিরাতে প্রতিদান পাওয়ার আশায় জিহাদ করেছে অথবা জিহাদে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে দুনিয়ার সম্পদ ও আখিরাতে প্রতিদান পাওয়া। রাসূল সা. এরশাদ করেছেন: تعس عبد الدينار وتعس عبد الدرهم وعس عبد الخميصة تعس عبد الخميلة إن أعطي رضي إن لم يعط سخط الحديث (بخاري) অর্থাৎ ধ্বংস হোক দিনারের গোলাম, ধ্বংস হোক দিরহামের গোলাম, ধ্বংস হোক ক্ষুধার গোলাম, ধ্বংস হোক পোশাকের গোলাম। যদি দেয়া হয় তো সন্তুষ্ট হয়, আর যদি না দেয়া হয় তাহলে অসন্তুষ্ট হয়। (বুখারী কিতাবুল জিহাদ অধ্যায়।৭০) আর যদি কোন লোক একবারেই ছওয়াবের নিয়ত না করে শুধুমাত্র দুনিয়া অর্জন করার উদ্দেশ্যেই কোন আমল করে, তাহলে তা হবে বড় শিরক, যার দৃষ্টান্ত পূর্বেও উল্লেখিত হয়েছে। যেমন, কোন ব্যক্তি শুধুমাত্র সম্পদ লাভের আশায় ছালাত আদায় করে কিংবা কালিমা শাহাদাত মুখে উচ্চারণ করে। ৩। আসবাব বা মাধ্যম সম্পর্কিত শিরক: যেমন, কোন ব্যক্তি মাধ্যমের উপর ভরসা করে, অথচ উহা প্রকৃতপক্ষে মাধ্যম নয় এবং শরীয়াতের দৃষ্টিতেও মাধ্যম নয়। এমনি ভাবে মানুষের বুদ্ধি বিবেচনায়ও মাধ্যম নয়। এ ধরনের শিরক একটি শর্ত সাপেক্ষে ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শর্ত হল, মাধ্যমের উপর পরিপূর্ণ ভাবে ভরসা না করা। অর্থাৎ, সে যেন এই ধারণা পোষণ না করে যে, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকেই এই মাধ্যম একক ভাবে প্রভাব সৃষ্টিকারী, অথবা যাকে সে মাধ্যম মনে করে, তার উদ্দেশ্য কিছু ইবাদতও করে। (শর্তে বর্ণিত দুটি অবস্থায় বড় শিরক হবে)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের রা. নিম্ন বর্ণনা থেকেও এর সমর্থন পাওয়া যায়: الطيرة شرك الطيرة شرك وما منا إلا ولكن الله يذهبه بالتوكل (أحمد أبو داؤد و حاكم) অর্থাৎ পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা শিরক, পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা শিরক। আমরা প্রত্যেকেই বিপদগ্রস্ত হতে পারি, কিন্তু আল্লাহ তাওয়াক্কুলের কারণে আমাদেরকে বিপদমুক্ত করেন) (আহমদ, আবু দাউদ ও হাকেম) এমনি ভাবে আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. হতে বর্ণিত হাদীছ থেকেও তা বুঝা যায়। উক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: من ردته الطيرة عن حاجته فقد أشرك قالوا فما كفارة ذلك يا رسول الله قال: إن تقول: اللهم لا خير إلا خيرك ولا طير إلا طيرك ولا إله غيرك (أحمد) অর্থাৎ রাসূল সা. এরশাদ করেছেন, তিয়ারা (পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারন করণ) যে ব্যক্তিকে তার প্রয়োজনীয় কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখল সে বস্তুত: শিরক করল। ছাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ওর কাফফারা কি? রাসূল সা. বললেন: একথা বলা যে, হে আল্লাহ! তোমার কল্যাণ ব্যতীত আর কারো কল্যাণ নেই, তোমার তিয়ারা ব্যতীত আর কারো তিয়ারা নেই, এবং তুমি ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই। (আহমদ) শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদী বলেন- যে সকল কথা ও কাজ মানুষকে শিরক পর্যন্ত পৌঁছায়, তাকে ছোট শিরক বলে। যেমন: কোন মাখলুক বা সৃষ্টির ব্যাপারে এতখানি বাড়াবাড়ি করা যে, তার ইবাদত করা শুরু হয়ে যায়, অথচ সৃষ্টি কখনও ইবাদতের উপযুক্ত হতে পারে না। যথা: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা এবং সামান্য রিয়া প্রকাশ করা ইত্যাদি। উপরোক্ত আলোচনা হতে এটা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ছোট শিরক মূল ঈমানের কোন ক্ষতি সাধন করে না এবং সম্পূর্ণরূপে গাইরুল্লাহর ইবাদত পর্যন্ত পোঁছিয়ে দেয় না। একাধিক দলীল দ্বারা ছোট শিরকের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। প্রথমত: রাসূলুল্লাহ সা. কর্তৃক কোন নির্দিষ্ট কাজকে ছোট শিরক বলে আখ্যায়িত করা। যেমন: রাসূল সা. বলেছেন: إن أخوف ما أخاف عليكم الشرك الاصغر قالوا يا رسول الله وما الشرك الاصغر قال الرياء (أحمد) অর্থাৎ তোমাদের জন্য যে বিষয়টিকে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় করি, তা হল ছোট শিরক। ছাহাবাগণ রা. বললেন- হে আল্লাহর রাসূল সা. ছোট শিরক কি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ্‌ সা. বললেন, রিয়া অর্থাৎ লোক দেখানো আমল। (আহমদ) দ্বিতীয়ত: কোন কাজকে শিরক বা কুফর আখ্যায়িত করে শরীয়তে তার জন্য মুরতাদের শাস্তি অপেক্ষা নিম্নতর শাস্তির বিধান করা, যার দ্বারা বুঝা যায় যে, ঐ কাজটি ধর্ম বিচ্যুতির ন্যায় কুফর। বরং উহা ছোট শিরক এবং কুফরের মিলিত অপরাধ। যেমন, কোন মুসলিমকে হত্যা করা। মুসলিম হত্যাকে রাসূল সা. কুফর বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর শরীয়তে মুসলিম হত্যাকারীর শাস্তি হল কিছাছ। কিন্তু নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা হত্যাকারীকে ক্ষমাও করে দিতে পারে, অথবা ইচ্ছা করলে দিয়ত বা রক্তপণও নিতে পারে। পক্ষান্তরে, যে মুরতাদ পুনরায় ইসলামে ফিরে না আসে, তার শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) কোন অবস্থাতেই ক্ষমা করা যায় না। এক মুসলিম অপর মুসলিমকে হত্যা করা কুফরী হলেও আল্লাহ তাদেরকে পরস্পর ভাই হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু একজন মুরতাদকে মুসলিমের ঈমানী ভাই বলে আখ্যায়িত করা নাজায়েয। এ সম্বন্ধে আল্লাহ আয্‌যা ওয়া জাল্লা জালালুহু বলেন: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿الحجرات১০﴾ অর্থাৎ নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই। সুতরাং, তোমরা তোমাদের ভাইদের মাঝে (সম্পর্ক) সংশোধন করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। সম্ভবত তোমাদের প্রতি রহম করা হবে। (সূরা হুজুরাত ১০ আয়াত) তৃতীয়ত: ছাহাবী কর্তৃক কোন কাজ শিরক বলে আখ্যায়িত করা অথবা কুরআন ও হাদীসের আলোকে বুঝা যে, ঐ কাজটি ছোট শিরক। যেহেতু রাসূল সা. ছাহাবাদের রা. কাছে আকীদাহ্‌ সম্পর্কে এমন বিস্তারিত আলোচনা করে গেছেন যে, তাদের নিকট অন্য কিছুর সাথে শিরকের সংমিশ্রণ হত না। অতএব, এ বিষয়ে যে কোন ছাহাবীর রা. কথাকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যায়।

