1 Answers
সাধারণ শিক্ষা নয় কারিগরি শিক্ষাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতার সম্মানিত সভাপতি, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, আমার সভাসদবৃন্দ সকলকে আমার আন্তরিক সম্ভাষণ আস্সালামু আলাইকুম।
❝সাধারণ শিক্ষা নয় কারিগরি শিক্ষাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি❞ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।
বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের দেশ সমূহের মত উন্নত করতে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। সাধারণ শিক্ষার অধীনে একজন ব্যক্তি তত্বীয় জ্ঞান লাভ করে। যা মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক।
কারিগরি শিক্ষায় হাতে কলমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হয়। একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সে দেশের শ্রমিক শ্রেণী বা কারিগর।
আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের শ্রমিক শ্রেণী বা কারিগররা সনাতনধর্মী এবং প্রযুক্তি ব্যবহার না করেই কাজ করে আসছে। তাদের কাজকে আরও গতিশীল এবং প্রডাক্টিভ করতে প্রয়োজন উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।
সুশিক্ষিত জনশক্তি বা কারিগররা দেশ গঠন করে নিজের হাতে। তাদের হাতকে যদি প্রশিক্ষণের আওতায় আরো সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করা হয় তাহলে বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নত দেশের সারিতে নিজের স্থান দখল করে নেবে।
আমরা যদি দেখি পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর তাদের কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের ফলে বর্তমান অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। তারা তাদের শিক্ষাব্যবস্থার ৪০ পার্সেন্ট কারিগরি শিক্ষার আওতাভুক্ত করতে পেরেছিল।
অতি দুঃখ ও পরিহাসের বিষয় বাংলাদেশের সরকারি হিসাব মতে কারিগরি শিক্ষার অধীনে ১২ পার্সেন্ট শিক্ষার্থী শিক্ষা লাভ করে কিন্তু বাস্তবে তার হিসেব অনেকটাই কম।
তবে আশার বিষয় বাংলাদেশ বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিচ্ছে। যার ফলাফলস্বরূপ আমরা সরকারিভাবে প্রতিশ্রুতি পেয়েছি প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গঠন করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৯ টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ৩৮৭ টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার যদি প্রাথমিক শিক্ষা অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পাস করার পর শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষা মুখি করতে পারে তাহলে অতিসত্বর বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সচেষ্ট হবে।
একজন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্পর্কে অনেকাংশেই নিশ্চিত থাকেন। যে কারণে তার চিন্তা, চেতনা, মনন, মেধা সকল ক্ষেত্রেই তার দেশ উন্নয়ন করার ভাবনা থাকে।
বর্তমানে আমরা যদি চাকরির বাজারের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব অনেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করা শিক্ষার্থীরা চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরে বর্তমানে রিক্তহস্ত।
এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষিত জনশক্তিকে যদি জনসম্পদে রূপান্তর করা যেত অর্থাৎ কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা যেত তাহলে হয়তো বেকারত্বের সমস্যা অনেকাংশেই কমে আসত।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে যদি শিক্ষিতদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে বাংলাদেশের অনেকে শ্রমজীবী মানুষ তাদের পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমজীবী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কে যদি কারিগরি শিক্ষায় শতভাগ শিক্ষিত করা যেত তাহলে তারা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে আরো ভালো কাজ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো সচল করতে পারত।
অতএব এসব আলোচনা থেকে বোঝা যায় সাধারণ শিক্ষা নয় কারিগরি শিক্ষা অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি।
ধন্যবাদ