মহরে মিছিল কাকে বলে?

মহর মিছিল কাকে বলে? মহর ব্যতিত বিবাহ জায়েজ হবে কি না? দলিল সহ।
5347 views

4 Answers

ন্যায্য দেনমোহরকে 'মোহর-ই-মিছিল' নামে অভিহিত করা হয় বা বলা হয়।

5347 views Answered

 “মহরে মিছিল” অর্থ খান্দানী মহর৷ স্ত্রীর বাবা-দাদার বংশের মেয়েদের, যেমন- বোন, ফুফু, ভতিজী, চাচাত বোন প্রমুখের যে হারে মহর ধার্য হয়েছে সে পরিমাণে মহরকে মহরে মিছিল বলে৷

5347 views Answered

শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রত্যেক নারীর আসল হক ‘মোহরে মিছল’। ঐ নারীর বংশে তার মতো অন্যান্য নারীদের সাধারণত যে মোহর নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা তার মোহরে মিছ্ল। যদি তার নিজের বংশে তার মতো আর কোনো নারী না থাকে, তাহলে অন্য বংশে তার সমপর্যায়ের নারীদের যে মোহর সাধারণত নির্ধারণ করা হয় সেটাই তার মোহরে মিছল। শরীয়তের দৃষ্টিতে স্ত্রী মূলত মোহরে মিছ্লের হকদার। এ কারণেই যদি মোহরের আলোচনা ছাড়া বিয়ে হয় কিংবা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে মোহর নির্ধারিত না হয় তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোহরে মিছল অবধারিত হয়ে যায় এবং এক্ষেত্রে মোহরে মিছল পরিশোধ করা স্বামীর জন্য জরুরি হয়ে পড়ে। তবে স্ত্রী নিজেই যদি সন্তুষ্টচিত্তে মোহরে মিছল হতে কম নিতে রাজি হয় অথবা স্বামী খুশি মনে মোহরে মিছল থেকে অধিক পরিমাণ মোহর নির্ধারণ করে তবে শরীয়তে এর অনুমতি আছে। অর্থাৎ উভয় পক্ষের সম্মতিতে মোহরে মিছল হতে কম-বেশি করেও মোহর নির্ধারণ করা যায়। আর এক্ষেত্রেও এমন কোনো পরিমাণ নির্ধারিত নেই, যার বেশি মোহর ধার্য করা যায় না। তবে সর্বনিম্ন পরিমাণটি শরীয়তের নির্ধারিত। হানাফী মাযহাব মতে তা হচ্ছে দশ দিরহাম। দশ দিরহামের অর্থ, প্রায় দুই তোলা সাড়ে সাত মাশা রূপা।

5347 views Answered

আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও। (সুরা নিসাঃ ৪) শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রত্যেক নারীর আসল হক মোহরে মিছল। ঐ নারীর বংশে তার মতো অন্যান্য নারীদের সাধারণত যে মোহর নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা তার মোহরে মিছল। যদি তার নিজের বংশে তার মতো আর কোনো নারী না থাকে, তাহলে অন্য বংশে তার সমপর্যায়ের নারীদের যে মোহর সাধারণত নির্ধারণ করা হয় সেটাই তার মোহরে মিছল। শরীয়তের দৃষ্টিতে স্ত্রী মূলত মোহরে মিছলের হকদার। বিয়ের মহরানা মেয়েদের অধিকার। তাছাড়া মহরানা বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত। তবে ইসলামমে মহরানার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয় বরের সামর্থ্য অনুযায়ী। যদি মহরানা দেওয়ার সামর্থ্য নাই থাকে সেক্ষেত্রে হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জনৈকা মহিলা এসে বলল, আমি আপনার জন্য আমাকে হেবা করলাম। মহিলাটি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার যদি প্রয়োজন না থাকে তবে এই মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একে মহরানা দেয়ার মত তোমার কাছে কিছু আছে কি? লোকটি বলল, এই লুঙ্গিটি ছাড়া আমার কাছে কিছুই নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার লুঙ্গিটি যদি একে দিয়ে দাও তবে তো তোমার ঘরে বসে থাকতে হবে। তোমার নিজের তো কোন লুঙ্গি থাকবে না। সুতরাং মহরানার জন্য অন্য কিছু তালাশ কর। লোকটি বলল, কিছুই তো পাচ্ছি না। তিনি বললেন, তালাশ কর। লোহার আংটি হলেও (নিয়ে এস)। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি তালাশ করে কিছুই পেলনা। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তোমার কাছে কোরানের কিছু অংশ আছে কি? লোকটি কতগুলো সূরার নাম উল্লেখ করে বললঃ হ্যাঁ, অমুক সূরা অমুক সূরা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কোরানের যা আছে তার কারণে এই মহিলাকে তোমার সাথে বিয়ে দিয়ে দিলাম। (সূনান তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ১১১৪- ইবনু মাজাহ ১৮৮৯) ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এই হাদীস অনুসারে অভিমত প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, কারো যদি মহরানা প্রদানের মত কিছু না থাকে আর সে কোন মহিলাকে কুরআনের কোন সূরা মহরের বিনিময়ে বিয়ে করে তবে সে বিয়ে জায়েয। আর ঐ ব্যক্তি এই মহিলাকে কুরআনের সেই সূরা শিখিয়ে দিবে।

5347 views Answered

Related Questions

Next steps