1 Answers
অনেকেই আছেন এস ই ও এর প্রতি আগ্রহী। কিন্তু কোথায় কিভাবে শুরু করবেন এবং এর ভবিষ্যৎ কি এ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা নেই। আশা করি আমার এই পোস্টটি আপনার ডিসিশন নেবার পথে আপনাকে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে। এস ই ও নিয়ে এই ব্লগে এটা আমার প্রথম পোস্ট। এই পোস্টে এস ই ও কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের কিছু উপলব্ধি এবং কিছু নেগেটিভ দিক তুলে ধরার চেস্টা করবো। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
এস ই ও কে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক
এস ই ও এক্সপার্টের ব্যাপক চাহিদাঃ এখন যেমন এস ই ও কে আলাদা প্রফেশন হিসেবে বিবেচনা করা হয় পূর্বে তেমনটা ছিলো না। তখন ওয়েব মাস্টার নিজেই ব্যাসিক কিছু এস ই ও এপ্লাই করে দিতেন। ব্যাস, কাজ শেষ!! কিন্তু দ্রুত সাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে গুগল তাদের স্ট্রাটেজিও চেঞ্জ করতে থাকে। বর্তমানে একটা সাইটের এস ই ও না করে গুগলের প্রথম দিকে আনা প্রায় অসম্ভব। তাই দিন দিন এস ই ও এক্সপার্টের চাহিদা বেড়েই চলেছে।
বাংলাদেশে এস ই ও এর বর্তমান অবস্থাঃ বর্তমানে বাংলাদেশে এস ই ও এর চাহিদা বেড়েই চলছে। হাজার হাজার লোক এখানে সুনামের সাথে কাজ করছে। আপনি যেকোন ট্রেনিং সেন্টারে গেলেই দেখতে পাবেন সেখানে অন্য ব্যাচের থেকে এস ই ও ব্যাচে স্টুডেন্ট বেশি। কারন এস ই ও তুলনামূলকভাবে কিছুটা সহজ। তাছাড়া অনেকে চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে এটাকে বেছে নেয়।
নির্ভরযোগ্য ইনকামের সোর্সঃ ওডেক্সের মতো সাইটে নতুনদের জন্য কাজ পাওয়া কিছুটা কষ্টকর তবে চেষ্টা চালিয়ে গেলে অসম্ভব না। তাছাড়া কাজ জানলে অনেক লোকাল কাজ পাওয়া যায়। ভালো কাজ জানলে মাসে ৩০০/৪০০ ডলার ইনকাম করা সম্ভব। বাংলাদেশেই শুধু এস ই ও করেই হাজার ডলারের উপরে ইনকাম করা লোকের সংখ্যাও নেহায়েত কম না।
কাজের ক্ষেত্রঃ আপনি কাজ জানলে আপনার কাজের অভাব হবে না। ভালো কাজ জানলে কাজ আপনাকে খুঁজে বেরাবে। বাংলাদেশের হাজার হাজার এস ই ও এক্সপার্টরা ওডেক্স, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, ইল্যান্সের মতো প্লাটফর্মে কাজ করে। এখানে আপনি ক্যাটাগরি ভিত্তিক কাজ বাছাই করে নিতে পারবেন আপনার পছন্দ মতো। ওডেক্স একাউন্টের ব্যাপারে বিস্তারিত টিউটোরিয়াল পাবেন এখানে (http://www.techtunes.com.bd/odesk/tune-id/213923)
উপার্জন ক্ষেত্রঃ আপনি পুরাপুরি ভাবে একজন এস ই ও এক্সপার্ট হলে আপনার উপার্জনের ক্ষেত্র বেড়ে যাবে। এস ই ও ক্যাটাগরিতে অনেক প্রকার কাজ আছে যার মাধ্যমে আপনি আপানার ক্যারিয়ার গরে নিতে পারেন। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপার্জন ক্ষেত্রের কথা তুলে ধরা হলো
