হিন্দু/ সনাতনদের ধর্মগ্রন্থ বেদ, পুরাণ, উপনিষৎ, গীতা, মহাভারত, রামায়ণ -এর সর্বাধিক প্রাচিনতম কপি কোনটি এবং তা কোথায় ও কি ভাবে সংরক্ষিত রয়েছে এবং তা কতটা পুরাতন? ধর্মীয় প্রধান ও প্রামাণ্য গ্রন্থ গুলোর তথ্য উপস্থাপনের সময় দয়া করে নিচের বিষয় গুলো একটু খেয়াল করবেন। ১// সর্বপ্রথম হস্তলিখিত গ্রন্থের লিখনের তারিখ ও প্রাপ্তিস্থান ও লেখকের নাম ও বর্তমান সংরক্ষিত স্থান ও কতটা পুরাতন ইত্যাদি। ২// সর্বপ্রথম ছাপানো গ্রন্থের ছাপানোর তারিখ ও প্রাপ্তিস্থান ও লেখকের নাম ও বর্তমান সংরক্ষিত স্থান ও কতটা পুরাতন ইত্যাদি। ৩// একই ভাবে অন্য কোন ভাবে সংরক্ষিত হলে সেটার তারিখ ও প্রাপ্তিস্থান ও লেখকের নাম ও বর্তমান সংরক্ষিত স্থান ও কতটা পুরাতন ইত্যাদি। তথ্যগুলো কারো জানা থাকলে রেফারেন্স সহ উপস্থাপন করার অনুরোধ জানিয়ে রাখলাম। আর সেই সাথে রেফারেন্সের ওয়েব লিন্ক দেয়া সম্ভব হলে সেটাও দেওয়ার অনুরোধ জানালাম।
4271 views

1 Answers

আজকের বর্তমান যুগ হলো জ্ঞান বিজ্ঞান এর যুগ। এই সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সংসার ঈশ্বরের সৃষ্টি। এই সংসারের রচনা কোনো একদেশী সত্তা দ্বারা হয়েছে এটা কখনোই সম্ভব নয়। বেদ হলো জ্ঞান বিজ্ঞানের সাগর। বেদের এক একটা অক্ষর সত্য। বেদ পূর্ণ সত্য গ্ৰন্থ এবং ঈশ্বরীয় জ্ঞান কেননা কোনো মানুষের এতটাও ক্ষমতা নেই যে, এই সংসারের সমস্ত সত্য বিদ্যার একটা গ্ৰন্থ তৈরী করতে পারে। বেদে যেভাবে ঈশ্বর এবং সৃষ্টির রহস্যের বর্ণনা আছে তা অন্য কোনো মত বা সম্প্রদায়ের গ্ৰন্থে নেই। সুতরাং বেদ অপৌরুষেয় গ্ৰন্থ।সর্ব মান্য তথ্য এটাই যে চার বেদ হলো সংসারের সর্ব প্রাচীন ধর্ম গ্ৰন্থ। বেদের পাঠ, এবং বেদের অনুকূলে জীবনযাপন করাই হচ্ছে বৈদিক ধর্ম। বেদের প্রতি পূর্ণ নিষ্ঠা রেখে, বেদের অনুকূলে জীবন যাপন করলেই মানব জীবন সার্থক হবে।

কেনোপনিষদ(২.৫) এ বলা হয়েছে➔ ইহ চেদবেদীদথ সত্যমস্তি ন চেহিদাবেদীন্মহতী বিনষ্টিঃ।

অর্থাৎ এই মানব শরীরে যদি পরমতত্ত্বের বোধ এসে যায় তবে মানব-শরীর সার্থক হবে অন্যথায় মেনে নিতে হবে মহা বিনাশ বা সর্বনাশ হয়ে গেছে।


ঋকবেদ (১.১৬৪.৪৫) অনুসারে বেদ পরমেশ্বর থেকে উৎপন্ন এবং অনাদি নিত্য অপৌরুষেয়। মহা পন্ডিত সায়ণাচার্য তাঁহার বেদের ভাষ্যের প্রারম্ভে বলেছেন➡

“যস্য নিঃশ্বাসিতং বেদা যো বেদেভ্যোহখিলং জগৎ।

নির্মমে তমহং বন্দে বিদ্যাতীর্থ-মহেশ্বরম্।।”


অর্থাৎ যে চারিবেদ হইতে নিখিল বিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে, সেই বেদ-চতুষ্টয় যাহার নিঃশ্বাস-স্বরূপ এবং যিনি সববিদ্যার আধার সেই মহেশ্বরকে আমি বন্দনা করি।


বেদের প্রাদুর্ভাব  ➤

বেদের প্রাদুর্ভাব কিভাবে হয়েছিল তার প্রমাণ বেদেই আছে। যেমন➪

১. “তস্মাদ্দ্যজ্ঞাত্সর্বহুত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে।

ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্দ্যজুস্তস্মাদজায়ত।।”(যজুর্বেদ ৩১.৭)

ভাবার্থ ➨ হে মনুষ্য! যেই পরমাত্মা থেকে ঋকবেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ উৎপন্ন হয়েছে সেই পরমাত্মার উপাসনা করো।


২. “য়স্মাদৃচো অপাতক্ষন্ যজুর্য়স্মাদপকশন।

সামানি য়স্য লোমানী অথর্বাগিরসো মুখং।

স্কম্ভং তং ব্রুহি কতমঃ স্বিদেব সঃ।।”(অথর্ববেদ ১০.৭.২০)

শব্দার্থ ➠ (য়স্মাত্) যার থেকে (ঋচঃ) ঋচাগুলো-বিজ্ঞান প্রতিপাদক মন্ত্র (অপাতক্ষণ) বলা হয়েছে,(য়স্মাত)যার থেকে (য়জুঃ) যজুর্মন্ত্র- কর্ম প্রতিপাimage দক মন্ত্র (অপাকষন) নির্মিত হয়েছে। (সামানি) সামমন্ত্র- উপাসনা প্রতিপাদক মন্ত্র (য়স্য)যার (লোমানি) লোমতুল্য তথা (অথর্ব-অঙ্গিরসঃ) অঙ্গিরা ঋষির হৃদয়ে প্রেরিত অথর্ববেদের মন্ত্র (মুখম্) যার মুখের তুল্য।(তম্) সেই (স্কম্ভম্) সর্বাধার প্রভুর স্তবন করো।

.

ভাবার্থ ➨ যিনি সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর, তাঁর থেকেই (ঋচঃ) ঋকবেদ (য়জুঃ) যজুর্বেদ (সামানি) সামবেদ (অঙ্গিরসঃ) অথর্ববেদ,এই চারটি উৎপন্ন হয়েছে। বিভিন্ন রুপক এর মাধ্যমে বেদের উৎপত্তি ঈশ্বর করেছেন, অথর্ববেদ আমার মুখের সমতুল্য, সামবেদ লোমের সমান, যজুর্বেদ হৃদয়ের সমান এবং ঋকবেদ প্রাণের সমান।(ব্রুহি কতমঃ স্বিদেব সঃ) চারবেদ যার থেকে উৎপন্ন হয়েছে তিনিই সমস্ত জগতের ধারণকর্তা পরমেশ্বর তার নাম স্কম্ভ, তাঁকেই তুমি বেদের কর্তা বলে জানিও।

আরো পড়ুন

4271 views

Related Questions