1 Answers
কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। যাকে হত্যা করা হবে সে কালিমা পড়া মুসলিম হোক চাই অন্যান্য ধর্মের অনুসারী হোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবীরা গোনাহর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা এবং কোন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা। (বুখারীঃ ৬৮৭১ সংক্ষিপ্ত) আল কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ এ কারণেই আমি বানী ইসরাঈলের জন্য বিধান দিয়েছিলাম যেঃ যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা যমীনে সন্ত্রাস সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে সে যেন তামাম মানুষকেই হত্যা করল। আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন তামাম মানুষকে বাঁচালো। তাদের কাছে আমার রসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিল, এরপরও তাদের অধিকাংশই পৃথিবীতে বাড়াবাড়িই করেছিল। (সূরা মায়েদাঃ ৩২) আদম (আঃ)-এর পুত্র কাবীল-হাবীলকে হত্যা করার কারণে আল্লাহ তাআলা বানী ইসরাঈলের ওপর বিধান দিলেন যে, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা অথবা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করা সকল মানুষকে হত্যা করার শামিল। আর কাউকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা সকল মানুষকে বাঁচানোর শামিল। এ বিধান শুধু বানী ইসরাঈলের জন্য সীমাবদ্ধ নয় বরং আমাদের জন্যও প্রযোজ্য। সুলাইমান বিন আলী আররিবয়ী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি হাসান বাসরীকে জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আবূ সাঈদ! এ আয়াতের বিধান বানী ইসরাঈলের মত আমাদের জন্যও কি প্রযোজ্য? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সে সত্তার শপথ যিনি ছাড়া কোন মাবূদ নেই। এ বিধান যেমন বানী ইসরাঈলের জন্য ছিল তেমনি আমাদের জন্যও প্রাযোজ্য। বানী ইসরাঈলের রক্তের চেয়ে আমাদের রক্তের মর্যাদা কোনক্রমেই কম নয়। (ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর, তাবারী) হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতার শাস্তি প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে ইচ্ছাপূর্বক হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম। যাতে স্থায়ীভাবে থাকবে, তার উপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিসম্পাত। আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। (সুরা নিসাঃ ৯৩) আল্লাহ তাআলা বলেন, কোন মুমিন অন্য কোন মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা সঙ্গত নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনব যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া সত্যিকার কোন মাবূদ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল ও বান্দা তবে তার রক্ত তিনটি কারণ ছাড়া বৈধ নয়। ১. হত্যার কারণে হত্যা করা। ২. বিবাহিত ব্যভিচারকারী এবং ৩. মুরতাদ। (সহীহ বুখারীঃ ২৮৭৮) তবে ভুলবশত যদি কোন মুমিন কোন মুমিনকে হত্যা করে তাহলে তার ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত বিধান জারী করেছেনঃ ১. ভুলবশত মুমিনকে হত্যা করলে একজন ক্রীতদাস আযাদ ও নিহত পরিবারকে দিয়াত প্রদান করতে হবে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মাফ করে দিলে আলাদা কথা। অর্থাৎ কোন কিছু তাকে দিতে হবে না। ২. নিহত ব্যক্তি শত্রু পক্ষের হলে এবং মুমিন হলে একজন ক্রীতদাস আযাদ করতে হবে। ৩. আর যদি নিহত ব্যক্তি এমন গোত্রের হয় যাদের সাথে সন্ধি রয়েছে তাহলে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে দিয়াত ও মুমিন ক্রীতদাস আযাদ করতে হবে। যদি এতে কেউ সক্ষম না হয় তাহলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস সিয়াম পালন করতে হবে। যদি শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া মাঝে সিয়াম ভঙ্গ করে তাহলে পুনরায় প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। ভুলবশত হত্যা করার দিয়াত হলঃ ১০০টি উট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুলবশত হত্যার দিয়াত উল্লেখ করে বলেনঃ ২০টি এক বছর পূর্ণ হয়েছে এমন উটনী, ২০টি অনুরূপ উট, ২০টি দুই বছর পূর্ণ হয়েছে এমন উটনী, ২০টি তিন বছর পূর্ণ হয়েছে এমন এবং ২০টি চার বছর পূর্ণ হয়েছে এমন উট। (আবূ দাঊদঃ ৪৫৪৫, তিরমিযীঃ ১৩৮৬, নাসাঈঃ ৪৮১৬, ইবনু মাযাহঃ ২৯৩১, হাসান) অন্য আয়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে মুমিনকে হত্যা করার পরিণতি কী সে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ ১. তার ঠিকানা জাহান্নাম। ২. সেখানে সে চিরকাল থাকবে। ৩. তার ওপর আল্লাহ তাআলার অভিশাপ। ৪. এবং আল্লাহ তাআলা তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। বিঃদ্রঃ যদি কেউ কোন মুমিনকে হালাল মনে করে হত্যা করে তাহলে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy