2 Answers
গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়ার কারন। (১) তেঁতুল ভিটামিন বি৩,৪ এর একটি ভাল উৎস এবং প্রতি ১০০ গ্রামে ১.৯ মিলিগ্রামই niacin (nicotinamide)। একজন গর্ভবতী মহিলার প্রতিদিন যে পরিমান ভিটামিনের দরকার হয় তাতে ১০% এখান থেকেই হয়ে যায়। এটি আপনার গর্ভের সন্তানের স্নায়ু, মস্তিষ্ক, হজমশক্তি উন্নতিতে সহায়তা করে। নোট : যদি আপনার ভিটামিন বি৩ এর ঘাটতি না থাকে তাহলে অতিরিক্ত ভিটামিন বি৩ গ্রহণ করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত নিয়াসিন গর্ভের বাচ্চার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। (২) ডায়েটের তালিকায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে তেঁতুল একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে গর্ভাবস্থায় বড় সমস্যার একটি। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারে অল্পতেই পেট ভরে যায়, তাই অতিরিক্ত খাবার খেয়ে আর পেট ভর্তি করতে হয় না। যেহেতু অল্প খাবারে পেট ভর্তি হয়ে যায়, তাই ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ও নেই। (৩) প্রথম ট্রাইমেস্টারে সবাই মর্নিং সিকনেসের মুখোমুখি হয়। যদিও এটি ক্লান্তিকর কিন্তু মর্নিং সিকনেস সুস্থ গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত করে। মর্নিং সিকনেসের প্রাকৃতিক সমাধান হচ্ছে তেঁতুল। এতে রয়েছে ম্যালিক এসিড, টাটারিক এসিড এবং পটাসিয়াম ৭ । (৪) তেঁতুল হচ্ছে আয়রন এবং মিনালেরের সবথেকে বড় উৎস। আয়রন এবং মিনারেল শরীরে রক্তের পরিমান বৃদ্ধি করে। গর্ভাবস্থায় শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানে আয়রন থাকা খুব দরকারি কারণ পর্যাপ্ত পরিমান আয়রন অকাল জন্মের সম্ভাবনা এবং কম ওজনের শিশুর জন্মের সম্ভাবনা হ্রাস করে। (৫) অনেক মহিলায় গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হোন। এটি মা এবং শিশুর জন্য টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং বিপাকীয় অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বাড়ায়। তেঁতুল শরীরে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। (৬) যারা গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যায় ভুগেন তাদের জন্য তেঁতুল খুবই উপকারী, কারণ তেঁতুল উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। (৭) প্রতি ১০০ গ্রাম তেঁতুলে ১১.৪৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি গর্ভধারণের সময় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করে। এটি শ্বাসযন্ত্র উন্নত করতে সাহায্য করে এবং চেহারায় প্রাকৃতিক গ্লো নিয়ে আসে। ভিটামিন সি এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর রেডিকেল প্রতিরোধ করে। ক্ষতিকর রেডিকেল শরীরে জমা হয়ে মা এবং শিশু উভয়ের ক্ষেত্রে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
গর্ভাবস্থায় নাড়িদের মুখের রুচি কমে যায় খেতে ইচ্ছে করেনা। এসময় তাদের টক জিনিসের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করে।
এই তেঁতুল আমাদের উপমহাদেশে একটি সুপরিচিত ফল। এই ফল অনেকেরই প্রিয় ফলের তালিকায় আছে। বিশেষ করে মেয়েদের। গর্ভাবস্থায় নারীরা সাধারণত তেঁতুল খেতে পছন্দ করেন। চিকিৎসাগত দিক থেকেও রয়েছে এর উপকারিতা। তেঁতুলের টক উপাদান গর্ভবতী নারীদের মর্নিং সিকনেস থেকে অনেকটাই মুক্তি দেয়। গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিরাপদ বলেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে তেঁতুল খাওয়া উচিত। পরিমাণ বেড়ে গেলে সাইড ইফেক্টে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা-
১. তেঁতুল ভিটামিন ‘সি’ এর খুব ভালো উৎস। এই ভিটামিন ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
২. তেঁতুলে অনেক ধরনের এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে। শরীরে দ্রুত ফ্রি রেডিক্যাল ফর্মেশনে বাঁধা দেয় এইসব অক্সিডেন্ট।
৩. ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে তেঁতুল।
৪. তেঁতুলে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন থাকে। এইসব প্রোটিন গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।
৫. গর্ভাবস্থায় অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে ব্লাড প্রেসার। তেঁতুলের পটাশিয়াম এবং আয়রন ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
তেঁতুল, শরীরে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধের কাজে বাঁধা তৈরি করে থাকে। তাই তেঁতুল খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে খাওয়া উচিত।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy