1 Answers
আল্লাহ্তা’আলা পবিত্র কোরআন মজিদে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আহলে কিতাবিরাও মুসলিম এবং তাদের ধর্মও ইসলাম।
পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আল কাসাস-এর ৫২ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, যাদের আমি এর আগে কিতাব দিয়েছিলাম তারা এর (কোরআন) প্রতি ঈমান আনে।
এর অর্থ এই নয় যে, সমস্ত আহলে কিতাব (ইহুদি ও ঈসায়ী) এর প্রতি ঈমান আনে। বরং এ সুরা নাযিল হওয়ার সময় যে ঘটনা ঘটেছিল এখানে আসলে সেদিকে ইশারা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মক্কাবাসীদের লজ্জা দেয়াই উদ্দেশ্য যে, তোমাদের নিজেদের বাড়িতে যে নিয়ামত এসেছে তাকে তোমরা প্রত্যাখ্যান করছ। অথচ দূরদেশ থেকে লোকেরা এর খবর শুনে আসছে এবং এর মূল্য অনুধাবন করে এ থেকে লাভবান হচ্ছে। যেমন সে সময় হাবশা ও ইয়াসরীবের লোকজন এসে আল্লাহ্র নবী (স.)-এর কাছে বাইয়াত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আল কাসাস-এর ৫৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, আর যখন তাদের এটা শোনানো হয় তখন তারা বলে, আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এটি যথার্থই সত্য আমাদের রবের পক্ষ থেকে, আমরা তো আগে থেকেই মুসলিম।
এর মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এর আগেও আমরা নবীদের এবং আসমানি কিতাবের আনুগত্য করে এসেছি। তাই ইসলাম ছাড়া আমাদের অন্য কোনো দীন ছিল না। আর এখন যে নবী আল্লাহ্র পক্ষ থেকে কিতাব নিয়ে এসেছেন তাকেও আমরা মেনে নিয়েছি। কাজেই মূলত আমাদের দীনের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং আগেও যেমন আমরা মুসলমান ছিলাম তেমনি এখনও মুসলমান আছি।
একথা থেকে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (স.) যে দীনের দাওয়াত দিয়েছেন তার নামই শুধু ইসলাম নয় এবং ‘মুসলিম’ পরিভাষাটি মুধুমাত্র নবী করীম (স.)-এর অনুসারীগণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়। বরং সব সময় এ ইসলামই ছিল সব নবীর দীন এবং সব জমানায় তাদের সবার অনুসারীগণ মুসলমানই ছিলেন। হযরত আদম (আ.) ছিলেন প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী। সেই থেকে শেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত সব নবী-রাসুলগণ ইসলামই প্রচার করেছেন। শেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ্ তাঁর মনোনীত জীবন বিধান পূর্ণাঙ্গ ইসলামেরই প্রচার করেছেন। তাই পরবর্তী যে কোনো নবী-রাসুলের আনীত বিধানের সঙ্গে পূর্ববর্তী কোনো নবীর আনীত অবিকৃত ইসলামি বিধানের উপর বিশ্বাস স্থাপন ঈমানের অন্যতম শর্ত। মুসলমানরা যদি কখনো পরবর্তীকালে আগত কোনো সত্য নবীকে মানতে অস্বীকার করে থাকে তাহলে কেবল তখনই তারা কাফের হয়ে গিয়ে থাকবে। কিন্তু যারা আগের নবীকে মানত এবং পরের আগত নবীকেও মেনে নিয়েছে তাদের ইসলামে কোনো ছেদ পড়েনি। তারা আগেও যেমন মুসলমান ছিল, পরেও তেমনি মুসলমান।
