আমার বউয়ের রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখ দিয়ে থুথু বাহির হয়?
2 Answers
অসুস্থতাজনিত কারণে মুখ দিয়ে লালা ঝরতে পারে। এখানে জেনে নিন ঘুমের সময় লালা ঝরার কিছু কারণ। যদি এ সমস্যা দেখা দেয় তো শিগগিরই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আসলে মুখের অতিরিক্ত লালা ঘুমের সময় বেরিয়ে আসে। এটি অস্বাভাবিক নয়। অবশ্য বড়দের এমনটা ঘটলে তা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। ঘুমানোর সময় খাবার বা পানীয় গেলার পেশিগুলো দেহের অন্যান্য পেশির মতোই নিষ্ক্রিয় থাকে। এ কারণে মুখের এই কোণা সেই কোণা থেকে লালা বেরিয়ে আসতে পারে। কারণ, তখন পেশি এদের ধরে রাখা বা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় থাকে না। এটা অনেক সময়ই স্বাভাবিক ঘটনা হলেও মাঝে মাঝে অসুখের লক্ষণও প্রকাশ করে। নিউরোলজি, ঘুম সমস্যা কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে এমনটা ঘটে। স্ট্রোক, সেরেব্রাল পালসি কিংবা মাল্টিপল স্কেলেরোসিস (এমএস)-এ আক্রান্ত হলে ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে লালা ঝরতে পারে। আরো কিছু কারণ আছে এমনটা ঘটার। ঘুমের ভঙ্গিমা এটাকে সবচেয়ে সাধারণ কারণ বলা যায়। ঘুমের ভঙ্গিমার কারণে মুখের লালা অতি সহজে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়। চিত হয়ে সোজা ভঙ্গীতে ঘুমালে এমন হওয়ার কথা না। আবার কাত হয়ে ঘুমালে কিংবা উপুড় হয়ে ঘুমালে লালা ঝরার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ অবস্থায় সাধারণত মুখ নিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হয়। তখন মুখ হা হয়ে থাকে। কাজেই লালা বেরিয়ে আসা অনেক সহজ। । বন্ধ সাইনাস সর্দি বা সংক্রমণের কারণে নাসারন্দ্র বন্ধ থাকলে ঘুমের সময় লালা ঝরার সম্ভাবনা দেখা দেয়। নাকের পথে নিয়মিত সমস্যা থাকলে এ ঝামেলায় পড়বেন। যাদের নাসারন্দ্র জন্মগত কারণেই স্বাভাবিকের চেয়ে সরু, তাদের লালা ঝরার সমস্যা প্রতিনিয়ত থাকে। আর ঘুমের সময় সুস্থ মানুষও যদি মুখ খুলে শ্বাস নেন, তবে একই অবস্থায় পড়বেন। । জিইআরডি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল রিফ্লাক্স ডিসঅর্ডার বা গার্ড (জিইআরডি) হজমপ্রক্রিয়ার এক ধরনের সমস্যা নির্দেশ করে। এ রোগ থাকলে পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ননালীতে ফিরে যায়। এতে অন্ননালীর অভ্যন্তরীন দেয়ালে ক্ষত সৃষ্টি হয়। গার্ডের কারণে হতে পারে ডিসফাজিয়া (খাবার গেলায় সমস্যা)। এমনটা হলে খাবার গলার মধ্যে কোনো মাংসপিণ্ডে আটকে যাচ্ছে বলে মনে হবে। গার্ডের কারণে মুখ দিয়ে ঘুমের সময় লালা ঝরে। । ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিশেষ কোনো রোগের চিকিৎসা নিতে থাকলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ (বিশেষ করে ক্লোজাপাইন) এবং আলঝেইমার্স রোগে ব্যবহৃত ওষুধের প্রভাবে লালা ঝরে। । গেলায় সমস্যা আগেই বলা হয়েছে এমন হয় ডিসফাজিয়ার কারণে। যদি অযথাই লালা বেরিয়ে আসছে বলে মনে হয়, তবে ডিসফাজিয়াকে সন্দেহের তালিকায় রাখতে পারেন। এ ছাড়া পারকিনসন্স, মাসকুলার ডিস্ট্রোফি এবং বিশেষ কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় ঘুমের মধ্যে লালা ঝরা। । স্লিপ অ্যাপনিয়া এ রোগ থাকলে ঘুমের সময় দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে দেয়। বাধ্য হয়ে মুখ দিয়ে জোরপূর্বক শ্বাস গ্রহণ করতে হয়। তাই এমন ঘটনায় স্লিপ অ্যাপনিয়া নেপথ্যে থাকতেই পারে। আর স্লিপ অ্যাপনিয়া