আমি একজন বিবাহিত মেয়ের প্রেমে পরে গেছি? আমি তাকে খুব পছন্দ করি? কিন্তু আমার পরিবার এটাকে কোন দিন মেনে নিবে না, আমি কিরব বুঝতে পারছি না। কিভাবে কি করা যায় বলবেন কি?
2886 views

1 Answers

তালাক প্রাপ্ত বিবাহিতা বিয়ে করাতে কোন সমস্যা নেই৷ না ইসলামে কোন সমস্যা, না সমাজে৷ তবে অবশ্যই আপনার খেয়াল রাখা উচিত -তার ধর্মীয় অবস্থা৷এ বিষয়টা খেয়াল না রেখে আপনি যদি টাকা/রূপের নেশায় সিদ্ধান্ত নেন, তবে অনেক বড় ও স্থানী বিপদে পড়বেন৷ ★জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শাদী করলে, রাসূলল্লাহ (সাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন মেয়ে শাদী করেছ? আমি বললাম, পূর্ব বিবাহিতা রমণীকে বিয়ে করেছি। তিনি বললেন, কুমারী মেয়ে এবং তাদের কৌতুকের প্রতি তোমার আগ্রহে নেই? (রাবী বলেন) আমি এ ঘটনা আমর ইবন দীনার (রাঃ)-কে অবগত করালে তিনি বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী (সাঃ) আমাকে বলেছেন, তুমি কেন কুমারী মেয়েকে শাদী করলে না, যাতে তুমি তার সাথে এবং সে তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতে পারত? সহীহ বুখারি  অধ্যায়ঃ  বিয়ে-শাদী  হাদিস নাম্বারঃ  ৪৭০৯ এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, ইসলামে কোন বিধবা বিবাহ করা নিষেধ নয়৷হ্যা!আপনি পারলে কুমারী করুন, এটা ইসলামও বলে৷ একটা মেয়ের বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকে। মেয়েরা চায় এমন একজনকে যে কোনোদিন তাকে ছেড়ে দেবে না, সারাজীবন শক্ত করে তার হাতটা ধরে রাখবে। কিন্তু তবুও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে আমাদের জীবনে। কখনও কখনও আজীবনের জন্য বেছে নেওয়া সঙ্গীটির সাথে মাঝ পথেই বিচ্ছেদ হয়ে যায়। খুব কঠিন একটা মুহূর্ত। অতি কষ্টের সেই সিদ্ধান্ত।     সাহাবীদের সময়ে একটা সুন্দর সিস্টেম ছিল। সাহাবারা কোনো নারীকে একা ফেলে রাখতেন না। সে বিধবা হোক, তালাকপ্রাপ্তা হোক, তার আবার বিয়ে হত। আমরা দেখি, আল্লাহর রাসূলের (সা) যুগে কোনো কোনো সাহাবিয়াতের তিন-চার-পাঁচবারও বিয়ে হয়েছে! আমাদের সময়ে একজন মেয়ের এতবার বিয়ের কথা ভাবাই যায় না। আবু বকর, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুম, উনাদের মত সেরা সেরা সাহাবীরাও তালাক দিয়েছেন, একাধিক বিয়ে করেছেন। তাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীদের আবার অন্য সাহাবীরা বিয়ে করে নিয়েছেন। কেউ এমন ভাবে নি, "নিশ্চয়ই অমুক মেয়ের দোষ আছে, নইলে কি আবু বকর-উমারের মত মানুষ তাকে তালাক দেয়! এমন মেয়েকে কে বিয়ে করে!"  মানুষের কিছু চাহিদা বাবা-মা-ভাই-বোন-সন্তান-সন্ততি দ্বারা পুরা করা যায় না। একজন সঙ্গী লাগে। সুতরাং আপনার কাজ খারাপ না, বরং প্রশংসনীয় ৷ এসব কথা আপনার আব্বু আম্মুকে এমন কাউকে দিয়ে বুঝান,যার কথা ওরা শুনবে৷ সর্বপ্রথম আপনি ঐ ব্যাক্তিকে বুঝান,হাদিস -কোরানের আলোকে৷ সবশেষে বলবো-আব্বু আম্মুর/পরিবারের বিরুদ্ধে  যায়েন না৷ বুঝান,বুঝুন,আবেগে নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিন৷ পরামর্শ নিতে কার্পণ্য করবেন না৷ আশা করি আমার কথায় আপনার কিছুটা উপকার হবে৷ ধন্যবাদ                 

2886 views

Related Questions