প্রকৃতপক্ষে, পবিত্র কোরআন মজিদ কেবলমাত্র এই একটি স্থানেই নয়, বরং অসংখ্য জায়গায় এ সত্যটি বর্ণনা করেছে। কোরআন বলছে, আসল দীন হচ্ছে একমাত্র ‘ইসলাম’ (আল্লাহ্র আনুগত্য) এবং আল্লাহ্র বিশ্বজাহানে আল্লাহ্র সৃষ্টির জন্য এছাড়া দ্বিতীয় কোনো দীন বা ধর্ম হতে পারে না। সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে যে নবীই মানুষকে পথনির্দেশ দেয়ার জন্য এসেছেন তিনি এ দীনই নিয়ে এসেছেন। আর নবীগণ হামেশাই নিজেরা মুসলিম থেকেছেন, নিজেদের অনুসারীদের মুসলিম হয়ে থাকার তাকিদ দিয়েছেন এবং তাদের যেসব অনুসারী নবুওয়াতের মাধ্যমে আগত আল্লাহ্র ফরমানের সামনে আনুগত্যের শির নত করে দিয়েছেন তারাও প্রতিটি যুগে মুসলমিই ছিলেন। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টান্ত স্বরূপ শুধুমাত্র কয়েকটি আয়াত পেশ করা যায়—
পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আলে ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত, আসলে আল্লাহ্র কাছে ইসলামই একমাত্র দীন।
পবিত্র কুরআন মজিদের সুরা আল বাকারাহ-এর ১৩১, ১৩২ ও ১৩৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত, যখন তার রব তাকে বললেন, মুসলিম (ফরমানের অনুগত) হয়ে যাও, সে বলল, আমি মুসলিম হয়ে গেলাম রব্বুল আলামীনের জন্য। আর এ জিনিসটিরই ওসিয়াত করে ইবরাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও : হে আমার সন্তানরা! আল্লাহ্ তোমাদের জন্য এ দীনটিই পছন্দ করেছেন। কাজেই মুসলিম না হয়ে তোমরা কখনো মৃত্যুবরণ করো না। তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকুবের মৃত্যুর সময় এসে গিয়েছিল, যখন সে তার পুত্রদের জিজ্ঞেস করেছিল, আমার মৃত্যুর পর তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা জবাব দিয়েছিল, আমরা ইবাদত করব আপনার ইলাহ-এর এবং আপনার বাপ-দাদা ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ-এর, তাঁকে একক ইলাহ হিসেবে মেনে নিয়ে। আর আমরা তাঁরই অনুগত (মুসলিম)।
ইবরাহীম ইহুদি ছিল না, খ্রিস্টানও ছিল না, বরং ছিল একনিষ্ঠ মুসলিম।
পবিত্র কুরআন মজিদের সুরা আল বাকারাহ-এর ১২৮ নম্বর আয়াতে স্বয়ং হযরত ইবরাহীম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.) দোয়া করেন এভাবে, হে আমাদের রব! আমাদের তোমার মুসলিম (অনুগত) কর এবং আমাদের বংশ থেকে একটি উম্মত সৃষ্টি কর যে হবে তোমার অনুগত (মুসলিম)।
হযরত ইউসুফ (আ.) মহিমান্বিত রবের দরবারে নিবেদন করেন :
আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান করো এবং সত্কর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দাও।
পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা ইউনূস-এর ৮৪ নম্বর আয়াতে হযরত মুসা (আ.) তাঁঁর নিজের জাতিকে বলেন:
হে আমার জাতি! যদি তোমরা আল্লাহ্র প্রতি ঈমান এনে থাকো, তাহলে তাঁর ওপরই ভরসা করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো।
বনী ইসরাঈলের আসল ধর্ম ইহুদিবাদ নয়, বরং ইসলাম ছিল। বন্ধু ও শত্রু সবাই একথা জানত। কাজেই ফেরাউন সাগরে ডুবে যেতে যেতে যে শেষ কথাটি বলে তা হচ্ছে : পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা ইউনুসের ৯০ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে এভাবে, আমি মেনে নিলাম বনী ইসরাঈল যার প্রতি ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
বনী ইসরাঈলের সকল নবীর দীনও ছিল এ ইসলাম। যা সুরা আল মায়েদাহ-এর ৪৪ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে এভাবে, আমি তাওরাত নাজিল করেছি, যাতে ছিল হেদায়াত ও আলো, সে অনুযায়ী সে নবীগণ যারা মুসলিম ছিল তাদের বিষয়াদির ফয়সালা করত যারা ইহুদি হয়ে গিয়েছিল।
