1 Answers
চিংড়িকে সাদা সোনা বলে আখ্যায়িত করা হয়। গলদা চিংড়ি দশ পদবিশিষ্ট প্রাণী। বর্তমানে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে স্বাদু পানির দ্রুত বর্ধনশীল চিংড়ির মধ্যে গলদা চিংড়ি অতি পরিচিত। আমাদের দেশে ছোট বড় প্রায় সকলেরই প্রিয় এই মাছ। আপনি ইচ্ছা করলে বাড়ির পুকুর অথবা যেকোন ধরনের ছোটখাট জলাশয়ে এই মাছ চাষ করতে পারেন।
আসুন জেনে নেই কিভাবে আপনি আপনার বাড়িতে এই মাছ চাষ করবেন।
গলদা চিংড়ি চাষে পুকুর বাছাই
ক) বাড়িতে গলদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনি ছোট অথবা মাঝারি সাইজের যেকোন ধরণের পুকুর নির্বাচন করতে পারেন।
খ) এছাড়াও আপনি আপনার বাড়ীতে ছোটখাটো যে কোন ধরণের জলাশয়ে আপনি এই মাছ চাষ করতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে পুকুরের পাড় যেন সর্বদা মজবুত ও বন্যামুক্ত থাকে।
গ) এছাড়াও পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পড়ে ও পুকুরটি যেন জলজ আগাছামুক্ত থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গলাদা চিংড়ি চাষের সময়/মৌসুম
ক) বছররের যেকোন সময়েই আপনি গলদা চিংড়ি চাষ করতে পারেন।
খ) তবে খেয়াল রাখবেন যে গলদা চিংড়ি পোনা ছাড়ার ক্ষেত্রে আপনাকে সকাল অথবা সন্ধ্যা এই দুই সময়ের যেকোন একটি নির্বাচন করতে হবে।
গ) কারণ এসময় তাপমাত্রা সহনীয় অবস্থায় থাকে।তা না হলে মাছ মরে যেতে পারে। তবে গলদা চিংড়ির রেণু সাধারণত দুই ধাপে পাওয়া যায়।
ঘ) একটি হল মার্চ-এপ্রিল মাস এবং আর একটি হল সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস। এই দুই সময়ে গলদার রেণু চাষ করা উত্তম।
পোনা প্রদান ও সঠিক যত্ন
ক) গলদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে প্রথমে পোনা সংগ্রহ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার নিকটস্থ যেকোন নার্সারী হতে পোনা আহরন করতে পারেন।
খ) এছাড়াও আপনি প্রাকৃতিক ভাবে নদী কিংবা সমুদ্র থেকে গলদা চিংড়ি পোনা আহরণ করতে পারেন। তবে পোনা ছাড়ার পর আপনাকে পোনার সঠিক নিয়মে যত্ন নিতে হবে।
গলদা চিংড়ির চাষাবাদ পদ্ধতি/কৌশল
ক) প্রাকৃতিক পরিবেশে গলদা চিংড়ি স্বাদু পানি এবং ঈষৎ লবণাক্ত পানিতে পাওয়া যায়। গলদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে সঠিক নিয়ম অবলম্বন করতে হবে।
খ) পুকুরে পোনা ছাড়ার ক্ষেত্রে প্রথমে অক্সিজেন ব্যাগে পরিবহন কৃত পোনা ব্যাগ সহ পানিতে ভাসিয়ে রাখতে হবে।
গ) এরপর পরিবহনকৃত ব্যাগের পানি ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা একই মাত্রায় আনতে হবে।
ঘ) তারপর ব্যাগের মুখ খুলে পুকুরের পানি অল্প অল্প করে ব্যাগে দিতে হবে এবং ব্যাগের পানি অল্প অল্প করে পুকুরে ফেলতে হবে।
ঙ) ৪০-৫০ মিনিট সময় ধরে এরূপভাবে পোনাকে পুকুরের পানির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সন্ধ্যার সময় বাছাই করা সবচাইতে ভাল।
গলদা চিংড়ির খাবারের পরিমাণ ও প্রয়োগ
ক) গলদা চিংড়ি চাষে আপনাকে নিয়মিত উপযুক্ত খাবার প্রয়োগ করতে হবে। উপযুক্ত সুযোগ বা পরিবেশে খাদ্য ব্যবহার না হলে তা গলদা চিংড়ির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
খ) মাছ স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে শেওলা খেয়ে থাকে। তবে আপনি শামুক, ঝিনুক, কেঁচো, স্কুইড, কাঁকড়া, মাংস, ইত্যাদি দিতে পারেন।
