1 Answers
জেল খানার অনেক বিষয় সাধারণ মানুষ জানে না। এমনকি আমিও সম্পূর্ণ ভাবে জানি না। তবে যা জানি তাই যদি উত্তরে লিখে সেটাই বড় হয়ে যাবে। তবে আমি চেষ্টা করছি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলো তুলে ধরতে।
(১) জেলের ভিতর অনেক ছোট ছোট জেল আছে। কারাগার একটা আলাদা দুনিয়া। এখানে আইনের বইতে যত রকম শাস্তি আছে সকল রকম শাস্তিপ্রাপ্ত লোকেই পাওয়া যায়। খুনি, ডাকাত, চোর, বদমায়েশ, পাগল-নানা রকম লোক এক জায়গায় থাকে।
(২)কয়েদিরাই কয়েদিদের চালনা করে ও কাজ করায়। কাজ বুঝিয়ে দিতে হয় আবার কাজ বুঝে নিতে হয়। কয়েদিদের ওপর যে অত্যাচার হয় বা মারপিট হয়, তাও কয়েদিরাই করে। ইংরেজের কায়দা, ‘কাঁটা দিয়েই কাঁটা তোলা হয়।
(৩) জেলখানায় কোন আসামীকে ডোকানোর পর তার কেনা বেচা হয়। আপনাকে দেখতে ধনী মনে হলে আপনার দাম হবে তুলনামূলকভাবে বেশি।
(৪) আপনাকে সেখানে কোন ওয়ার্ডেন এর নিকট থাকতে হবে এবং ওয়ার্ডেন তারাই হয় যাদেরকে বেশি দিনের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
(৫)দিনের নির্দিষ্ট দশ ঘন্টা বাদে বাকি সময় বন্দীদের রাখা হয় গ্রিলের ভেতর। সকালে তারা লকআপ থেকে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পায়। ওই সময় টুকুর মধ্যেই স্বল্প পরিসরে সেরে নিতে হয় গোসল ও ব্যক্তিগত কাজকর্ম।
(৬)সন্ধ্যার পরে কেউই বাইরে থাকতে পারে না। সন্ধ্যায় সকলকেই তালাবন্ধ করে দেওয়া হয় বাইরে থেকে। ভিতরেই পায়খানা-প্রশ্রাবখানা আছে। সন্ধ্যার পূর্বেই লাইন ধরে বসে খানা শেষ করতে হয়। তালা বন্ধ করে সিপাহিরা বাইরে পাহারা দেয়।
(৭)বন্দীরা সাধারণত বাংলাদেশের বিশেষ দিন যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের সময় ভাল খাবার পান।
(৮)যে যত বড় সন্ত্রাসীই হোক জেলখানায় সবাই আইন/নিয়ম মানতে বাধ্য। যদি কেউ আইন অমান্য করে, মারামারি করে তাহলে নিয়মভঙ্গকারীকে কঠিন শাস্তি পেতে হয়।
(৯)দুপুরে খাওয়ার পর বন্দীরা বেরিয়ে পড়ে খেলাধুলায়। মূলত সেলের ভেতরে কাটানো অমানবিক জীবন ভুলে থাকার জন্য বন্দিরা এই দশ ঘন্টাই সময় পান। রুটিনে বাঁধা এ সময় শেষে আবার তাদের ফিরে যেতে হয় কারাপ্রকোষ্ঠে, যেখানে ফিরতে চান না কেউই। সাধারণ বন্দীরা দিনের দশ ঘণ্টা বাইরে কাটানোর সুযোগ পেলেও, জঙ্গি ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের খোলা জায়গায় আসার সুযোগ দেয়া হয় না।
(১০)স্কুল কলেজের মতো কারাগারের ভিতরেও ঘণ্টা বাজাতে দেখা যায়। এক ক্লাস শেষ হয়ে নতুন ক্লাস শুরুর আগে যেমন ঘণ্টা বাজানো হয়, তেমনি কারাগারেও কয়েদিদের এক কাজ শেষ করে অন্য কাজ শুরু করার জন্য ঘণ্টা বাজিয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়।
আপনার চেনা যানা জেলখাটা ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলে এর থেকেই ভালো উত্তর দিতে পারবে৷