2 Answers
“যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে।” (সুরা আন-নাসর, আয়াত নং ১) এ ব্যাপারে প্রায় সকলেই একমত যে, এখানে বিজয় বলতে মক্কা বিজয় কে বোঝানো হয়েছে। (মুয়াসসার এবং ইবন কাসীর) আর বিজয় মানে কোনো একটি সাধারণ যুদ্ধে বিজয় নয়; বরং এর মানে হচ্ছে এমন একটি চুড়ান্ত বিজয়, যার পরে ইসলামের সাথে সংঘর্ষ করার মত আর কোন শক্তির অস্তিত্ব দেশের বুকে থাকবে না এবং একথাও সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, বর্তমানে আরবে এ দ্বীনটিই প্রাধান্য বিস্তার করবে। (আদওয়াউল বায়ান)
যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে। (সুরা আন- নাসরঃ ১) ইকরিমা ও মুকাতিল (রহঃ) বলেনঃ বিজয় বলতে ইয়ামানী প্রতিনিধি দলের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা তাদের প্রায় সাতশত লোক মুসলিম হয়ে কেউ আযান দিতে দিতে, কেউ কুরআন তেলাওয়াত করতে করতে, কেউ কালেমা পড়তে পড়তে মদীনায় এসে উপস্থিত হয়েছিল। এতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খুবই খুশি হন। কিন্তু উমার ও আব্বাস (রাঃ) কাঁদতে থাকেন। (তাফসীর কুরতুবী) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, বিজয় এসেছে, সাহায্য এসেছে এবং ইয়ামানবাসীরাও এসেছে। জনৈক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! ইয়ামানবাসী কারা? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ইয়ামানবাসীরা আগমন করেছে, এদের হৃদয় খুবই নরম। ঈমান ইয়ামানবাসীদের মাঝে, বুঝশক্তি ইয়ামানবাসীদের এবং দূরদর্শিতা ইয়ামানবাসীদের মাঝেই। (সহীহ মুসলিমঃ ৫২) উক্ত সূরার আয়াতে দুটি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। একটি ইঙ্গিত হলোঃ আল্লাহ তাআলার এ সাহায্য বলবত থাকবে এমনকি তা আরো বৃদ্ধি পাবে যদি মানুষ প্রকৃত ঈমান ও আমলে প্রতিষ্ঠিত থাকে। এর প্রমাণ খুলাফায়ে রাশেদা ও তার পরবর্তী যুগ। আল্লাহ তাআলার সাহায্য নিয়েই খুলাফায়ে রাশেদাগণ ও পরবর্তী মুজতাহিদগণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। দ্বিতীয় ইঙ্গিত হলোঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ইনতেকালের সময় নিকটবর্তী। এজন্য তিনি সালাতের মাঝে রুকু ও সিজদাতে বেশি বেশি তাসবীহ পাঠ করতেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী বয়স্ক মুজাহিদদের সাথে উমার (রাঃ) আমাকেও শামিল করে নিতেন। এ কারণে কারো মনে সম্ভবত অসন্তুষ্টির ভাব সৃষ্টি হত। একদা তাদের মধ্যে একজন আমার সম্পর্কে মন্তব্য করে বললঃ সে কেন আপনার সাথে আসে? আমাদেরও তো তার মত সন্তান আছে। উমার (রাঃ) বললেনঃ তোমরা তো তার ব্যাপারে ভাল করেই জান। একদিন তিনি সবাইকে ডাকলেন এবং আমাকেও তাদের সাথে প্রবেশ করালেন। আমি বুঝতে পারলাম আজ তিনি তাদেরকে কিছু দেখাতে চান, উমার (রাঃ) সবাইকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা (إِذَا جَا۬ءَ نَصْرُ اللّٰهِ وَالْفَتْحُ) এ আয়াতটির ব্যাপারে কী বল? তাদের কতকজন বললেনঃ যখন বিজয় ও সাহায্য আসবে তখন আমাদেরকে তাসবীহ, তাহলীল ও ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আর কতকজন চুপ থাকলেন, কোন কথা বললেন না। এবার তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি এরূপই বল, হে ইবনু আব্বাস? আমি বললামঃ এ সূরায় নাবী (সাঃ)-এর পরলোক গমনের কথা বলা হয়েছে। এটা জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তাঁর ইহলৌকিক জীবন শেষ হয়ে এসেছে। এ কথা শুনে উমার (রাঃ) বললেনঃ আমিও তাই বুঝেছি (সহীহ বুখারীঃ ৪৯৭০)।