আর এটিই ছিল হজরত ঈসা (আ.) ও তাঁর হাওয়ারীদের (সহযোগী) দীন। যা পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আল মায়েদাহ-এর ১১১ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, আর যখন আমি হাওয়ারীদের প্রতি (কাছে) ওহী পাঠালাম যে, ঈমান আনো আমার প্রতি এবং আমার রসুলের প্রতি, তখন তারা বলল, আমরা ঈমান এনেছি এবং সাক্ষী থাক আমরা মুসলিম।
আসলে এ আয়াতগুলোতে যে কথাটি বলা হয়েছে তা হচ্ছে, আল্লাহ্র পক্ষ থেকে যে প্রকৃত দ্বীনটি এসেছে তা খ্রিস্টবাদ, মুসাবাদ বা মুহাম্মদবাদ নয় বরং তা হচ্ছে নবীগণ ও আসমানি কিতাবসমূহের মাধ্যমে আগত আল্লাহ্র ফরমানের সামনে আনুগত্যের শির নত করে দেয়া এবং এ নীতি আল্লাহর যে বান্দা যেখানেই যে যুগেই অবলম্বন করেছে সে-ই হয়েছে একই বিশ্বজনীন, আদি ও চিরন্তন সত্যদীনের অনুসারী। সে সত্যদীন হলো ইসলাম। যারা এ দীনকে যথার্থ সচেতনতা ও আন্তরিকতা সহকারে গ্রহণ করেছে তাদের জন্য মুসার পরে ঈসাকে এবং ঈসার পরে মুহাম্মদ (সা.)-কে মেনে নেয়া ধর্ম পরিবর্তন করা হবে না, বরং হবে প্রকৃত ও আসল ধর্মের অনুসরণ করার স্বাভাবিক ও ন্যায়সঙ্গত কাজ। পক্ষান্তরে যারা আম্বিয়া (আ.)-এর উম্মতের মধ্যে না জেনে-বুঝে ঢুকে পড়েছে অথবা তাঁদের দলে জন্ম নিয়েছে এবং জাতীয় ও বংশীয় স্বার্থপ্রীতি যাদের জন্য আসল ধর্মে পরিণত হয়ে গেছে তারা ইহুদি ও খ্রিস্টান হয়ে রয়ে গেছে এবং শেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনে তাদের মূর্খতা ও অজ্ঞতার হাটে হাঁড়ি ভেঙে গেছে। কারণ তারা আল্লাহ্র শেষ নবীকে অস্বীকার করেছে। আর এটা করে তারা শুধু যে নিজেদের ভবিষ্যতে মুসলিম হয়ে থাকাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাই নয়, বরং নিজেদের এ কার্যকলাপের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা আসলে ইতিপূর্বেও মুসলিম ছিল না, নিছক একজন নবীর বা কয়েকজন নবীর ব্যক্তিত্বের ভক্ত ও অনুরক্ত ছিল। অথবা পিতা-প্রপিতার অন্ধ অনুকরণকে ধর্মীয় আচারে পরিণত করে রেখেছিল।
এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে তারা মুসলিম ছিলেন এবং তাদের ধর্ম ইসলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসব আহলে কিতাবীদের অনেকেই আল্লাহ্তা’আলার একত্ববোধের উপর ঈমান আনলেও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি ঈমান আনেনি, আল্লাহ্র নবী (স.)-এর প্রতি প্রেরিত পবিত্র কোরআন মজিদের প্রতি ঈমান আনেনি। তারা দোয়াল্লিন ও মগদুব পথভ্রষ্ট ও অভিশপ্ত। তারা অমুসলিম, তারা ইসলামকে অস্বীকারকারী, তারা জালেম, তারা আল্লাহ্তা’আলার অবাধ্য, তারা অবিশ্বাসী। আর সে কারণেই মুমিনদের আহলে কিতাবীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না রাখার ব্যাপারে আল্লাহ্তা’আলা পবিত্র কোরআন মজিদে নিষেধ করেছেন।
আহলে কিতাবিদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মজিদের সুরা আল-মায়েদাহ-এর ৫১ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও নাসারাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ জালেমদের পথপ্রদর্শন করেন না।’
এই আয়াতে মুসলমানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন ইহুদি ও নাসারাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও গভীর বন্ধুত্ব না করে। সাধারণ অমুসলিম এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের রীতিও তাই। তারা গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে শুধু স্বীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে; মুসলমানদের সঙ্গে এরূপ সম্পর্ক স্থাপন করে না।
