4 Answers
একটা কথা আছে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদুর। বিশ্বাস করলে ভগবান আছে। কারণ ভগবানকে আমরা তো কেউ দেখিনি। কোনো ভুল হলে হ্মমা করবেন।
মানব মন কৌতুহল প্রবণ।তাই অজানাকে জানা,অচেনাকে চেনার বাসনা তার থাকবেই এটাই স্বাভাবিক।ভগবান অাছেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন শুধু অাজকেই নয় যুগ যুগ ধরেই মানুষের কৌতুহল মনের জানালায় তা ওকি দিয়েছে।
যাহোক, তখন উপনিষদের যুগ চলছে।ঋষি অথর্বণের কাছে তার ছাত্র বিধিবৎ বললেন, "গুরু,ব্রহ্মকে(ঈশ্বর)কিভাবে পাব?তখন ঋষি অথর্বণ নিম্নোক্ত শ্লোকটি বললেন :-
ওঁ ঈশাবাস্যং ইদং সর্বং যৎকিঞ্চ জগত্যাং জগত
তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথাঃ মাগৃধঃ কস্যস্বিদ্ধনম ।।১।[1]
অর্থাৎ (হে শিষ্য) এজগতে যা কিছু অাছে তা পরম করুণাময় ঈশ্বরের দ্বারাই পরিব্যাপ্ত। (তাই ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্য)অাগে ত্যাগ কর, পরে ভোগ কর।নিজের কিংবা পরের বিত্তে লোভ করোনা।
তাৎপর্য
হিন্দুধর্ম অনুসারে,এ জগতের সবকিছু ঈশ্বরের থেকেই সৃষ্ট এবং উনাতেই বিলিন হবে।যেহেতু সবকিছু ঈশ্বর থেকে সৃষ্ট অতএব সবকিছুর মাঝেই বিরাজমান তিনি।কিন্তু সেই পূর্ণ সত্ত্বাকে অামরা অপূর্ণ ভাবছি অামাদের ইন্দ্রিয়ের জগৎ দ্বারা।ফলে স্থান-কাল-পাত্রভেদে সেই অনন্তকে অামরা খণ্ড করে ফেলছি।ফলে বিভিন্ন জন তাকে বিভিন্ন রূপে,নামে উপাসনা করছে।অামরা ভাবছি এটা মানুষ,এটা গরু, ওটা ছাগল, উনি হিন্দু কিংবা মুসলমান ইত্যাদি ইত্যাদি।কিন্তু এই নাম রূপের খেলা যদি বাদ দেওয়া যায়, তবে কেবল ব্রহ্ম(ভগবানই)থাকবে।কেননা সোনা দিয়ে চূড়ি, গয়না, বালা সবই বানানো যায় কিন্তু তা ভাঙলে তা কেবলই সোনা।সেখানে সোনা বিকার বা অাকার লাভ করেছিল মাত্র। কিন্তু সোনা তা কেবলই সোনা তাকে ভাঙা যায় না।একইরূপে সেই অনন্ত শক্তি অাত্মা রূপে সবার মধ্যে বিরাজ করছে।কিন্তু নাম রূপ বাদ দিলে দেখব সেখানে কেবল ঈশ্বর অাছেন অার কিছু নেই।কেননা সবকিছু ঈশ্বর হতেই সৃষ্ট।তিনি ছাড়া এজগতে অার কিছুই নেই।তাই তিনি কেবল অাছেননি নন, প্রতিনিয়তই বিভিন্ন রূপে অামরা তাকে দেখতেও পাচ্ছি!
ঈশ্বর যেহেতু সবার মধ্যে বিরাজ করছে তখন অামি বলে কিছু থাকে না। এজন্য ঋষি প্রথমে ত্যাগ ও পরে ভোগ করতে বলেছেন।কিন্তু এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধনের প্রতি লোভ,তা সে নিজেরই হোক বা পরের।
অাশা করি বুঝাতে পেরেছি।নমস্কার।
তথ্যসূত্র ও টীকা
১.ঈশোপনিষের ১ম শ্লোক
২.হিন্দুধর্মে অাত্মা বলতে প্রচলিত অর্থে প্রাণ বায়ুকে নয় স্বয়ং ঈশ্বরকে বোঝানো হয়।