বিয়ে নাকি প্রতিবন্ধী সৃষ্টির মাধ্যম?
2 Answers
মানবজাতির সর্ব প্রথম বন্ধন স্বামী- স্ত্রীর বন্ধন। আল্লাহ তায়ালা যখন আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করেছিলেন, তখন হাওয়া (আঃ) কেও সৃষ্টি করেন এবং জান্নাতে বসবাস করার সুযোগ দেন। কিন্তু শয়তান এর প্ররোচনায় নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার জন্য তাদেরকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। এরপর তারা পৃথিবীতে একসাথে বসবাস শুরু করেন এবং সন্তান-সন্তদি লাভ করেন। আদম এবং হাওয়া (আঃ) মোট আশি জোড়া একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে সন্তান লাভ করেন। সেই সময়ে আল্লাহর নির্দেশে আগের জোড়ার ছেলের সাথে পরের জোড়ার মেয়ের, পরের জোড়ার ছেলের সাথে আগের জোড়ার মেয়ের বিয়ে হত। তখন নিজের ভাই বোনের মাঝে বিয়ে হত শুধুমাত্র প্রয়োজনের খাতিরে। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসলামে বেশ কিছু রক্তের সম্পর্কের মানুষের সাথে বিয়ের সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হয়েছেে। একটি ছেলের জন্য যে সকল মানুষের সাথে ইসলামে বিয়েকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারা হলঃ মা, ঔরসজাত কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, দাদী, নানী, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, বোনঝি, দুধ-মা দুগ্ধপোষ্য অবস্থায় যদি অপর কোনো মহিলার দুধ পান করে, দুধ বোন, সৎ কন্যা, ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং একই সাথে দুই বোনকে। (সূরা আন- নিসাঃ ২৩-২৪)।
একই রক্তের নেগেটিভ গ্রুপের মধ্যে বিয়ে হলে সন্তান প্রতিবন্ধী হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। একই গ্রুপের নেগেটিভ রক্ত যেমন ধরুন কারো রক্তের গ্রুপ যদি বি- হয় এবং তার চাচাতো, খালাতো, মামাতো, ফুফাতো বোন এমনকি অন্য কোন বহু দূরের মানুষ যার রক্তের গ্রুপ বি- তাদের বিয়ে হলে সন্তান প্রতিবন্ধী হতে পারে, অর্থাৎ সম্ভাবনা প্রবল। যদি একই গ্রুপের পজিটিভ রক্ত হয় তাহলে কিন্তু সেই সম্ভাবনা একেবারেই কম। অন্য গ্রুপ হলে কিন্তু নেগিটিভ গ্রুপ হলেও সমস্যা নেই।
এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে ইসলাম ধর্মে খালাতো, মামাতো, চাচাতো বা ফুফাতো বোন বিয়ের অনুমতি কেন দেয়া হয়েছে? এটা কিন্তু অনুমোদন, বাধ্যতামূলক না। আপনি অবশ্যই অন্যদের বিয়ে করতে পারেন তবে যদি আপনার মা বাবা আপনার ছোট খালার একমাত্র মেয়েকে এতই পছন্দ করেছেন আপনার জন্য, আর আপনার ছোট খালাও ছোট বেলা থেকেই আপনাকে এত বেশি আদর করেন যে ছোট খালার ইচ্ছা তার একমাত্র মেয়েকে দূরে কোথাও বিয়ে না দিয়ে সবসময় কাছে কাছেই রাখতে যার একমাত্র সহজ উপায় আপনার সাথে বিয়ে দেয়া। তখন কিন্তু আপনার ভালোর জন্যই এই অনুমোদন আগেই দেয়া হয়েছে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।