এরপর যদি কোনো মুসলমান এ নির্দেশ অমান্য করে কোনো ইহুদি অথবা খ্রিস্টানের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে সে ইসলামের দৃষ্টিতে সে সম্প্রদায়ের লোক বলে গণ্য হওয়ার যোগ্য।
তফসীরবিদ ইবনে জরীর ইকরামা (রা.)-এর বাচনিক বর্ণনা করেন : এ আয়াতটি একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে। ঘটনাটি এই যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা.) মদিনায় আগমনের পর পার্শ্ববর্তী ইহুদি ও নাসারাবাদের (খ্রিস্টানদের) সঙ্গে এই মর্মে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন যে, তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিজেরা যুদ্ধ করবে না, বরং মুসলমানদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করবে। এমনিভাবে মুসলমানরাও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না এবং কোনো বহিরাক্রমণকারীর সাহায্য করবে না, বরং আক্রমণকারীকে প্রতিহত করবে। কিছুদিন পর্যন্ত এ চুক্তি উভয় পক্ষেই বলবত্ থাকে, কিন্তু ইহুদিরা স্বভাবগত কুটিলতা ও ইসলাম বিদ্বেষের কারণে বেশিদিন এ চুক্তি মেনে চলতে পারল না এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কার মুশরিকদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তাদের স্বীয় দুর্গে আহ্বান জানিয়ে পত্র লিখল। রাসুলুল্লাহ্ (সা.) হযরত জিবরাঈল (আ.) কর্তৃক এই ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে তাদের বিরুদ্ধে একটি মুজাহিদ বাহিনী প্রেরণ করলেন। বনী-কুরায়যার এসব ইহুদি একদিকে মুশরিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং অপরদিকে মুসলমানদের দলে অনুপ্রবেশ করে অনেক মুসলমানের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি সম্পাদন করে রেখেছিল। এভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের জন্য গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত ছিল। এ কারণে আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং মুসলমানদের ইহুদি ও নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব স্থাপন করতে নিষেধ করে দেয়া হয়।
একই সঙ্গে পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আল মায়েদাহ-এর সুরা ৫৭ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবের মধ্য থেকে যেসব লোক তোমাদের দ্বীনকে বিদ্রূপ ও হাসি-তামাশার বিষয়ে পরিণত করেছে তাদের এবং অন্যান্য কাফেরদের নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর না। আল্লাহেক ভয় কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।’
সুরা আল-মায়েদাহ-এর ৫৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, তাদের বল, ‘হে আহলে কিতাব! আমাদের প্রতি তোমাদের ক্রোধের একমাত্র কারণ এই যে, আমরা আল্লাহ্র ওপর এবং দ্বীনের সে শিক্ষার ওপর ঈমান এনেছি যা আমাদের প্রতি নাজিল হয়েছে এবং আমাদের আগেও নাজিল হয়েছিল। আর তোমাদের বেশিরভাগ লোকই অবাধ্য।’