ব্লগিং এর মাধ্যমেঃ ব্লগিং হচ্ছে অনলাইন ইঙ্কামের জনপ্রিয় সোর্স। এটা কিছুটা দীর্ঘমেয়াদী বলা যায়। সাথে সাথে ফল পাওয়া যায় না। ব্লগিং এর জন্য আপনার রাইটিং স্কিল ভালো হতে হবে। Google Adsense, Affaliate Marketing, প্রাইভেট এ্যাড, ই-বুক বিক্রয় ইত্যাদি বহুমূখী আয়ের সোর্স হতে পারে একটি ব্লগ সাইট। Google Adsense এর মাধ্যমে এর মাধ্যমে উপার্জনের পদ্ধতি সম্পর্কে ইতিমধ্যে আমরা অনেকেই জানি। একটা নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে কিছু ইউনিক পোস্ট দিলে গুগল এডসেন্স এপ্রোভ হয়। ভিজিটর আনার কাজে আপনাকে এস ই ও করতে হবে। এছাড়া এফেলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রোডাক্টের এড দিয়ে আপনি কমিশন হিসেবে একটা ভালো ইঙ্কাম করতে পারেন।
এফেলিয়েট মার্কেটিংঃ এফেলিয়েট মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয় আয়ের মাধ্যম। এখানে আপনি পণ্য বিক্রেতার লিঙ্ক আপনার সাইটে এড করার মাধ্যমে ইঙ্কাম করতে পারেন। তবে আপনার সাইটের মান ভালো হতে হবে। আপনার সাইটের ভিজিটর যদি আপনার রেফারেন্সে কোন পণ্য ক্রয় করে তাহলে আপনি একটা নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন। তবে ভিজিটর অনেক বর ফ্যাক্টর যার জন্য দরকার এস ই ও।
নিজস্ব পন্য বিক্রয়ঃ ই কমার্স সাইট তৈরি করে আপনি নিজের পণ্য বিক্রয় করতে পারেন। বর্তমানে মানুষ অনলাইন বেইজড কেনাকাটার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ভালো মানের এস ই ও করে আপনার সাইটে প্রচুর ভিজিটর আনতে পারলে আপনার পণ্যের বিক্রি বেড়ে যাবে।
এবার আসি কিছু নেগেটিভ দিক নিয়েঃ
**সার্চ ইঞ্জিন চাইলে যে কোন সময় তাদের এলগরিদম চেঞ্জ করতে পারে। এটা একটা এমব্রেসিং ব্যাপার। অনেক সময় দেখা যায় চেঞ্জের কারনে সাইটের পজিশন চেঞ্জ হয়ে যায়।
** সব পেশাতে ব্যাসিক কিছু রুল মেনে চলতে হয়। সত্যি বলতে এস ই ও তে ধরা বাধা কোন রুল নেই। এস ই ও সর্বদা পরিবর্তনশীল। পরিস্থিতি বুঝে স্টেপ নিতে হয়।
** এস ই ও একটা দীর্ঘমেয়াদী কাজ। এখানে তাৎক্ষনিক কোন রেজাল্ট পাওয়া যায় না। অনেক সময় দেখা যায় অনেকে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে প্রোজেক্টের উপর অনেক বড় প্রভাব পড়ে।
এনিওয়ে আমি এসব কিছু বিবেচনা করেই আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কথায় আছে চাঁদেও কলঙ্ক আছে। কিছু নেগেটিভ দিক সব কাজেই থাকবে। সেগুলো মোকাবেলা করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই আপনাকে সামনে এগোতে হবে। আমার এস ই ও শিখার পিছনে যার সব থেকে বড় অবদান এবং যার কাছে আমার হাতেখড়ি, আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই (https://www.facebook.com/ekramict)। উনি না থাকলে হয়তো আমার চলার পথটা এতোটা মসৃণ হতো না। আজ এ পর্যন্তই। শিগ্রই আসছি আরো কিছু এস ই ও টিপস নিয়ে। ভালো থাকবেন সবাই।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy
