4 Answers
নবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন মুনাফিকের নিদর্শন ৩ টি- ১/ ওয়াদা খেলাফ করা ২/ মিথ্যা বলা ৩/ আমানতের খিয়ানত করা
2987 views
Answered
মুনাফিক (আরবিতে: منافق, বহুবচন মুনাফিকুন) একটি ইসলামি পরিভাষা যার অর্থ একজন প্রতারক বা "ভন্ড ধার্মিক" ব্যক্তি। যে প্রকাশ্যে ইসলাম চর্চা করে; কিন্তু গোপনে অন্তরে কুফরী বা ইসলামের প্রতি অবিশ্বাস লালন করে। আর এ ধরনের প্রতারণাকে বলা হয় নিফাক (আরবি: نفاق)।
কুরআনের শতাধিক আয়াতে মুনাফিকদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং মুসলমানদের জন্য তাদের অমুসলিম শত্রুদের তুলনায় মুনাফিকদেরকে অধিক বিপজ্জনক শত্রু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
2987 views
Answered
-
মুনাফিক (আরবিতে: منافق, বহুবচন মুনাফিকুন):- একটি ইসলামি পরিভাষা যার অর্থ একজন প্রতারক বা "ভন্ড ধার্মিক" ব্যক্তি। যে প্রকাশ্যে ইসলাম চর্চা করে; কিন্তু গোপনে অন্তরে কুফরী বা ইসলামের প্রতি অবিশ্বাস লালন করে। আর এ ধরনের প্রতারণাকে বলা হয় নিফাক (আরবি: نفاق)। কুরআনের শতাধিক আয়াতে মুনাফিকদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং মুসলমানদের জন্য তাদের অমুসলিম শত্রুদের তুলনায় মুনাফিকদেরকে অধিক বিপজ্জনক শত্রু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
প্রকারভেদঃ নিফাক বা মুনাফেকী ২ প্রকার। যথা:-
-
বিশ্বাসগত নিফাক।
-
কর্মগত নিফাক।
-
বিশ্বাসগত নিফাকঃ এটি বড় কুফর, যা মুসলিম মিল্লাত থেকে বের করে দেয়। তা আবার ৬ প্রকার। যথা:-
-
রাসূলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা।
-
রাসূল যে দ্বীন নিয়ে এসেছেন তার কোনো কিছুকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা।
-
রাসূলকে ঘৃণা করা।
-
রাসূল যে দ্বীন নিয়ে এসেছেন তাকে ঘৃণা করা।
-
রাসূলের দ্বীনের ক্ষতিতে খুশি হওয়া।
-
রাসূলের দ্বীনের বিজয় অপছন্দ করা।
-
কর্মগত নিফাকঃ তা হলো ছোট কুফর, যা মুসলিম মিল্লাত থেকে বের করে না। তবে তা বড় ধরনের অপরাধ ও মহাপাপ। তন্মধ্যে রয়েছে সে আমল যা নবী (সাঃ) হাদীসে উল্লেখ করেছেন। যেমন:- তিনি বলেছেন, "৪টি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান, সে হবে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোনো একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। সেগুলো হলো:-
-
আমানত রাখা হলে, খিয়ানত করে।
-
কথা বললে, মিথ্যা বলে।
-
অঙ্গীকার করলে, ভঙ্গ করে।
-
বিবাদে লিপ্ত হলে, অশ্লীল গালি দেয়।"
-
তথ্যসূত্রঃ
-
আল লু'লু ওয়াল মারজান, ৩৭।
-
iHadis.com।
-
উইকিপিডিয়া।
-
মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য ও পরকালীন শাস্তি:- মিথ্যা কথা বলা, আমানতের খেয়ানত করা, ওয়াদা ভঙ্গ করা, ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে অশ্লীল গালি প্রদান করা। অর্থাৎ মিথ্যাবাদী, আমানতের খেয়ানতকারী,ওয়াদা ভঙ্গকারী আর ঝগড়ায় অশ্লীল গালি প্রদানকারী মুনাফিকের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন, মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নস্তরে থাকবে। জাহান্নাম ৭টি তথা জাহান্নামের স্তর ৭টি। জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তর বলতে সর্বনিকৃষ্ট জাহান্নামকে বুঝানো হয়েছে। মুনাফিকরা মুসলমান হয়েও সবসময় শয়তান বা কাফেরদের পক্ষে অবস্থান করে। এরা দ্বিমুখী নীতিবিশিষ্ট। অর্থাৎ এরা কথায় মুসলমানদের পক্ষে থাকে আর কাজে শয়তান বা কাফেরদের পক্ষে অবস্থান করে। এরা মুসলমানদের গোপন শত্রু, বিশ্বাসঘাতক। শয়তান মুসলমানদের সাথে প্রকাশ্যে শত্রুতা করে, তাই সে আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। পক্ষান্তরে, মুনাফিকরা মুখে বা কথায় আমাদের সাথে থাকলেও অন্তরে শত্রুতা পোষন করে এবং কাফেরদের সাথে মিলিত হয়ে আমাদের ক্ষতি করে। তাই এরা আমাদের গোপন শত্রু। প্রকাশ্য শত্রু থেকে সহজে বাঁচা গেলেও গোপন শত্রু থেকে সহজে বাঁচা যায় না। বাঙালি হয়েও যেমন রাজাকাররা পাকিস্তানী হানাদারদের সাথে মিলিত হয়ে বাঙালিদের ক্ষতি করেছে, ঠিক তেমনি মুসলমান হয়েও মুনাফিকরা কাফের, ইহুদি, নাসারাদের সাথে মিলিত হয়ে মুসলমানদের ক্ষতি করে। নবাব সিরাজ-উদ্দৌলার সেনাপতি হয়েও যেমন মীর জাফর ইংরেজদের সাথে মিলিত হয়ে সিরাজ-উদ্দৌলা ও বাংলার ক্ষতি করেছে, ঠিক তেমনি মুসলমান হয়েও মুনাফিকরা কাফের, ইহুদি, নাসারাদের সাথে মিলিত হয়ে মুসলমানদের ক্ষতি করে। মুনাফিকরা কথায় মুসলমানদের পক্ষে থাকে আর কাজে কাফের, ইহুদি, নাসারাদের পক্ষে অবস্থান করে। এই ঘৃণ্য দ্বিমুখী নীতিবিশিষ্ট হওয়ার কারণে মহান আল্লাহ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তথা মুসলমানের ঘরে জন্মলাভ করা সত্ত্বেও মুনাফিকদের জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে বা সর্বনিকৃষ্ট জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন। ধন্যবাদ।
2987 views
Answered