সুরা আল-মায়েদাহ্-এর ৬৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘যদি (বিদ্রোহের পরিবর্তে) এ আহলে কিতাব গোষ্ঠী ঈমান আনত এবং আল্লাহভীতির পথ অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের থেকে তাদের দুষ্কৃতিগুলো মোচন করে দিতাম এবং তাদের পৌঁছিয়ে দিতাম নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে।’ সুরা আল-মায়েদাহ্-এর ৬৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘হায়, যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জিল ও অন্যান্য কিতাবগুলো প্রতিষ্ঠিত করত, যা তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল! তাহলে তাদের জন্য রিজিক ওপর থেকে বর্ষিত হতো এবং নিচে থেকেও উত্থিত হতো। তাদের মধ্যে কিছু লোক সত্যপন্থী হলেও অধিকাংশই অত্যন্ত খারাপ কাজে লিপ্ত।’
কাজেই ইহুদি ও নাসারারা (খ্রিস্টানরা) যদি ধর্মগ্রন্থে আল্লাহ ও নবীদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত প্রকৃত শিক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকত তাহলে নিঃসন্দেহে নবী (সা.)-এর আবির্ভাবকালে তাদের একটি ন্যায়বাদী ও সত্যপন্থী দল হিসেবে পাওয়া যেত। এক্ষেত্রে তারা পবিত্র কুরআন মজিদের মধ্যে সেই একই আলো দেখতে পেত, যা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর মধ্যে পাওয়া যেত। এ অবস্থায় নবী (সা.)-এর আনুগত্য করার জন্য তাদের ধর্ম পরিবর্তন করার আদতে কোনো প্রশ্নই দেখা দিত না, বরং যে পথে তারা চলে আসছিল সে পথের ধারাবাহিক পরিণতি হিসেবেই তারা মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারী হয়ে সামনে অগ্রসর হতে পারত। অথচ তারা করেনি। তারা না করে অবাধ্য হয়েছে।
আহলে কিতাবী ও উম্মতে মুহাম্মদী (স.)-এর বিয়ের ব্যাপারে কিছু কিছু আলেমেদীন ও মুফাসিসর মনে করেন এই বিয়ে বৈধ। পাশাপাশি অনেক আলেমে দীন মনে করেন যে, এই বিয়ে বৈধ নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে, আল্লাহ্র পবিত্র কোরআন সম্পর্কে সম্পূর্ণ মূর্খ ও অজ্ঞ। আমিও মনে করি যে আহলে কিতাবী এবং উম্মতে মুহাম্মদী (স.)-এর মধ্যকার বিয়ে বৈধ নয়। যারা বিয়ে বৈধ মনে করেন তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, যেসব আহলে কিতাবী আল্লাহ্তা’আলার একত্ববাদের উপর অবিচল আস্থা আছে তাদের সঙ্গে উম্মতে মুহাম্মদী (স.)-এর বিয়ে বৈধ। এখানেই শেষ নয়। আছে আরও কিছু যুক্তি আর তা হচ্ছে, আহলে কিতাবরা আল্লাহ্র নাম নিয়ে যদি কোনো হালাল প্রাণীকে সঠিক পদ্ধতিতে যবেহ করে তাহলে তা মুসলমানদের জন্য হালাল গণ্য করা হয়েছে। তাদের মেয়েদের বিয়ে করারও অনুমতি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মুশরিকদের যবেহ করা প্রাণীও হালাল নয় এবং তাদের মেয়েদের বিয়ে করারও অনুমতি দেয়া হয়নি। পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আল-মায়েদার ৫ নম্বর আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী কোনো কোনো মুফাসিসর আহলে কিতাবীদের মেয়েদের সঙ্গে উম্মতে মুহাম্মদী (স.)-এর পুরুষের সঙ্গে বিয়ে বৈধ মনে করেন। ওই সুরায় বর্ণিত হয়েছে যে, ‘আজ তোমাদের জন্য সমস্ত পাক-পবিত্র বস্তু হালাল করা হয়েছে। আহলে কিতাবের খাদ্যদ্রব্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্যদ্রব্য তাদের জন্য হালাল। আর সংরক্ষিত মেয়েরা তোমাদের জন্য হালাল, তারা ঈমানদারদের দল থেকে হোক বা এমন জাতিদের মধ্য থেকে হোক, যাদের তোমাদের আগে কিতাব দেয়া হয়েছে। তবে শর্ত এই যে, তোমরা তাদের মোহরানা পরিশোধ করে দিয়ে বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে তাদের রক্ষক হবে।’
