1 Answers


প্রাইজবন্ড হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার কতৃক প্রবর্তিত এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক পরিচালিত এক ধরণের কাগজের মুদ্রা। অন্য কথায় প্রাইজ বন্ড মুলত সরকারের প্রতি জনগণের একটি সুদ মুক্ত বিনিয়োগ। প্রাইজবন্ড প্রথম চালু হয় ১৯৫৬ সালে আয়ারল্যান্ডে, আর বাংলাদেশ এ চালু হয় ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু হয়, তারপর ১৯৯৫ সালে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু করা হয়। ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু হওয়ার পর পূর্বের ১০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড গুলো ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। প্রাইজবন্ড অনেকটা লটারির মত। কিন্তু এটা লটারি না। লটারি যেমন একবার ড্র হয়ে গেলে সেটার আর মেয়াদ থাকেনা এবং লটারিটির মূল্যও থাকেনা। অর্থাৎ লটারিতে না জিতলে পুরো টাকাটা আপনার লস। এদিকে প্রাইজবন্ড এর ড্র হয়ে যাওয়ার পরও এর মেয়াদ শেষ হয়না। পরবর্তী ড্র এর সময়ও এর মেয়াদ থাকে। প্রাইজবন্ড এর কয়েকবার ড্র হওয়ার পরও, আপনি চাইলে সেগুলো ভাঙ্গিয়ে আবার টাকা নিয়ে আসতে পারবেন। ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয় বছরে চারবার: ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর। বন্ড কেনার দুই মাস পার হওয়ার পর প্রাইজবন্ড ড্রর আওতায় আসে। ড্র অনুষ্ঠানের দুই বছর পর্যন্ত পুরস্কারের টাকা দাবি করা যায়। এর মধ্যে কেউ দাবি না করলে পুরস্কারের অর্থ তামাদি হয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। আপনি 'ড্র' এর ফলাফল দেখতে পারবেন পত্রিকায় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটে। আর যদি প্রাইজ বন্ডে পুরস্কার না পান, তবে যে কোন সময়ে প্রাইজ বন্ডের সমমূল্যের টাকা সরকারি/বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে অথবা পোস্ট অফিসেও ভাঙ্গাতে পারবেন। প্রাইজবন্ড এর পুরষ্কারঃ (ক) ৬,০০,০০০ টাকার প্রথম পুরস্কার একটি (খ) ৩,২৫,০০০ টাকার দ্বিতীয় পুরস্কার একটি (গ) ১,০০,০০০ টাকার তৃতীয় পুরস্কার দু'টি (ঘ) ৫০,০০০ টাকার চতুর্থ পুরস্কার দু'টি ও (ঙ) ১০,০০০ টাকার পঞ্চম পুরস্কার চল্লিশটি। প্রাইজ বণ্ডের বাহকই বণ্ডের মালিক। এর কোন মালিকানা নেই। বন্ড কিনতে কোনো রকম জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে না তবে পুরস্কারের টাকা তুলতে গেলে বন্ডের রশিদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, নমিনি এবং প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সনাক্তকারীর স্বাক্ষর লাগবে। ধন্যবাদ

সূত্রঃ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।

2754 views

Related Questions