এই দোয়ার আরবি কি হবে?

হে আল্লাহ! রুজিরোজগারে বরকত দাও নয়তো মৃত্যু দাও। অভাব অনটন দিয়ে আমাকে আর অত্যাচার করো না।

2877 views

3 Answers

ভাই আমার মনে হয়না যে এটি সহিহ দোয়া।হতে পারে যঈফ।তাই এটি পড়ার দরকারনেই বলে আমি মনে করি।

2877 views Answered

হে আল্লাহ! রুজি রোজগারে বরকত দাও এরকম দোয়া নির্দিধায় করতে পারেন। কিন্তু আমায় মৃত্যু দাও, অভাব অনটন দিয়ে আমাকে আর অত্যাচার করো না। এরকম কথা বলা যাবেনা। কেননা, আল্লাহ তায়ালা-তো অত্যাচারী নয়। আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো জুলুম করেন না, মানুষই নিজেদের প্রতি জুলুম করে থাকে। (সুরা ইউনুস, আয়াতঃ ৪৪) আর তিনি অভাব অনটন দিয়ে থাকেন বান্দাদের পরিক্ষা করার জন্য। মানুষ বিপদ-আপদ, রাগ-ক্ষোভ, অভাব-অনটন, দমন-পীড়ন, অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি হারিয়ে অথবা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে নিজেই নিজের মৃত্যু কামনা করে থাকে। এভাবে নিজের মৃত্যু কামনা করার বৈধতা নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিধি-নিষেধ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করবে না আর মৃত্যুর পূর্বে তজ্জন্যে দোয়াও করবে না। কেননা মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিনের জীবন কল্যাণ বা নেকিই বৃদ্ধি করে। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কোনো বিপদের কারণেই কোনো অবস্থাতেই মৃত্যু কামনা করো না। যদি একান্ত এর আকাঙ্ক্ষা করতেই হয় এবং এ ছাড়া কোনো গত্যন্তর না থাকে তবে এতটুকু বলবে, হে আল্লাহ! যতদিন আমার জীবন উত্তম হয় ততদিন জীবিত রাখুন, আর যখন মৃত্যু উত্তম হয় তখন মৃত্যুর মুখে পতিত করুন। (বুখারি ও মুসলিম) মুমিন মুসলমান শহীদ-ই মৃত্যু কামনা করতে পারবে। এছাড়া মৃত্যু কামনার ধরন হোক এমন, যেভাবে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছিলেন, হে আল্লাহ! আমাকে ইসলামের অবস্থায় মৃত্যু-মুখে পতিত করো এবং তোমার নেককার বান্দাগণের সঙ্গে একত্রিত করো।

2877 views Answered

আমি চাইলে এর আরবী'টা আপনাকে দিতে পারতাম!কিন্তু আপনার যেনে রাখা উচিৎ,রাগের বসত আল্লাহর দরবারে এমন দোয়া করা উচিৎ নয়৷

এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন-নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো জুলুম করেন না, মানুষই নিজেদের প্রতি জুলুম করে থাকে। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৪৪)

তাফসির :এর আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, সত্য গ্রহণের জন্য মানুষকে চোখ-কান দেওয়া হয়েছে।

তবু তারা সত্য গ্রহণ করে না। সত্যের বাণী হৃদয় দিয়ে অনুভব করে না। এর ফলে তারা নিজেদের ইহকাল ও পরকালের ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। এ ক্ষতির জন্য আল্লাহ দায়ী নন। আল্লাহ কারো প্রতি অবিচার করেন না। মানুষই নিজেদের প্রতি অবিচার করে। জেনেবুঝেও তারা নিজেদের অকল্যাণের পথে পরিচালিত করে। আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন মানসিক দক্ষতা দিয়েছেন যেমন—বোঝার ক্ষমতা, জানার ক্ষমতা, অনুধাবন করার ক্ষমতা। জীবনকে সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিময় করার জন্য আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন।

তাঁরা মানুষকে সৎপথের সন্ধান দিয়েছেন, সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। এরই সঙ্গে তিনি মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগিয়ে একদল ইমান আনে, আর অন্য দল অবিশ্বাসী রয়ে যায়৷ 

আপনি যদি রিজিকে কষ্ট পান,তাহলে আগে নিজের গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং আল্লাহ ও আল্লাহর নবীর বলে দেওয়া পন্থায় দোয়া করুন৷ 

সুরা নুহ-এ আল্লাহ তাআলা তার অনুগত বান্দাদের রিজিকে বরকত লাভের জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং প্রবাহিত করবেন নদীনালা।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

কুরআনের দিক নির্দেশনার আলোকে বুঝা যায়, রিজিকে বরকত লাভের কুরআনি আমিল হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। যারা নিয়মিত বেশি বেশি ইসতেগফার পড়বে তাদের জন্য রিজিকের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

কয়েকটি ছোট ছোট ইসতেগফার

> শুধু (اَسْتَغْفِرُ اللهِ) `আসতাগফিরুল্লাহ’ বেশি বেশি পড়া।> رَبِّغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ- রাব্বিগফির, ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।

অথবা পড়ুন- اللَّهُ لَطِيفٌ بِعِبَادِهِ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ

উচ্চারণ: আল্লাহু লাতীফুম্ বি-ইবাদিহি ইয়ারজুকু মাইয়্যাশায়ু, ওয়া হুয়াল কাভিয়্যুল আজিজ।

অর্থ: আল্লাহতায়ালা নিজের বান্দাদের প্রতি মেহেরবান। তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী। -সূরা শুরা: ১৯

আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুক৷    

2877 views Answered

Related Questions

Next steps