2 Answers

সেটা সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা

2806 views Answered

ইসলাম একটি আদর্শ ও সম্প্রীতির ধর্ম। যার প্রতিটি কাজ কল্যাণকর ও ইহকালীন সফলতার সুপান। ইসলামী শরীয়তে মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে এমন যে কোন কাজ হারাম ও নিষদ্ধই নয় বরং এটি ঈমানেরও অংশ। হাদীস শরীফৈ রাসূল সা. ইরশাদ করেন, ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে, সর্বোত্তম শাখা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা, সর্বনিম্ন শাখা রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া, আর লজ্জা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। ­-সহীহ মুসলিম, হা. ৩৫
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রাস্তার পার্শে বসে থেকো না। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমাদের তো এর প্রয়োজন হয়। পরস্পরে প্রয়োজনীয় কথা বলতে হয়।  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বসতেই যদি হয় তবে রাস্তার হক আদায় করে বস। সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহর রাসূল! রাস্তার হক কী? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাস্তার হক-
১. দৃষ্টিকে অবনত রাখা।
২. কাউকে কষ্ট না দেওয়া।
৩. সালামের জবাব দেওয়া।
৪. সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখা। -সহীহ বুখারী, হা. ৬২২৯

এই ঘটনা একাধিক হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতের গালিচায় গড়াগড়ি খেতে দেখলাম (অর্থাৎ শান্তি ও আরামের সাথে সুখময় জীবন কাটাচ্ছে)। মানুষের চলাচলের পথে একটি গাছ ছিল, যার কারণে চলাচলে কষ্ট হচ্ছিল। এ ব্যক্তি তা কেটে দিয়েছিল। (ফলে আল্লাহ খুশি হয়ে তাকে জান্নাতে দাখেল করেন।) -সহীহ মুসলিম, হা. ১৯১৪

রাসুল (সা.) বলেছেন, সেই ব্যক্তিই হচ্ছে প্রকৃত মুসলমান, যার হাত ও মুখ থেকে মুসলমান নিরাপদ থাকে। -সহীহ বুখারি, হা. ১০

তাই উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, বিনা কারণে রাস্তায় কাঁটা দেয়া ও রাস্তা বন্ধ করা যার কারণে মানুষের রাস্তায় চলাচল করতে কষ্ট হয় স্পষ্ট হারাম এবং এমন ব্যক্তি তার কৃত কর্মের কারণে তাওবা না করলে সে জাহান্নামী হবে।

2806 views Answered

Related Questions

Next steps