এক ভয়াবহ রোগ হয়ে দেখা দেয়। আরো পড়ুন: আগেভাগেই বুঝে নিন কিডনি রোগের লক্ষণ । করণীয় সত্যিকার অর্থে বিশেষজ্ঞই ভালো বুঝবেন রোগীকে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। তবে প্রাথমিকভাবে ঘুমের ভঙ্গিমা বদলাতে বলা হয়। যেহেতু অতিরিক্ত লালা বেরিয়ে আসাটাই সমস্যা, তাই এটা কাটাতে লেবুর ছিলকায় খেলে বেশ উপকার মেলে। অনেকে ম্যানডিবুলার ডিভাইস ব্যবহার করেন। এটা এমন এক যন্ত্র যা মুখে লাগিয়ে ঘুমাতে হয়। এটা ঘুমের সময় মুখ বন্ধ রাখে এবং ঘুমকে আরামদায়ক করে। সমস্যাটা স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে ঘটলে সিপিএপি মেশিন বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। এই যন্ত্র কেবল লালা ঝরানোই বন্ধ করবে না, ঘুমকে গভীরে নিয়ে যাবে। আপনি সঠিক পদ্ধতিতে এবং সুষ্ঠুভাবে ঘুমাচ্ছেন- তা নিশ্চিত করবে সিপিএপি মেশিন। অনেকেই আরো সাহসী চিকিৎসা নিতে চান। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ সঠিক মাত্রার বোটোক্স ইঞ্জেকশন দিয়ে থাকেন। আর সমস্যা গুরুতর হলে শেষ পর্যন্ত সার্জারির পথ তো খোলা আছেই।
যে কারণে এ সমস্যা হতে পারে :
১। ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা ঝরার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ঠান্ডা লাগা বা ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। অনেকেই ঘুমের মধ্যে নাক দিয়ে নিঃশ্বাস না নিয়ে মুখ দিয়ে নেন বিশেষ করে যাদের ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে যায় তারা মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিয়ে থাকেন। সেই ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে এরকম হতেই পারে। এই ক্ষেত্রে রোগী চিত হয়ে ঘুমাতে পারে। এতে এরকম হবার সম্ভাবনা থাকবে না। তবে কাত হয়ে বা উবুড় হয়ে ঘুমালে এরকম সমস্যা হবে।
২। মুখে লালা আশার অন্য একটি কারণ যাকে অন্যতম কারণও বলা যায়, তা হলো কৃমির প্রভাব । আর কৃমি বেড়ে গেলে সাধারণত মুখে লালা বের হয়। এরকম হলে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিৎ।
৩। রোগীর মুখে কোনো রোগ, টনসিল প্রদাহ অথবা গলায় কোনো সমস্যা আছে কি না তা জানা দরকার। দীর্ঘ ৩ মাস ধরে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ খুব স্বাভাবিকও নয়। সম্ভবত অধিক দুশ্চিন্তা অথবা মানসিক অশান্তির জন্য এমনটি হচ্ছে। এ ছাড়া রোগীর সাইনুসাইটিস বা সেলাইভারি গ্ল্যান্ডে (যা থেকে মুখে লালা বা থুথু বের হয়) কোনো রোগ আছে কি না তা দেখতে হবে।
আপাতত রোগী দিনে দুবার সকালে ও রাতে খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করবে। ভালো মাউথওয়াশ দিয়ে দিনে তিনবার গড়গড়া করবে খাওয়ার আগে ও পরে। ডায়াবেটিস এবং পরিপাকতন্ত্রে অন্য কোনো রোগ আছে কি না পরীক্ষা করাতে হবে। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত, ঝাল এবং তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার খাবে না।এছাড়া ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি পান করতে যেন না ভুলে, মনে রাখতে হবে যে, ঘুমানোর অন্তত এক ঘন্টা আগে মিষ্টি জাতীয় কোনো খাবার কিংবা পানীয় পান করবে/খাবে না। আর ঘুমানোর ১০/১৫ মিনিট আগে একটু টক কিংবা লবন মিশ্রিত কিছু খেয়ে ঘুমাবে। আশাকরা যায় সমস্যা থাকবে না। আর যদি এতেও ভাল না না হয়। তাহলে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা সেবা নিলেই রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে। রোগীর প্রতি শুভ কামনা রইল।