3 Answers
যে অলংকার সাধারণত মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তা পুরুষদের জন্য ব্যবহার বৈধ নয়। যেমনঃ গলার চেইন, কানের দুল, হাতের বালা ইত্যাদি পুরুষরা পরতে পারবে না। কেননা, তাতে মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। আর, আল্লাহর রাসুল (সঃ) নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন। এক বর্ণনায় আছেঃ "আল্লাহর রাসুল (সঃ) মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে অভিশাপ করেছেন।" (বুখারী) সর্বসাপেক্ষে সোনার আংটি পুরুষের জন্য ব্যবহার করা একেবারেই হারাম। এমনকি! রাসূল (সঃ) কোনো পুরুষের হাতে সোনার আংটি দেখলে তার ওপর সামান্য খানি ক্রুদ্ধ হতেন। "হযরত আবূ সালাবা খুশানী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একবার তাঁর হাতে সোনার আংটি দেখলেন। তখন তিনি তাঁর লাঠি দ্বারা তাতে আঘাত করতে লাগলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) অন্য মনস্ক হলেন, তখন তিনি তা ফেলে দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ আমি তোমাকে কষ্ট দিলাম এবং তোমার ক্ষতি করলাম।" (সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৫১৯০) পুরুষদের অলংকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি হাদীস হলোঃ হযরত বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদের সাতটি জিনিসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেনঃ সোনার আংটি, মোটা ও পাতলা এবং কারুকার্য খচিত রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে এবং কাস্সী ও মীসারাহ কাপড় ব্যবহার করতে। আর তিনি আমাদের আদেশ করেছেনঃ আমরা যেন জানাযার পশ্চাতে যাই, পীড়িতের সেবা করি এবং সালামের প্রসার ঘটাই।" (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৫০) তবে, পুরুষদের জন্য রুপার আংটি ব্যবহার করা যায়েজ। কেননা রাসূল (সঃ) ও নিজহাতে রূপার আংটি ব্যবহার করতেন। " হযরত ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (সঃ)-এর ডান হাতে একটি রৌপ্যের আংটি ছিল, যা একের পর এক সাহাবীগণ পড়েছিলেন৷" (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৭৩)
পুরুষের জন্য সোনার চেন, ঘড়ি, আংটি, বোতাম, কলম ইত্যাদি ব্যবহার বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেন, “সোনা ও রেশম আমার উম্মতের মহিলাদের জন্য হালাল এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে।” (তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত ৪৩৪১ নং)
ইবনে আব্বাস (রঃ) হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহ্র রাসুল (সঃ) এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখলেন। তিনি তাঁর হাত থেকে তা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, “তোমাদের কেউ কি ইচ্ছাকৃত দোযখের আঙ্গারকে হাতে নিয়ে ব্যবহার করে?”
অতঃপর নবী (সঃ) চলে গেলে লোকটিকে বলা হল, ‘’তোমার আংটিটা কুড়িয়ে নিয়ে অন্য কাজে লাগাও। (অথবা তা বিক্রয় করে মূল্যটা কাজে লাগাও।) কিন্তু লোকটি বলল, “আল্লাহ্র কসম! আমি আর কক্ষনো তা গ্রহণ করব না, যা আল্লাহ্র রাসুল (সঃ) ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন।” (মুসলিম ২০৯০ নং)
প্রকাশ থাকে যে, ব্যতিক্রমভাবে পুরুষের জন্য সোনার নাক বাঁধার অনুমতি রয়েছে ইসলামে। সাহাবী আরফাজার নাক কাটা গেলে নবী (সঃ) তাঁকে সোনার নাক বানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। (আহমাদ ১৮৫২৭, আবূ দাঊদ ৪২৩২, তিরমিযী ১৭৭০, নাসাঈ ৫১৬১ নং)
প্রয়োজনে সোনার তাঁর দিয়ে দাঁত বাঁধতে অথবা সোনার দাঁত বাঁধিয়ে ব্যবহার করাতেও অনুমতি আছে শরীয়তে।
পক্ষান্তরে চার আনা সোনার আংটি ব্যবহারের বৈধতা শরীয়তে নেই। বিপদ প্রয়োজনে যে কোন স্বর্ণটুকরা হাতে না রেখে সাথেও তো রাখা যায়।
প্রকাশ থাকে যে, সোনা দিয়ে পালিশ করা জিনিসেও যেহেতু সোনা থাকে, সেহেতু টা পুরুষের জন্য ব্যবহার বৈধ নয়। (ইবনে জিবরীন)
( তোরণ)