3 Answers

জেনে নিন পরিমাণমতো গাঁজা সেবনের নয়টি উপকারিতা।

মৃগীরোগ কমায়:

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৩ সালেই জানিয়েছেন, মারিজুয়ানা বা গাঁজা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নিলে মৃগী বা এ ধরণের কিছু স্নায়ুরোগ থেকে দূরে থাকা যায়। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী জার্নাল অফ ফার্মাকোলজি অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল থেরাপিউটিক্স-এ ছাপাও হয়েছে তাদের এই গবেষণালব্ধ তত্ত্ব।

গ্লুকোমা দূরে রাখতে সহায়তা করে:

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, মারিজুয়ানা গ্লুকোমার ঝুঁকিও কমায়। গ্লুকোমা চোখের এমন এক রোগ যা চির অন্ধত্ব ডেকে আনে।

আলৎসহাইমার শত্রু:

দ্য জার্নাল অফ আলৎসহাইমার’স ডিজিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মারিজুয়ানা মস্তিষ্কের দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়াও রোধ করে। আর এভাবে আলৎসহাইমার ঝুঁকিও কমাতে পারে মারিজুয়ানা। তবে মারিজুয়ানা ‘ওষুধ’ হলেই রোগ সারাবে, কারো নিয়ন্ত্রণহীন আসক্তির পণ্য হলে নয়।

ক্যানসার প্রতিরোধ:

এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারিভাবেই স্বীকার করেছে। ২০১৫ সালে সে দেশের ক্যানসার বিষয়ক ওযেবসাইট ক্যানসার অর্গ-এ জানানো হয়, মারিজুয়ানা অনেক ক্ষেত্রে টিউমারের ঝুঁকি কমিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধকেরও ভূমিকা পালন করে।

কেমোথেরাপির ক্ষতি কম:

ইউএস এজেন্সি ফর ড্রাগ জানিয়েছে, মারিজুয়ানা ক্যানসার রোগীর রোগযন্ত্রণা অন্যভাবেও কমায়। ক্যানসার রোগীকে এক পর্যায়ে কেমোথেরাপি নিতে হয়। কেমোথেরাপির অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। মারিজুয়ানা কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত অনেক ক্ষতি লাঘব করে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়:

এটি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহ্যামের গবেষকদের উদ্ভাবন। তারা গবেষণা করে দেখেছেন, মারিজুয়ানা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতেও সহায়তা করে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

মাল্টিপল সক্লেরোসিসবিরোধী:

মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে একটি বিশেষ স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হলে ‘মাল্টিপল সক্লেরোসিস’ বা এমএস নামের এক ধরণের স্নায়ুরোগ হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মারিজুয়ানা সেবন করলে এই রোগের ঝুঁকিও কমে।

ব্যথা নিরোধ:

ডায়াবেটিস চরম রূপ নিলে রোগীদের অনেক সময় হাত-পা এবং শরীরের নানা অংশে জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা বলছেন, ক্যানাবিস সেই যন্ত্রণা লাঘব করতে সক্ষম।

হেপাটাইটিস’সি-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমায়:

হেপাটাইটিস সি-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কমায় মারিজুয়ানা। নির্দিষ্ট মাত্রায় ওষুধের মতো গাঁজা সেবন করিয়ে দেখা গেছে এই রোগে আক্রান্তদের শতকরা ৮৬ ভাগেরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক কমেছে।



অপকার : 


এটি রক্তবাহী শিরা ধ্বংস করে
গাঁজার ধোঁয়া কতটা ক্ষতি করে তা অনেকেরই জানা নেই। গবেষকরা জানাচ্ছেন, এটি রক্তবাহী শিরার ওপর ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা ইঁদুরের ওপর গাঁজার ধোঁয়ার প্রভাব পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন যে, এটি রক্তবাহী শিরার মারাত্মক ক্ষতি করে। মাত্র এক মিনিট গাঁজার ধোঁয়াতে থাকলে তা রক্তবাহী শিরার ওপর কমপক্ষে ৯০ মিনিট ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। এতে রক্ত পরিবহন বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
টেস্টিকুলার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
পুরুষের টেস্টিকুলার ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয় গাঁজা। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, গাঁজা সেবনে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় ক্যান্সারের আশঙ্কা।


