তাফসীরগ্রন্থ সমূহকে কত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে?

তাফসীরগ্রন্থ সমূহকে কত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে?
2868 views

1 Answers

কুরআন মজীদের তাফসীর সামগ্রিকভাবে ছয়টি বিষয়ের উপর লিখা হয়েছে।

(১) আহকাম বিষয়কঃ
    এরুপ তাফসীরে বিশেষভাবে ঐসব আয়াত আলোচনা করা হয়েছে যেগুলো থেকে কেবল ফিক্‌হ্‌ সংক্রান্ত মাসআলা বের হতে পারে।
    যেমনঃ ইসমমাঈল ইব্‌ন ইসহাক র. কৃত আহকামুল কুরআন,

(২) সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণঃ
   এরুপ তাফসীরে কুরআন মজীদেরর বিশুদ্ধ বর্ণনা ভঙ্গী, আলংকারিক ভাষা শৈলী প্রকাশ করা হয়েছে।
   যেমনঃ তাফসীরে কাশ্‌শাফ।

(৩) ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণঃ
    এরুপ তাফসীরে নবী-রাসূল ও তাদের উম্মতগণের ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
    যেমনঃ কাসাসুল কুরআন।

(৪) আভিধানিক দৃষ্টিকোণঃ
    এরুপ তাফসীরে কুরআন মজীদের শব্দার্থ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
    যেমনঃ ইমাম রাগিব রা.-এর মুফরাদাতুল কুরআন।

(৫) ব্যাকারণগত দৃষ্টিকোণঃ
    এরুপ তাফসীরে কুরআন মজীদের ব্যাকারণগত আলোচনা করা হয়েছে।
    যেমনঃ ইমাম রাযী র.-এর ইরাবুল কুরআন।

(৬) কালাম বা আকীদাগত দৃষ্টিকোণঃ
    এরুপ তাফসীরে বিশেষভাবে সে সব আয়াতের আলোচনা করা হয়েছে যেগুলো থেকে আকীদাসমূহ বের করা হয়।
    যেমনঃ তাফসীরে কবীর।

আলচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে কুরআন মজীদের আহকাম সংক্রান্ত বিষয়ে যতকিছু লিখা হয়েছে তন্মধ্যে কিছু অতিরিক্ত যোগ করার স্থান নেই।
কুরআন মজীদের ফাসাহাত, বালাগাত, ই'জাযুল কুরআনসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে নাযিলের সময় থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত উলামায়ে কিরাম যা লিপিবদ্ধ করেছেন দুনিয়ার অন্য কোন জাতি এরুপ দৃষ্টান্ত দেখাতে সক্ষম হয়নি।

সূত্রঃ
তাফসীরে মাযহারী, ১ খন্ড (জুন-১৯৯৭), ভূমিকা,
লেখকঃ কাযী মুহাম্মদ ছানাউল্লাহ পানীপথী (রাঃ)
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

2868 views Answered

Related Questions

Next steps