এখানে ব্যাখ্যায় আহলে কিতাবী বলতে ইহুদি-খ্রিস্টানদের (নাসারাদের) কথা বলা হয়েছে। কেবল তাদের নারীদেরই বিবাহ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আর এর সঙ্গে শর্তও আরোপিত হয়েছে যে, তাদের ‘মুহসানাত’ (সংরক্ষিত মহিলা) হতে হবে। এ নির্দেশটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিরূপণের ব্যাপারে ফিকাহবিদদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে এখানে আহলে কিতাব বলতে সেসব আহলে কিতাবকে বুঝানো হয়েছে যারা ইসলামী রাষ্ট্রের প্রজা। অন্যদিকে দারুল হারব ও দারুল কুফরের ইহুদি ও খ্রিস্টান (নাসারা) মেয়েদের বিয়ে করা জায়েয নয়। হানাফি ফকীহগণ এর থেকে সামান্য একটু ভিন্নমত পোষণ করেন। তাদের মতে বহির্দেশের আহলে কিতাবের মেয়েদের বিয়ে করা হারাম না হলেও মাকরুহ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তারপর ‘মুহসানাত’ শব্দের অর্থের ব্যাপারেও ফকীহগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর মতে ‘মুহসানাত’ অর্থ পবিত্র ও নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী মেয়েরা। ‘মুহসানাত’ শব্দের এ অর্থ গ্রহণ করার কারণে তিনি আহলে কিতাবের স্বেচ্ছাচারী মেয়েদের বিয়ে করাকে এ অনুমতির আওতার বাইরে রেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে সুরা আল মায়েদাহ-এর ১৯ নম্বর আয়াতে কি বলা হয়েছে তা আমরা দেখে নিতে পারি। আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে আহলে কিতাব! রাসুলদের সিলসিলা দীর্ঘকাল বন্ধ থাকার পর প্রকৃত সত্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য তোমাদের কাছে আমার রসুল এসেছে। যাতে তোমরা বলতে না পার আমাদের কাছে না কোনো সুসংবাদদানকারী এসেছিল, না এসেছিল কোনো সতর্ককারী। কাজেই নাও, এখন তোমাদের কাছে সুসংবাদদানকারী এসে গেছে এবং সতর্ককারীও।’
এখানে মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (স.)-কেই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ বলা হয়েছে। কিন্তু এর পরেও ইহুদি ও নাসারারা শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি। পবিত্র কুরআন মজিদের প্রতি একীন রাখেনি। যা সুরা আল বাকারাহ-এ তাদের আহ্বান জানানোর পরেও তারা অবাধ্য থেকে গেছে।
পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আল বাকারাহ-এর ২-৪ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে যে, ‘এটি আল্লাহ্র কিতাব, এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। এটি হেদায়াত সেই মুত্তাকীদের জন্য, যারা অদৃশ্যে ঈমান রাখে নামাজ কায়েম করে এবং যে রিজিক আমি তাদের দিয়েছি তা থেকে খরচ করে। আর যে কিতাব তোমার ওপর নাজিল করা হয়েছে (অর্থাত্ কুরআন) এবং তোমার আগে যেসব কিতাব নাজিল করা হয়েছিল সেগুলোর ওপর ঈমান আনে এবং আখেরাতের ওপর একীন রাখে।’
