আমি দশম শ্রেণীর একজন ছাত্র । ইদানিং আমি লেখাপড়াই মনযোগী হতে পারছি না । অজানা কারনে মন সবসময় ভারী থাকে । মেজাজ খারাপ থাকে বেশির ভাগ সময়... মাঝে মাঝে অতি মাত্রায় গরম হয়ে যায় । কারো সাথে হাসি মুখে কথা বলাতো দুরেরকথা.... এড়িয়ে চলতেই ভাল লাগছে । আমায় কেও বুঝতে চায় না.....না নিজেকেই বোঝানোর উপযোগী করে তুলতে পারিনা....এটা আমারই বুঝা দুঃসাদ্ধ হয়ে পরে । মাঝে মাঝেই মনে হয় দুনিয়ার সকলেয় খুব নিষ্ঠুর |আবার দুনিয়াবাসীর প্রতিনিয়ত চমকপ্রদ দৃশ্য আমায় মুগ্ধ করে তুলে । কিছু দিন আগেই ছিলাম খোলামেলা হাসিখুশীময় এই আমি । এখন আমি আবার স্বাভাবিক হতে চাই আছে কোন উপায় ? থাকলে জানান ভাই সকলকে সালাম জানায় tata good bye....
2978 views

3 Answers

এইটা বয়ঃসন্ধিকাল এর কারনে হয়।আমার ও হয়ছিলো। এখন আমি অনেক চুপচাপ হয়ে গেছি

2978 views

১. প্রথমত উপদেশ হলো নিজেকে কখনো ছোট মনে করা যাবে না।

২. তোমাকে অবশ্যই মিশুক হতে হবে বা হবার চেষ্টা করতে হবে (যেমন পাড়ার বড় ভাই বা ভাল সম্পর্কিত শিক্ষক বাবা মা ) । অর্থাৎ তোমার সাথে যার আন্তরিকতা বেশী তার সাথে তোমার সমস্যাগুলি আলোচনা করতে হবে।

৩. মন প্রফুল্ল রাখে এমন কাজ করতে হবে তোমার যা ভাল লাগে।

৪. সবসময় পজিটিভ মাইন্ডে চলতে হবে; যাতে করে সবসময় খারাপ চিন্তা থেকে দূরে থাকা যায়।

৫. সর্বশেষ চূড়ান্ত উপদেশ বা ঔষধ যদি তুমি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে থাক তাহলে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে।

2978 views

তোমার যা সমস্যা তা সাধারনত সকল মানুষরেই বয়ঃসন্ধিকালে হয়ে থাকে। মূলত ১৩ থেকে ১৯ বছরের যে বয়সটা তাকেই টীনজ (বয়ঃসন্ধিকাল) বলে। আর যারা এ বয়সটাতে আছে তাদের বলে টীনেজারস্। এই বয়সটাতে পরিচিত পৃথিবীটা অন্যরকম মনে হয়। বুকের ভিতর থাকে তীব্র আবেগ। সহজ বিষয়টাকে মনে হয় জটিল, জটিল বিষয়টাকে মনে হয় দুর্বোধ্য। শরীরে নতুন নতুন হরমোন খেলা করে, মনে নানা ধরণের ভাল-মন্দ চিন্তা ভাবনার উদয় হয়, তখন তাদের চিন্তার নিজস্ব জগৎকে পাল্টে দেয়।

 

তোমার জন্য আমার কিছু উপদেসঃ

তোমার সবচেয়ে যেসব কাজ করতে ভালো লাগে সেসব কাজে সময় ব্যয় করে নিজের মস্তিস্ককে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করবে। তাতে অন্য কোন চিন্তা মাথায় আসতে পারবে না। সবসময় হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করবে।

পৃথিবীকে জানার চেষ্টা করবে। জারা জীবনে সফল হয়েছে তাদের জীবনী পড়বে। আবার যারা জীবনে ব্যর্থ হয়েছে পারলে তাদেরও জীবনী পড়বে।

তোমার মনের কথা বা ভাবনা গুলো খুবই কাছের বা যাকে তুমি বিশ্বাস কর তার সাথে শেয়ার করবে।

এ সময় বড়দের উপদেশ ভালো লাগে না তবুও বড়দের উপদেশ মেনে চলার চেষ্টা করবে কারন তোমার বয়সটি তারা পার করে এসেছে। তাই তারা তাদের অবিজ্ঞতা থেকে তোমাকে পথ দেখাতে পারবে।

খেলাধুলা করবে।

অবসর সময় ঘরে বসে না থেকে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা করবে। তাতে বাস্তব অবিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে।

সিনেমা কম দেখার চেষ্টা করবে। কারন সিনেমায় সাধারনত অবাস্তব বা অযৌক্তিক কাহিনী দেখিয়ে থাকে যা বাস্তবের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। (কিছু ব্যতিক্রম আছে)।

নিজেকে সবসময় সৎ পথে চালানোর চেষ্টা করবে।

অসৎ বন্ধুদের এড়িয়ে চলার যথাসম্ভব চেষ্টা করবে।

যেকোন প্রকার মাদক দ্রব্যের সংস্পর্শে আসার চেষ্টা করবে না।

যেভাবেই পার কয়েকটি বছর নিজেকে খুবই সংযত রাখার চেষ্টা করবে। দেখবে আবার সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে।

 

 

 

2978 views

Related Questions