1 Answers

অনেক গুলো কারন পেয়াঁজের দাম বৃদ্ধির সাথে জড়িত। 

১. আমাদের দেশে উৎপাদিত পেয়াঁজ দিয়ে পুরণ হয় আমাদের চাহিদার ৩/৪ অংশ। অর্থাৎ বছরের ৮-৯ মাস। বাকি চাহিদা পূরনের জন্য আমাদের আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়।

২. পেয়াঁজ যেহেতু দ্রুত পচঁনশীল পণ্য তাই পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত থেকেই আমদানি আমাদের জন্য লাভজনক।

৩. বিভিন্ন সময়ের বন্যায় এবার ভারতেও পেয়াঁজের উৎপাদন কম হয়েছে বিধায় ভারত আমাদের পূর্বেই সতর্ক করেছিল এবং আমাদানী কালীন সময়ের শেষের প্রায় ২ মাস ৮০০ ডলার দাম দিতে হত প্রতি টন পেয়াঁজের জন্য। যেখানে অন্য সময় দিতে হত ৫০০-৬০০ ডলার। এই ২ মাস সময়ের মধ্যেও যদি সঠিক ব্যাবস্থা নেয়া হত তাহলেও এই সমস্যার সৃষ্টি হতো না।

৪. এই সময় কর্তৃপক্ষের গাফলতি কিংবা অবহেলা কিংবা অসচেতনতার কারনে পেয়াঁজ আমদানির অন্য কোন উৎসের সন্ধানের প্রয়োজন থাকলেও তা করা হয়নি।

৫. একই সময়ে আমাদের অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তাদের অসাধু হাতকে আরো প্রসারিত করে দেয়। যে কারনে অন্যান্য উৎস হতে পেয়াঁজ এর সর্বোচ্চ ক্রয় মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ৪১ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হয় ১০০-১৬০ টাকায়। 

৬. এই সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বিভিন্ন উৎস হতে চাহিদার চেয়ে বেশি পেয়াঁজ আমদানি হলেও উচ্চমূল্যের আশায় অসাধু ব্যবসায়িরা পেয়াঁজ স্টক করার দরুন সেই পেয়াঁজ বর্তমানে ২৮০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। 

৭. সরকার চাইলে মাত্র ১ ঘন্টার মধ্যে এই অসাধু সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব। যতদূর মনে হচ্ছে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। একটা প্রবাদ আছে 'সময়ের একফোড় আর অসময়ের দশফোড়।' সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে জনগণের এত ভোগান্তি পোহাতে হয় না। আর কার্গো বিমানে করে এত উচ্চ পরিমাণে কার্গো বিমানের ভাড়া দিয়ে পেয়াঁজ আমদানি করতে হতো না।

৮. সবচেয়ে বড় সমস্যা আমাদের জনগণের। কেননা পচঁনশিল দ্রব্য পেয়াঁজ আমরা যদি স্টক না করি কিংবা ১ সপ্তাহের জন্যও পেয়াঁজের ব্যবহার কমিয়ে দেই, তাহলেও পেয়াঁজের সিন্ডিকেট একটি বড় ধাক্কা খাবে, ফলশ্রুতিতে পেয়াঁজের দাম সহনশীল হতে বাধ্য।

একান্তই স্বল্পজ্ঞান প্রসূত নিজের মতামত। কাউকে অপমান কিংবা ছোট করা উদ্দেশ্য নয়। ভুল হলে মার্জনীয়। 

আজ নভেম্বর ১৭, ২০১৯।

ধন্যবাদ
2708 views

Related Questions