স্বল্পমেয়াদে স্মৃতিশক্তি লোপ
গাঁজা সেবনকারীদের প্রায়ই নানা বিষয় ভুলে যেতে দেখা যায়। আর এর কারণ অন্য কিছু নয়, গাঁজার প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, গাঁজা সেবনকারীদের মস্তিষ্কে কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। আর এ কারণে তাদের কিছু স্মৃতিও স্বল্পমেয়াদে হারিয়ে যায়। বেশিমাত্রায় গাঁজা সেবনে মস্তিষ্কের এ ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যায়, যা আর ভালো হয় না। 
সৃজনশীলতা নষ্ট করে
বহু মানুষেরই ধারণা গাঁজা সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। যদিও এ ধারণা ভুল বলেই জানাচ্ছেন নেদারল্যান্ডসের গবেষকরা। এটি তাদের সৃজনশীলতা বাড়ায় না বরং কমিয়ে দেয়। 
মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করে
গাঁজা মস্তিষ্কের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করে। এ কারণে তা মানুষকে অস্বাভাবিক করে দেয়। দীর্ঘ ২০ বছরের গবেষণায় এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা। 
সামাজিকতায় প্রভাব
গাঁজা নানাভাবে শুধু শরীরের ওপরই প্রভাব বিস্তার করে না, এটি মানুষের আচার-আচরণের ওপরেও প্রভাব বিস্তার করে। এ কারণে গাঁজাসেবীর নানা আচরণগত বিষয় অন্যরা বুঝতে পারে। আর এতে সামাজিকতায়ও প্রভাব বিস্তার করে। ফলে গাঁজাসেবী অনেকটা একঘরে হয়ে যায়। 
জীবনে সাফল্য লাভে অন্তরায়
গাঁজাসেবীর দেহে নানা ধরনের প্রভাব পড়ে। এতে স্মৃতিশক্তি যেমন ধ্বংস হয় তেমন মানসিক স্থীরতাও আসে না। এ কারণে গাঁজাসেবী কোনো বিষয়ে স্থীর হতে পারে না। এতে তার জীবনের সাফল্যও বাধাগ্রস্ত হয়।


3184 views

গবেষকরা বলছেন পরিমাণমতো গাঁজা ওষুধ হিসেবে সেবন করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। জেনে নিন পরিমাণ মতো গাঁজা সেবনের নয়টি উপকারিতা।

১/ মৃগীরোগ কমায়

১/ গ্লুকোমা দূরে রাখতে সহায়তা করে

৩/ আলৎসহাইমার শত্রু

৪/ ক্যানসার প্রতিরোধ

৫/ কেমোথেরাপির ক্ষতি কম

৬/ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

৭/ মাল্টিপল সক্লেরোসিসবিরোধী

৮/ ব্যথা নিরোধ

৯/ হেপাটাইটিসসি-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমায়

তবে গাঁজায় আসক্তি হলে, বা সে আসক্তি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে জীবনে বিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ এতে যে ক্ষতিগুলো হবে তা নিচে তুলে ধরা হলো-

. এটি রক্তবাহী শিরা ধ্বংস করে
. টেস্টিকুলার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
. স্বল্পমেয়াদে স্মৃতিশক্তি লোপ
. সৃজনশীলতা নষ্ট করে
. মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করে
. সামাজিকতায় প্রভাব
. জীবনে সাফল্য লাভে অন্তরায়।
তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে গাঁজা ব্যবহারে অভিজ্ঞ ডাক্টারের শরণাপন্ন হওয়া।

 

 

3184 views

গাজা একটি নিষিদ্ধ মাদক যা সেবনে কোন উপকার নেই।

3184 views