3508 views
ঝাড়-ফুঁক,[9] তাবিজ ও তিওয়ালাহ[10] নিঃসন্দেহে শিরক[11]
এসব দলিল বলে, রোগ-ব্যাধি দূর বা প্রতিরোধ করার জন্য মানুষ বা জীব-জন্তুর শরীরে, কিংবা ক্ষেত-খামারে তাবিজ, তাগা, কড়ি ও সুতা ইত্যাদি ব্যবহার করা শিরক কারণ, তামিমাহ ও তামিমাহ জাতীয় বস্তুর উপর নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলো ব্যাপক, তাই সবধরণের তাবিজ শিরক কুরআন/গায়রে কুরআন কোনো বিভেদ নেই
আবু ওয়াহহাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«وَارْتَبِطُوا الْخَيْلَ، وَامْسَحُوا بِنَوَاصِيهَا وَأَكْفَالِهَا، وَقَلِّدُوهَا وَلَا تُقَلِّدُوهَا الْأَوْتَارَ»
তোমরা ঘোড়া বেঁধে রাখ, তার মাথায় ও ঘাড়ে হাত বুলাও এবং তাকে লাগাম পরাও, তবে সুতা/ মালা পরিয়ো না[8]
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী জয়নব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পানতিনি বলেন, এটা কী? আমি বললাম, এটা পড়া তাগা, এতে ঝাড়-ফুঁক করা হয়েছে তিনি তা কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত

3508 views

তাবিজ ব্যবহার করতে রাসূল (স) নিষেধ করেছেন। তাই এটি ব্যবহার করা যায়েজ নয়। তাবিজের দ্বারাই সকল রোগ সেরে যাবে এই ভরসায় তাবিজ ব্যবহার করলে শিরক হবে।

3508 views

যদি অাপনি এই বিশ্াসে তাবীজ ব্যবহার করেন যে,এই তাবীজের উপর "সব শক্তি"। এটা অামাকে বিপদ থেকে দূরে রাখবে,অামার রোগ ভাল করে দিবে,অামার অমুক কাজ করে দিবে মোট কথা এই তাবিজোই সব শক্তি তাহলে এটা শিরক হবে। কারণ সমস্যা দেন অাল্লাহ অার তা থেকে মুকত্িও দেন অাল্লাহ।

3508 views

Related Questions