গ) এছাড়াও চাল, ডাল, গম, ভূট্টা ইত্যাদি দানাদার উদ্ভিজ্জ খাদ্য চিংড়িকে দেয়া যায়। এছাড়াও গলদা চিংড়ি পচনশীল জৈব পদার্থ, প্রাণী, উদ্ভিদকণা ইত্যাদিও খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে।
গলদা চিংড়ির রোগ বালাই ও তাঁর প্রতিকার
ক) মনে রাখবেন চিংড়ির জীবন চক্রে এক বা একাধিক অস্বাভাবিক অবস্থা যা চিংড়ির স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে বা অবস্থাভেদে চিংড়ি মারা যায়।
খ) গলদা চিংড়ির পুকুরের পরিবেশ নষ্ট হলে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে চিংড়ি মারা যায়। এছাড়া এন্টেনা কাটা/ভাঙ্গা, লেজ পচা, গায়ে শেওলা হওয়া, মাথায় পানি জমা, মাথায় ক্রিমি হওয়া রোগ দেখা যায়।
গ) এসব রোগের সঠিক চিকিৎসা করা হলে চিংড়ি সুস্থ হয়ে যায়।
সার প্রয়োগ
ক) গলদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে পুকুরে বা জলাশয়ে সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ করতে হবে।
খ) মাঝেমধ্যে ইউরিয়া এবং অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হবে।
গলদা চিংড়ি চাষে রাক্ষুসে মাছ নিধন
ক) গলদা চিংড়ির চাষ করার ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে পুকুরের রাক্ষুসী মাছ দূর করতে হবে। যেমন শোল, টাকি, গজার, বোয়াল, মাগুর ইত্যাদি হল রাক্ষুসে মাছ।
খ) এই মাছ গলদা চিংড়ির পোনা খেয়ে ফেলে। যার ফলে চিংড়ির ভাল ফলন পাওয়া যায় না।
গ) তাই সর্বপ্রথম রাসায়নিক সারের মাধ্যেমে এই সকল মাছ দূরীভূত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে পুকুর বা জলাশয় সম্পূর্ণ শুকিয়ে ফেলতে হবে।
কিভাবে গলদা চিংড়ি মাছের যত্ন নিবেন
ক) গলদা চিংড়ি মাছ সাধারণত বৃদ্ধির সময় খোলস পাল্টায়। খোলস পরিবর্তনের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি, পিভিসি পাইপ, বিভিন্ন ধরণের উপকরণ দিয়ে ছাউনি তৈরি করে দিতে হবে।
খ) যাতে চিংড়ি সঠিকভাবে আশ্রয় পায়। তবে মনে রাখবেন এরা স্বজাতি ভোজী।
গ) খোলস পরিবর্তনের সময় নরম চিংড়িকে সুযোগ পেলে খেয়ে ফেলে। এছাড়াও গলদা চিংড়ি চাষ করার ক্ষেত্রে পুকুরটির পাড়ের উপরের অংশ নেট দিয়ে ঘিরে দিতে হবে।
ঘ) নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে বাইরে থেকে সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, কুঁচে, নার্সারী পুকুরের ভিতরে প্রবেশ করে রেনু পোনা খেতে না পারে।
গলদা চিংড়ির খাদ্য গুণাগুণ
ক) গলদা চিংড়ির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টিগুন বিদ্যমান।
খ) এছাড়াও চিংড়িতে অনেক ধরণের খাদ্য গুন রয়েছে। এটি খেতে অনাক সুস্বাদু।
কখন গলদা চিংড়ি মাছ সংগ্রহ করবেন
গলদা চিংড়ি মাছ যখন উপযুক্ত বয়স হবে এবং বড় হবে তখন চিংড়ি মাছ সংগ্রহ করতে হবে।
গলদা চিংড়ি আহরণ
ক) একটি পুকুর অথবা ছোটখাট জলাশয় হতে আপনি সঠিক নিয়মে চাষাবাদ করলে বেশকিছু গলদা চিংড়ি পেতে পারেন।
খ) যা আপনার পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে আপনি বাজারে বিক্রিও করতে পারেন।
তথ্যসুত্রঃ আধুনিক কৃষি খামার ।
বিঃদ্রঃ প্রশ্নে প্রজাতির নাম উল্লেখ না থাকাই গলদা চিংড়ি চাষের উত্তর দেয়া হয়েছে ।