আবুল হায়াতকে নিয়ে এত ট্রল হয় কেনো?
4 Answers
যেকারণে আবুল হায়াত ট্রলের শিকার হন সোস্যাল মিডিয়ায় এমন বহুত মানুষ পেয়েছি, যারা উঠতে বসতে আমাদের লেজেন্ডারি অভিনেতা আবুল হায়াতকে নিয়ে ট্রলে মেতে ওঠেন। একটা সময় ছিল যখন তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করতাম, এর কারণ কি। মানুষ আলাদা হলেও সবার উত্তর ছিল একই; জানেনা... সবাই করে তাই তারাও করে, তাদের ভালোই লাগে। তো সেই থেকে এব্যাপারে একটু তথ্য ঘাটাঘাটি শুরু করলাম এবং এর কিছু কারণ বের করতে সক্ষম হলাম। তবে সেগুলো শতভাগ সঠিক কিনা সেব্যাপারে গ্যারান্টি পাইনি, তবে প্রায় সঠিক ধরেই নিজের জ্ঞানপিপাসা মিটিয়ে ছিলাম। ইদানিংকালে অনেককে দেখি এই প্রশ্নটি তুলেন, এরকম একজন অভিনেতাকে নিয়ে কেন ট্রল করা হয়? মূলত লেখাটি তাদের জন্যেই, না জেনে মূর্খের মতো রঙ্গতামাশা না করে তারা অন্তত জেনেবুঝে ট্রল করুক। বলে রাখা ভালো, এই বিষয় নিয়ে অনেক বছর আগে তথ্য খুজেছিলাম, সময়ের হিসাবে প্রায় ৫-৬ বছর আগে। এখন পুরোপুরি মনেও নেই, তবে যেটুকু মনে আছে এই মধ্যরাতে তাই লেখার চেষ্টা করছি... . ★পয়েন্ট নং ১: একগুচ্ছ নীপবনের গল্প আবুল হায়াত অভিনয়ের পাশাপাশি খুব ভালোমানের একজন লেখক। ১৯৯১ সাল থেকে অমর একুশে বইমেলায় তিনি তার প্রথম বই প্রকাশ করেন। এপর্যন্ত তিনি প্রায় ২৬-২৮ টির মতো বই রচনা করেছেন। তবে তিনি সর্বপ্রথম বিতর্কের মুখে পড়েন ২০০১-০২ এর দিকে। সেবার একুশে বইমেলায় তিনি একটি এডাল্ট জোকসের বই প্রকাশিত করেন! তখন তার বয়স ৬০ এর কাছাকাছি, এই বুড়ো বয়সে এসে যখন সবাই তাকে এডাল্ট কনটেন্ট নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখলো, তখন তরুণসমাজ তাকে নিয়ে হাস্যরসে মেতে উঠলো। আবুল হায়াতের ছদ্মনাম "বাবুল বক্সী" এর সূত্রপাত মূলত ওখান থেকেই। . ★পয়েন্ট নং ২: হুমায়ুন আহমেদ জি হ্যাঁ, এদেশের সবথেকে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সেসময় মূলত কয়েক বছর আগে হওয়া সেই বইমেলা কান্ডের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছিলেন! হুমায়ূন আহমেদের একটি বিখ্যাত বই আছে, নাম সম্ভবত "হিমু রিমান্ডে"। ওখানে এরকম একটা ঘটনার উল্লেখ ছিল... কেউ একজন টিভিতে একটি রহস্যধর্মী অনুষ্ঠান দেখছে। অনুষ্ঠানে যখন টানটান উত্তেজনা, তখন দিলো বিরতি। এরপর চ্যানেলে শুরু হলো একের পর এক আবুল হায়াতের বিজ্ঞাপন। আবুল হায়াত একবার বলছে, সিংহ মার্কা ছাড়া শরীফ মেলামাইন কিনবেন না; এর পরের বিজ্ঞাপনে বলছেন আসল টিন দেখে কিনুন, অমুক টিন টিকে বেশিদিন; এরপরের বিজ্ঞাপনে তিনি আবার প্লাস্টিক পাইপের গুনগান গাইছেন.. ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। চ্যানেল জুড়ে তখন শুধুই আবুল হায়াতের বিজ্ঞাপন! হুমায়ুন আহমেদকে আরো এক জায়গায় এরকম একটা বক্তব্য দিতে শুনেছি, ঠিক কোথায় শুনেছি তা খেয়াল নেই। সেখানে বলা হয়েছিল, বছরের অন্তত একটা দিন আবুল হায়াতের জন্য রাখা দরকার। ঐদিন দেশের সব টিভিচ্যানেলে আবুল হায়াতের বিজ্ঞাপন দেখাবে, আবুল হায়াতের নাটক দেখাবে, আবুল হায়াত ও আরো কিছু টাকওয়ালা প্রতিযোগিদের নিয়ে রিয়েলিটি শো প্রচার করবে। এটা তো সবারই জানা, হুমায়ূন আহমেদের এক বিশাল ফ্যান-ফলোয়ার ছিল, এখনো আছে। এখন তাদের প্রিয় লেখক যখন আবুল হায়াত কে নিয়ে বিরক্ত, তখন তার ভক্তদের বিরক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। . ★পয়েন্ট নং ৩: থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর এই এছবিটা মূলত তাকে নিয়ে তৈরী হাস্যরসের পারফেক্ট বেইজটা গড়ে দেয়। কারণ পূর্বেরগুলির জন্য তিনি সমালোচিত হলেও সেগুলোর রেশ বেশিদিন টিকেনি। কিন্তু জনপ্রিয় এই ছবির রেশ আবুল হায়াত যেনো এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন! এছবিতে আবুল হায়াত যে চরিত্রটি রূপদান করেছেন তাকে আমরা প্রচলিত ভাষায় "লুচু বুড়া" বলে থাকি।তাকে নিয়ে মজা করতে থাকা মানুষেরা এই চরিত্রটির সাথে তার লেখা সেই এডাল্ট জোকসের বইয়ের যোগসাজশ খুজেঁ পান! এর সাথে যুক্ত হয় নতুন কিছু সমালোচক, যারা ঐ ছবি দেখে আবুল হায়াতকে "লুচু দাদু" হিসেবে চিনেছেন। যার ফলে তিনি আজও হাজারো মানুষ দ্বারা ট্রলের শিকার হন। . তবে একটা কথা সবাই স্বীকার করেন, যারা এই ঘটনাবলী জেনেশুনে আবুল হায়াত কে নিয়ে মজা করেন, তারা সবাই এই সিনিয়র অভিনেতাকে ভালোবেসেই মজা করেন। তার বড় একটা প্রমাণ পাবেন আবরারকে নিয়ে আবুল হায়াতের দেওয়া গতকালের (৯ই অক্টোবর) বক্তব্যের ভিডিওতে। যারা আবুল হায়াতকে নিয়ে ট্রল করেন, তারাই বেশি করে ঐ ভিডিও শেয়ার করছেন। বিভিন্ন ট্রলের পেইজ থেকেও ঐ ভিডিওটি শেয়ার করতে দেখলাম। স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সেলিব্রিটিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এগিয়ে এসেছেন ঘৃণ্য হত্যাকান্ড নিয়ে প্রশাসনের বিপক্ষে প্রশ্ন করে। তিনি দাড়িয়েছেন সাধারণ ছাত্রসমাজের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। ধন্যবাদ হায়াত ভাই। যাইহোক, গতকালকের সেই প্রতিবাদী বক্তব্যে প্রভাবে আবুল হায়াতকে নিয়ে ভবিষ্যতে ট্রলের পরিমাণ অনেক কমে যাবে। পরিশেষে বলতে চাই, এই লেখার মাধ্যমে আমি মোটেও আবুল হায়াতকে ছোট করার চেষ্টা করিনি। উনি দীর্ঘজীবী হোক, এই আশা ব্যক্ত করি। ভালো থাকবেন আবুল হায়াত। নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখবেন..
ওনার কোনো অপরাধ নেই । ঊনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত নাটককার , তাই তাকে নিয়ে মজা করার জন্য এরকম ট্রল করা হয় ।
হাস্যকর ও টেলেন্টেড মানুষকে নিয়ে ট্রল ভালো মানায়। আর ওনি ও অনেক মজার কথা বলেন আর ওই গুলাই বেশি ট্রল হয়।
যদিও চেহারা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক না, তবু উনার হাস্যজ্জ্বল মুখ- টাক মাথা এবং মজাদার কথাবার্তার কারণে মানুষ উনাকে নিয়ে মজা করে। উনার অভিনয় দেখলে বুঝবেন তা কৌতুক ও রসিকতায় ভরা, এজন্যও তাকে নিয়ে ট্রল বা সার্কাজম করে সাধারণ মানুষ।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy