কুরান ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা চাই.?
3 Answers
আপনাকে বলতে চাই যে, মনে করুন আপনি দান সদকা,যাকাত হজ্ব সকল কিছুই করলেন ।কিন্তু নামাজ পরলেন না, মনে করেন বিচার দিবসে আপনাকে জান্নাত এ যেতে বলা হলো ,আপনার যাকাত ,হজ্ব ,সদকার কারনে।
আপনি বেহেস্তের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন, কিন্তু দরজা খুল্লনা ভাই, দরজা কিভাবে খুলবে বলুন তো ভাই, কারন নামাজ ই হলো বেহেস্তের চাবি কাঠি, ।
আপনি যদি নামাজ ই না পরেন তাহলে চাবি পাবেন কোথায়?
নামাজই কেবল মানুষকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে।
নামাজ আমাদের উপর ফরজ।মোদ্দো কথা হলো, আল্লাহ্ তালা ববলেছেন, "নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের উপর ফরজ করা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে”।
আল্লাহ আমাদেরকে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একারণেই দিয়েছেন, যেন আমরা কাজের চাপে পড়ে, তাঁকে ভুলে না যাই। কারণ তাঁকে ভুলে যাওয়াটাই হচ্ছে, আমাদের নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ। যখনি আমরা একটু একটু করে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া শুরু করি, তখনি আমরা আস্তে আস্তে অনুশোচনা অনুভব না করে খারাপ কাজ করতে শুরু করি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় আমাদের পতন। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমাদেরকে এই একটু একটু করে নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখে, আল্লাহর সাথে সংযোগ কিছুটা হলেও ধরে রাখে।
আমরা অধিকাংশরাই আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা না করে শুধু একটি রাতে এসে নফল ইবাদত করে সম্পর্ক রাখা মিছে বোকামি করি। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় সে সমস্ত আমল, যা অল্প হলেও নিয়মিত করা হয়৷ কিন্তু নিয়মিত করা দুরের কথা ছুঁয়েও দেখি না
#আজাব ……
নামাজ আমাদের জন্য অধিকগুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত মনে করি কিন্তু নামাজ না পড়লে রয়েছে কঠিন ও ভয়াবহ আজাব।
আমাদের প্রত্যেকে প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্কাদের উপর নামাজ ফরয করা হয়েছে।কোরআন ও হাদীস শরীফের বিভিন্ন স্থানে এই নামাজ পড়ার ফযিলত ও না পড়ার কঠোর বিধানের কথা উল্লেখ আছে।
আমরা অনেক সময় নিজেদের ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গুরুত্বপূর্ণ এই ইবাদাতটিকে আদায় করি না,বা ছেড়ে দেই এবং কিছু নফল ইবাদত নিয়ে ফেৎনায় পড়ে আছি। নামায না পড়ার শাস্তিঃ যারা নামায পড়েনা তাদের জন্য আল্লাহ্ পাক পনেরটি আজাব নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।
পনেরটি আজাবের মধ্যে ছয়টি দুনিয়ায়, তিনটি মৃত্যুর সময়, তিনটি কবরের মধ্যে এবং বাকি তিনটি হাশরের মধ্যে দেয়া হবে, তা আমরা বেমালুম ভুলে গেছি।
দুনিয়াতে যে ছয়টি আযাব দেওয়া হয়।
১. তাহার জীবনে কোনরূপ বরকত পাইবেনা ।
২. আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন উঠাইয়া লইবেন।
৩. যে যাহা কিছু নেক কাজ করবে, তাহার ছওয়াব পাইবেনা।
৪. তাহার দোয়া আল্লাহ্ পাকের নিকট কবুল হইবে না।
৫. আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তাহার উপর অসন্তুষ্ট থাকবে।
৬. ইসলামের মূল্যবান নেয়ামত সমূহ হইতে বঞ্চিত করা হইবে ।
মৃত্যুর সময় যে তিনটি আযাব দেওয়া হয়।
১. অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিবে।
২. ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরন করিবে।
৩. মৃত্যুকালে তাহার এত পিপাসা পাইবে যে,তাহার ইচ্ছা হইবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান করিয়া ফেলিতে ।
কবরের মধ্যে যে তিনটি আযাব দেওয়া হয়।
১. তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যাইবে।
২. তাহার কবরে, দিনরাত্রি সবসময় আগুন জ্বালাইয়া রাখা হবে।
৩. আল্লাহ্ তাহার কবরে একজন আজাবের ফেরেশ্তা নিযুক্ত করিবেন। তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত ব্যক্তিকে বলতে থাকবে যে,দুনিয়ায় কেন নামায পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর। এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত, জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিব হইতে এশা পর্যন্ত এবংএশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত লোহার মুগুর দ্বারা আঘাত করতে থাকবে।
আর বাকি তিনটি দেওয়া হবে রোজ হাসরের দিন কিয়ামতের ময়দানে ।
হাঁ প্রতিটি নেক কাজের জন্য আলাদা সাওয়াব প্রদান করা হয়। আর অনান্য দিন নামায আদায় না করার কারণে যেমনিভাবে গুনাহ হচ্ছে আবার জুমার নামায আদায় করার কারণে সওয়াবও হচ্ছে। তবে এধরনের মানুষের কল্যাণ আশা করা দুরূহ।
হ্যাঁ, সহীহ নিয়তে দান, সদকা, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি করলে এর জন্য আল্লাহ তাআলা পৃথকভাবে সওয়াব দান করেন। কোন একটা হুকুম না মানার কারণে অন্য একটা ভালো কাজের প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করেন না। তবে সেজন্য তার আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy