আমরা সবাই জানি ইসলামে মামাতো বোন, খালাতো বোনকে বিয়ে করা যায়।কিন্তু বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান বলে একই রক্তের সম্পর্কের মধ্যে বিবাহ ঘটলে সন্তান প্রতিবন্ধী হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।তাহলে বিষয়টি মূলত কি দাড়াল? এ ধরনের বিয়ে কেন জায়েজ করা হলো? দয়া করে কেউ ব্যতিক্রমের কথা বলবেন না ।কেউ এই উদাহরন টানবেন না যে দুই ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধী সন্তান হতে পারে। কিন্তু যখন আমরা জানি যে মামাতো খালাতো বোনকে বিয়ে করলে প্রতিবন্ধী হবার সম্ভাবনা বেশি তাহলে এই বিয়ে জায়েজ হলো কেন ?
3178 views

2 Answers

মানবজাতির সর্ব প্রথম বন্ধন স্বামী- স্ত্রীর বন্ধন। আল্লাহ তায়ালা যখন আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করেছিলেন, তখন হাওয়া (আঃ) কেও সৃষ্টি করেন এবং জান্নাতে বসবাস করার সুযোগ দেন। কিন্তু শয়তান এর প্ররোচনায় নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার জন্য তাদেরকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। এরপর তারা পৃথিবীতে একসাথে বসবাস শুরু করেন এবং সন্তান-সন্তদি লাভ করেন। আদম এবং হাওয়া (আঃ) মোট আশি জোড়া একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে সন্তান লাভ করেন। সেই সময়ে আল্লাহর নির্দেশে আগের জোড়ার ছেলের সাথে পরের জোড়ার মেয়ের, পরের জোড়ার ছেলের সাথে আগের জোড়ার মেয়ের বিয়ে হত। তখন নিজের ভাই বোনের মাঝে বিয়ে হত শুধুমাত্র প্রয়োজনের খাতিরে। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসলামে বেশ কিছু রক্তের সম্পর্কের মানুষের সাথে বিয়ের সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হয়েছেে। একটি ছেলের জন্য যে সকল মানুষের সাথে ইসলামে বিয়েকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারা হলঃ মা, ঔরসজাত কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, দাদী, নানী, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, বোনঝি, দুধ-মা দুগ্ধপোষ্য অবস্থায় যদি অপর কোনো মহিলার দুধ পান করে, দুধ বোন, সৎ কন্যা, ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং একই সাথে দুই বোনকে। (সূরা আন- নিসাঃ ২৩-২৪)।


এই কয়েকটি সম্পর্কের মানুষ ছাড়া ইসলাম অন্যান্য যে কোন সম্পর্কের কাউকেই বিয়ে করতে নিষেধ করেনি। আমাদের নবী কারীম (সাঃ) তার প্রিয় কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এর বিয়ে দিয়েছিলেন হযরত আলী (রাঃ) এর সাথে, যিনি ছিলেন নবী (সাঃ) এর চাচার ছেলে। এছাড়াও মহানবী (সাঃ) বিয়ে করেছিলেন, জয়নাব বিনতে জাস কে, যিনি ছিলেন মহানবী (সাঃ) এর চাচার মেয়ে। সুতরাং, উল্লিখিত সম্পর্ক ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়র মধ্যে বিয়ে ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।

তবে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেছেনঃ “যে সম্প্রদায়ের মহিলারা বাইরের কোন পুরুষকে বিবাহ করে না এবং পুরুষেরা বাইরের কোন মেয়েকে বিবাহ করে না, তাদের সন্তান হয় বোকা ধরনের। (আল ইনতিকা ফি ফাদায়িলিস ছালাছাতিল আয়িম্মাঃ ১/৯৮)।

এছাড়া ইমাম গাযযালী (রহঃ) পাত্রী পছন্দ করার ব্যাপারে যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, তার মধ্যে একটা হল- পাত্রী যেন নিকটবর্তী আত্মীয় না হয়। কেননা, তা তাদের জৈবিক কামনাকে কমিয়ে দেবে। (ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন:২/৪১)।

নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজন যেমন-ফুফাতো, চাচাতো, মামাতো, খালাতো ভাই বোনদেরকে বিবাহ করলে সন্তান দুর্বল হয় বলে অনেক ইসলামিক স্কলারের অভিমত। সে জন্য বলা হয়, বিবাহ দূরবর্তীদের সাথে হলেই ভালো হয়। আর নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া সব সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তোমাদের জন্য এগুলো আল্লাহর বিধান। উল্লেখিত নারীগণ ছাড়া অন্য নারীকে অর্থ ব্যয়ে বিয়ে করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হল, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা সম্ভোগ করেছ তাদের নির্ধারিত মাহর অর্পণ করবে। মাহর নির্ধারণের পর কোন বিষয়ে পরস্পর রাযী হলে তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই।

এ ধরনের বিয়ে কেন জায়েজ করা হলো? এর উত্তর আমি দিতে পারলাম না। কেননা, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়, তিনি কারো অমঙ্গল চান না। (সংগ্রহ)
3178 views

একই রক্তের নেগেটিভ গ্রুপের মধ্যে বিয়ে হলে সন্তান প্রতিবন্ধী হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। একই গ্রুপের নেগেটিভ রক্ত যেমন ধরুন কারো রক্তের গ্রুপ যদি বি- হয় এবং তার চাচাতো, খালাতো, মামাতো, ফুফাতো বোন এমনকি অন‍্য কোন বহু দূরের মানুষ যার রক্তের গ্রুপ বি- তাদের বিয়ে হলে সন্তান প্রতিবন্ধী হতে পারে, অর্থাৎ সম্ভাবনা প্রবল। যদি একই গ্রুপের পজিটিভ রক্ত হয় তাহলে কিন্তু সেই সম্ভাবনা একেবারেই কম। অন‍্য গ্রুপ হলে কিন্তু নেগিটিভ গ্রুপ হলেও সমস্যা নেই।


এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে ইসলাম ধর্মে খালাতো, মামাতো, চাচাতো বা ফুফাতো বোন বিয়ের অনুমতি কেন দেয়া হয়েছে? এটা কিন্তু অনুমোদন, বাধ‍্যতামূলক না। আপনি অবশ্যই অন‍্যদের বিয়ে করতে পারেন তবে যদি আপনার মা বাবা আপনার ছোট খালার একমাত্র মেয়েকে এতই পছন্দ করেছেন আপনার জন্য, আর আপনার ছোট খালাও ছোট বেলা থেকেই আপনাকে এত বেশি আদর করেন যে ছোট খালার ইচ্ছা তার একমাত্র মেয়েকে দূরে কোথাও বিয়ে না দিয়ে সবসময় কাছে কাছেই রাখতে যার একমাত্র সহজ উপায় আপনার সাথে বিয়ে দেয়া। তখন কিন্তু আপনার ভালোর জন্যই এই অনুমোদন আগেই দেয়া হয়েছে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

3178 views

Related Questions