4 Answers
খাদ্যের উপাদান অনেক। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ পুষ্টি উপাদান উৎসসমূহ কাজ শর্করা চাল, গম, ভুট্টা, বার্লি, আলু, গুড়, চিনি, কচুমুখী ইত্যাদি৷ শর্করা প্রধানত শক্তি উৎপাদনকারী। আমিষ বা প্রোটিন সবরকম ডাল, সীমের বীচি, বাদাম, সয়াবিন, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি৷ দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধন করে। স্নেহ বা চর্বি সরিষা, তিল, তিসি, সয়াবিন, সূর্যমূখী, বাদাম, ঘি, মাখন, চর্বি, মাছের তেল ইত্যাদি। স্নেহপদার্থ শরীরে শক্তি উৎপাদন করে, তবে এর শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা শর্করার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশি। খনিজ লবণ ক্যালসিয়াম : দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, সবুজ শাক ও ছোট মাছ ইত্যাদি।
*জেনে নিন কোন খাবারে কী ভিটামিন: ১.ভিটামিন এ: চোখ, চুল এবং ত্বকের জন্য খুবই ভালো। কোন কোন খাবারে আছে দুধ, গাজর, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, আম, লালশাক, সব রকমের সবুজ শাকসবজি, কড লিভার অয়েল, যকৃত, পালংশাক, রঙিন শাকসবজি, চিজ, অ্যাপ্রিকট, ডিম, পেঁপে, মটরশুঁটি। ২.ভিটামিন বি: হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। কোন কোন খাবারে আছে মাছ, যেকোনো রকমের সি ফুড, মাংস, শস্যদানা, ডিম, ডেইরি প্রডাক্ট এবং সবুজ শাকসবজি। ৩.ভিটামিন সি: শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ভালো রাখতে সাহায্য করে। শরীরের সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কোন কোন খাবারে আছে কমলা, লেবু, স্ট্রবেরি, টমেটো, কাঁচামরিচ, ব্রকলি, ফুলকপি, কিউই ফল, গাজর, পেঁপে, আনারস, আঙুর, আম, জাম, আলু, তরমুজ, কলা, পেঁয়াজ, চেরিফল, পেয়ারা, কিশমিশ, লেটুসপাতা, বেগুন, ডুমুর। ৪.ভিটামিন ডি: দাঁত ও হাড়ের গঠনের জন্য জরুরি। দাঁত ও হাড় মজবুত করার জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। কোন কোন খাবারে আছে দুধ, মাছ, ডিমের কুসুম, যকৃত, ফর্টিফায়েড সিরিয়াল। ৫.ভিটামিন ই: ফুসফুসকে রক্ষা করে এবং শরীরের টিস্যু গঠনে সহায়তা করে। ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। কোন কোন খাবারে আছে শস্যদানা, সবুজ শাকসবজি, ডিমের কুসুম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, সূর্যমুখীর তেল, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, পাম অয়েল। ৬.ভিটামিন কে: কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। কোন কোন খাবারে আছে সবুজ শাকসবজি, ডেইরি প্রোডাক্ট, ব্রকলি, সয়াবিন তেল, পুঁইশাক, বাঁধাকপি, পার্সলে, লেটুসপাতা, সরিষা শাক। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া
কোন খাবারে কি ভিটামিন পাওয়া যায় দেখুন-
অধ্যাপক ডা. এএইচ রওশন
ভিটামিন খাদ্যের একটি অত্যাবশ্যকীয় জৈব রাসায়নিক উপাদান, যা শরীরের ভেতরে তৈরি হয় না এবং খাবার থেকেই গ্রহণ করতে হয়। আমাদের ধারণা, ভিটামিন শরীরে শক্তি জোগায়, ভিটামিন খেলে দুর্বলতা কমবে বা খারাপ স্বাস্থ্য ভালো হবে_ ধারণাটা ঠিক নয়। ভিটামিন থেকে শরীরে সরাসরি কোনো শক্তি উৎপন্ন হয় না। তবে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য, যেমন শর্করা, আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাবারের বিপাক প্রক্রিয়ায় ভিটামিন অংশ নেয়। ফলে দেহে কোনো একটি ভিটামিনের অভাব হলে সেই নির্দিষ্ট উপাদানের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। জৈব রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ভিটামিনকে সাধারণত পানিতে ও চর্বিতে দ্রবণীয়_ এ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হচ্ছে এ, ডি, ই ও কে। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বি এবং সি। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শরীরে বেশি জমা থাকে না। ফলে কিছুদিন এ ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ না করলে দ্রুত এর অভাব দেখা দেয়। চর্বিজাতীয় ভিটামিন শরীরে অনেক দিন বেশি পরিমাণে জমা থাকে বলে কিছুদিন এটি খাবারে গ্রহণ না করলেও সহজে সমস্যা হয় না। ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা, খসখসে ত্বক, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের পা বাঁকা বা রিকেটস এবং বড়দের হাড় ক্ষয় বা অস্টিওমেলেশিয়া রোগ হয়। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেঙ্ নানা ভিটামিনের সমন্বয়। এদের অভাবে বেরিবেরি রোগ, ঠোঁটের কোণে ঘা, অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি হতে পারে। ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি হতে পারে। প্রয়োজনীয় ভিটামিনের সব ক'টিই সুষম খাদ্যের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। একই খাবারে সব ধরনের ভিটামিন পাওয়া যায় না। তাই সব ধরনের খাবারই খেতে হবে। বিভিন্ন ধরনের রঙিন শাকসবজি, যেমন_ গাজর, লালশাক, মিষ্টিকুমড়া, মাছের তেল, অঙ্কুরিত ছোলা, বাঁধাকপি, পালংশাক, ফুলকপি ইত্যাদিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বেশি পাওয়া যায়। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর অন্যতম উৎস। তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ঢেঁকিছাঁটা চাল ছাড়াও দুধ, ডিম, কলিজা, অর্থাৎ প্রাণিজ আমিষ ইত্যাদিতে পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন পাওয়া যায়। টক ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। ভিটামিন ই-এর উৎস বিভিন্ন ধরনের ভোজ্যতেল। তাই শাকসবজি সামান্য তেল দিয়ে রান্না করা উচিত। সঠিক খাদ্য নির্বাচনের ভিটামিন গ্রহণ করলে বাড়তি ভিটামিন বড়ি গ্রহণের কোনো প্রয়োজন হয় না।
ভিটামিন এবং মিনারেল আমাদের শরীরের জন্য সামান্য মাত্রায় প্রয়োজনীয় হলেও এই খাদ্য উপাদানের ঘাটতিতে বিভিন্ন ধরনের মারাক্তক রোগ হতে পারে।দ্রবনীয়তার ওপর ভিত্তি করে ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে পানিতে দ্রবনীয় এবং চর্বিতে দ্রবনীয়। ভিটামিন B এবং C হচ্ছে পানিতে দ্রবনীয় এবং ভিটামিন A,D,E এবং K চর্বিতে দ্রবনীয়।
*ভিটামিন A এর উৎস:আম,ফুলকপি,
গাজর,টমেটো,কুমড়া,মিষ্টি আলু,কলিজা ইত্যাদি।
*ভিটামিন B এর উৎস:তরমুজ,ডিম,দুধ,কলা,আলু,মাছ,কলিজা ইত্যাদি
*ভিটামিন C এর উৎস:আম,কমলালেবু
,স্ট্রবেরী,বিভিন্ন টক জাতীয় ফল ইত্যাদি
*ভিটামিন D এর উৎস:ডিমের কুসুম,কলিজা,মৃদু সূর্যের আলো ইত্যাদি।
*ভিটামিন E এর উৎস:সয়াবিন তেল,গম,সূর্যমুখী তেল,কড মাছ ইত্যাদি।
*ভিটামিন K এর উৎস:সবুজ শাকসবজি,ফুলকপি,বাধাকপি,কলিজা ইত্যাদি।
# মিনারেল এর উৎস:
*পটাশিয়াম:আলু,ফুলকপি,সবুজ শিম,গাজর,কলা ইত্যাদি।
*ক্যালসিয়াম:দুধ,দই,পনির ইত্যাদি।
*ম্যাগনেশিয়াম:ফুলকপি,সবুজ শিম,টমেটো ইত্যাদি।
*ফসফরাস:মাছ,মাংস,দুধ,ডিম ইত্যাদি।
*লৌহ:গরুর কলিজা,ফুলকপি,সবুজ শিম ইত্যাদি।
*জিংক:গরুর মাংস,ফুলকপি,সবুজ শিম,টমেটো ইত্যাদি।
ভিটামিন এ
চোখ, চুল এবং ত্বকের জন্য খুবই ভালো। কোন কোন খাবারে আছে দুধ, গাজর, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, আম, লালশাক, সব রকমের সবুজ শাকসবজি, কড লিভার অয়েল, যকৃত, পালংশাক, রঙিন শাকসবজি, চিজ, অ্যাপ্রিকট, ডিম, পেঁপে, মটরশুঁটি।
ভিটামিন বি
হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। কোন কোন খাবারে আছে মাছ, যেকোনো রকমের সি ফুড, মাংস, শস্যদানা, ডিম, ডেইরি প্রডাক্ট এবং সবুজ শাকসবজি।
ভিটামিন সি
শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ভালো রাখতে সাহায্য করে। শরীরের সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কোন কোন খাবারে আছে কমলা, লেবু, স্ট্রবেরি, টমেটো, কাঁচামরিচ, ব্রকলি, ফুলকপি, কিউই ফল, গাজর, পেঁপে, আনারস, আঙুর, আম, জাম, আলু, তরমুজ, কলা, পেঁয়াজ, চেরিফল, পেয়ারা, কিশমিশ, লেটুসপাতা, বেগুন, ডুমুর।
ভিটামিন ডি
দাঁত ও হাড়ের গঠনের জন্য জরুরি। দাঁত ও হাড় মজবুত করার জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। কোন কোন খাবারে আছে দুধ, মাছ, ডিমের কুসুম, যকৃত, ফর্টিফায়েড সিরিয়াল।
ভিটামিন ই
ফুসফুসকে রক্ষা করে এবং শরীরের টিস্যু গঠনে সহায়তা করে। ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। কোন কোন খাবারে আছে শস্যদানা, সবুজ শাকসবজি, ডিমের কুসুম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, সূর্যমুখীর তেল, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, পাম অয়েল।
ভিটামিন কে
কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। কোন কোন খাবারে আছে সবুজ শাকসবজি, ডেইরি প্রোডাক্ট, ব্রকলি, সয়াবিন তেল, পুঁইশাক, বাঁধাকপি, পার্সলে, লেটুসপাতা, সরিষা শাক। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া