আসসালামু আলাইকুম। আমি আগে নামাজ পড়তাম না , গান বাজনা , নাটক  ফটোগ্রাফি ইত্যাদি কবিরা গুনাহ করতাম আমি প্রথম রমজান থেকে তওবা করে সব ছেরে দিয়েছি ?? আর এইগুলা করি না , জানি আমি এইগুলা পাপ কাজ তবুও আমার সেই সময় জ্ঞান হয় নি , কি  করলে এই কবিরা গুনাহ মাপ হয়?
3010 views

2 Answers

গুনাহ দুই প্রকার কবিরা ও সগিরা । সগিরা গুনাহ মাফ হতে পারে। তবে কবিরা গুনাহ (তওবা ব্যতিত) মাফ হবে না। এ সম্পর্কে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ গণনা করলে সত্তরটি পর্যন্ত হয়। (ইমাম তাবারি)আল্লামা শামসুদ্দিন জাহাবি (রাহ.) বলেন, কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ গণনা করলে অনেক পাওয়া যায়।আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন, কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ এমন সব অপরাধ, যা করা বানা করার কারনে পৃথিবীর আদালতে শাস্তির বিধান রয়েছে এছাড়া পরকালের বিচারেও আছে শাস্তি। কবিরা গুনাহ তওবা ছাড়া মাফ হয় না। মানুষের হক থাকলে সেটাও মিটাতে হবে, তওবাও করতে হবে. তাওবা কি? তাওবা আরবী শব্দ। পবিত্র কুরআন মাজিদে এ শব্দটি ৭ বার বর্ণিত হয়েছে। এর শাব্দিক অর্থ- অনুতপ্ত হওয়া, ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা ইত্যাদি।পারিভাষিক অর্থে- গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা ও উক্ত গুনাহের কাজ বর্জন ও তা পূণরায় না করার দৃঢ় অঙ্গিকার করাকে তাওবা বলে।অনুতপ্ত না হয়ে যদি শুধুমাত্র মুখে হাজার হাজার বার আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ বুলি আওড়াতে থাকি তা তাওবা বলে গণ্য হবে না। কারণ, তাওবা হল অন্তরের জিনিস। আল্লাহ তাআলা অন্তরকে দেখবেন তা গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হল কিনা? যদি কোন গুনাহগার বান্দা মুখে আস্তাগফিরুল্লাহ নাও উচ্চারণ করে বরং অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় এবং উক্ত গুনাহের দিকে পুনরায় ফিরে না আসার সংকল্প করে তাহলে তা তাওবা বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীর তাওবাতে অত্যন্ত খুশি হন।

3010 views

আপনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান আর প্রতিজ্ঞা করেন তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। কারণ আল্লাহ কোরআনে বলেছেন ان الله غفور رحيم  নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আপনি নামাজ পড়ে দোয়া করুন।নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেবেন।

3010 views

Related Questions