পবিত্র কুরআন মজিদের সুরা আল বাইয়েনাহ নাজিল হয়েছে মূলত আহলে কিতাব ও মুশরিকদের চিহ্নিত করার জন্য, তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করার জন্য। আহলে কিতাবদের গোমরাহী তুলে ধরার জন্য। সুরায় এ কথাটি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যেসব আহলে কিতাব ও মুশরিক এই রসুলকে মেনে নিতে অস্বীকার করবে তারা নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। তাদের শাস্তি চিরন্তন জাহান্নাম। আজকের আহলে কিতাবীরা আল্লাহ্র সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে অস্বীকার করেছে। (নাসারাদের) কেউ তিন আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস করে। (ইহুদিদের) কেউবা শেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। অথচ শেষ নবী মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অন্যতম শর্ত। ফলে তাদের সঙ্গে যেমন বন্ধুত্ব করা অবৈধ, তেমনিভাবে তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কও অবৈধ।
সুরা আল বাইয়েনাহ-এর ১-৩ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফের তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ না আসা পর্যন্ত তারা (নিজেদের কুফরি থেকে) বিরত থাকতে প্রস্তুত ছিল না। অর্থাত্ আল্লাহ্র পক্ষ থেকে একজন রাসুল যিনি পবিত্র সহীফা পড়ে শোনাবেন, যাতে একেবারে সঠিক কথা লেখা আছে।’ ২ নম্বর আয়াতের বক্তব্য অনুযায়ী ‘যারা কুফরী করে, যারা আহলে কিতাব ও মুশরিকদের দলের অন্তর্ভুক্ত। সুরা আল-বাইয়েনাহ-এর ৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা নিশ্চিতভাবে জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।’ এখানে কুফরি বলতে আল্লাহ্র নবী (স.)-কে মেনে নিতে অস্বীকার করা। অর্থাত্ মুশরিক ও আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা এই রাসুলের নবুওয়াত লাভের পর তাঁকে মানেনি।
তাদের জন্য পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা আল বাকারাহ-এর ১৯-২০ নম্বর আয়াত প্রযোজ্য। সুরা আল বাকারাহ-এর ১৯-২০ নম্বর আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে এভাবে, ‘অথবা এদের দৃষ্টান্ত এই যে, আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। তার সঙ্গে আছে অন্ধকার মেঘমালা, বজ্রের গর্জন ও বিদ্যুত্ চমক। বজ্রপাতের আওয়াজ শুনে নিজেদের মৃত্যুর ভয়ে এরা কানে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়। আল্লাহ্ এ সত্য অস্বীকারকারীদের সবদিক থেকে ঘিরে রেখেছেন। বিদ্যুত্ চমকে তাদের অবস্থা এই হয়েছে যে, বিদ্যুত্ যেন অচিরেই তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেবে। যখন সামান্য একটু আলো তারা অনুভব করে তখন তার মধ্যে তারা কিছুদূর চলে এবং যখন তাদের ওপর অন্ধকার ছেয়ে যায় তারা থমকে দাঁড়িয়ে যায়। আল্লাহ্ চাইলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণরূপেই কেড়ে নিতে পারতেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর শক্তিশালী।’
আহলে কিতাবীরা তাদের কিতাবের উপর ঈমান এনেছিল। কিন্তু আল্লাহ্র শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর ঈমান আনেনি। পবিত্র কোরআনের উপর তাদের তাদের একিন নেই। সে কারণেই তারা জালিম, তারা আল্লাহ্র অবাধ্য।
একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর ওহী নাজিল হওয়ার পরে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের কার্যকারিতা যেভাবে স্থগিত হয়ে গেছে তেমনিভাবে নতুন রাসুল আগমনের পরে পূর্ববর্তী নবীর কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। যা মূলত স্থগিত হয়ে গেছে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, যেসব আহলে কিতাবীরা পূর্ববর্তী নবীর উম্মত হিসেবে আল্লাহ্তা’আলার একত্ববাদের উপর ঈমান এনেছিল তেমনিভাবে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি ঈমান আনলে, পবিত্র কোরআন মজিদের উপর একিন রাখলেই তাদের ইসলাম ধর্মের ধারা অব্যাহত থাকে। কিন্তু আল্লাহ্র রাসুল (স.)-কে এবং পবিত্র কোরআন মজিদকে অস্বীকার করে তাদের মুসলিম বলার বা তাদের ধর্ম ইসলাম বলার এখতিয়ার নেই। তেমনি এসব আহলে কিতাবীদের ধর্মগ্রন্থ মৌলিক অবস্থায় আছে কীনা সেটাও ধর্তব্যের বিষয় নয়। তাদের ধর্মগ্রন্থ মৌলিক অবস্থায় থাকলেও পবিত্র কোরআন মজিদ নাজিল হওয়ার পরে পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থের কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আগের কিতাবের যেসব বিধান কোরআনের বিধানের সঙ্গে মিল থাকবে ওগুলো কোরআনের বিধানের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে। ফলে আহলে কিতাবী নারীদের সঙ্গে উম্মতে মুহাম্মদী (স.)-এর পুরুষের বিয়ে বৈধ হতে পারে কিনা ভেবে দেখা দরকার। (এ বিষয়ে যুগের সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম ও ফকিহগণের মতামত ব্যক্ত করে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।)
আহলে কিতাবী ও উম্মতে মুহম্মদী (স.)-এর বিয়ের বিষয়টি মেনে নেয়া হলে ইসলাম যে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, এটি যে মানুষের জীবনের সব সমস্যার সমাধান এতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। কারণ ইসলাম শুধু আনন্দ উপভোগ করার জন্য বিয়ে-শাদীর ব্যবস্থা করেনি। এর মাধ্যমে মানুষকে বেবিচার-অনাচার থেকে বাঁচিয়ে রাখা যেমন উদ্দেশ্য, তেমনি পরিশুদ্ধ সমাজ ব্যবস্থার জন্য খাঁটি অনুগত আল্লাহর (মুসলিম) বান্দা সৃষ্টি করাও উদ্দেশ্য। (পবিত্র কুরআন মজিদের ভাষায়) মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আ.) যেমনটি দোয়া করেছিলেন।
আল্লাহ্তা’আলা যেখানে ইহুদি ও নাসারাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য নিষেধ করেছেন সেখানে আহলে কিতাবীদের সঙ্গে উম্মতে মুহাম্মদী (স.)-এর সঙ্গে বিয়ের অনুমোদন বা বৈধতা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। বরঞ্চ তাদের সঙ্গে যারা বন্ধুত্ব করবে তারা তাদের দলেবলে স্বয়ং আল্লাহ ঘোষণা করেছেন পবিত্র কুরআন মজিদের সুরা আল মায়েদাহ’এ। যারা আহলে কিতাবী ও উম্মতে মুহাম্মদী (স.)-এর মধ্যে বিয়ে বৈধ বলেন তাঁদের সুরা আল-মায়েদাহ-এর ৫১ নম্বর আয়াত এবং ৫ নম্বর আয়াত ও আয়াতের ব্যাখ্যা দৃষ্টির সামনে রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ করব।
এর পরেও কেউ আহলে কিতাবীদের সঙ্গে উম্মতি মুহাম্মদী (স.)-এর বিয়ে বৈধ বলার অর্থ তা পবিত্র কোরআন মজিদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও আল্লাহ্র অবাধ্য আচরণ করা নয় কি? আল্লাহ্র অবাধ্যদের শাস্তি কী যাদের পবিত্র কোরআন মজিদ সম্পর্কে একটুও ধারণা রাখেন তারা ভালোভাবেই জানেন।
বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য, পবিত্র কোরআন মজিদকে বোঝার জন্য আল্লাহ্তা’আলা সবাইকে তাওফীক দান করুন। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে সাহায্য করুন। আল্লাহ্ আমাদের কবুল করুন। আমীন।