3 Answers
না গায়েবানা জানাযা জায়েজ নেই। জানাযার প্রথম শর্ত হল যার জানাযা পড়া হবে, সেই লাশ সামনে থাকা।
ইমাম বুখারী রহঃ তার কিতাবে বর্ণনা করেন,
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَى النَّجَاشِيَّ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ خَرَجَ إِلَى الْمُصَلَّى فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ أَرْبَعًا
অর্থ, হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ আমাদের নাজ্জাশির মৃত্যুর খবর দিলেন যে দিন সে মারা গিয়েছিলো। তখন রাসূল সাঃ মুসল্লার দিকে বের হলেন। সাহাবীদের নিয়ে চার তাকবীরে জানাযার নামায আদায় করলেন।
(ছহীহুল বুখারীঃ ১/৪২০ হাদীস নং ১১৮৮, ১২৫৫, ، ১২৬৩ , ১২৬৮ , ৩৬৬৭)
ইমাম তিরমিযী রহঃ তার জামে তিরমিযীতে উল্লেখ করেন,
حدثنا أبو سلمة يحيى بن خلف و حميد بن مسعدة قالا حدثنا بشر بن المفضل حدثنا يونس بن عبيد عن محمد بن سيرين عن أبي المهلب عن عمران بن حصين قال قال لنا رسول الله صلى الله عليه و سلم إن أخاكم النجاشي قد مات فقوموا فصلوا عليه قال فقمنا فصففنا كما يصف على الميت وصلينا عليه كما يصلى على الميت وفي الباب عن أبي هريرة و جابر بن عبد الله و أبي سعيد و حذيفة بن الأسيد و جرير بن عبد الله
অর্থ, হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল সাঃ আমাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের ধর্মীয় ভাই নাজ্জাশী ইন্তেকাল করেছেন। সুতরাং তোমরা দাড়াও এবং তার জানাযার নামায পড়ো। ইমরান ইবনে হুসাইন রাঃ বলেন, আমরা দাড়ালাম। আমরা কাতার করলাম যেমন সাধারন মায়্যেতের জন্য কাতার করা হয়। আমরা তার জানাযার নামায পড়লাম যেমন সাধারন লাশের জানাযা পড়া হয়।
(জামে তিরমিযীঃ ৩/৩৫৭ হাদীস নং ১০৩৯, সুনানে ইবনে মাযাঃ ১/৪৯১ হাদীস নং ১৫৩৫,)
সুনানে নাসায়ীতে জাবের রাঃ থেকে বর্ণিত আছে,
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِنَّ أَخَاكُمُ النَّجَاشِىَّ قَدْ مَاتَ فَقُومُوا فَصَلُّوا عَلَيْهِ فَقَامَ فَصَفَّ بِنَا كَمَا يُصَفُّ عَلَى الْجَنَازَةِ وَصَلَّى عَلَيْهِ
অর্থ, হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল সাঃ বললেন, তোমাদের ধর্মীয় ভাই নাজ্জাশী ইন্তেকাল করেছেন। সুতরাং তোমরা দাড়াও এবং তার জানাযার নামায পড়ো। তার পর রাসূল সাঃ দাড়ালেন। আমাদের নিয়ে কাতার করলেন। যেমন সাধারন মায়্যেতের জন্য কাতার করা হয়। এবং তার জানাযার নামায পড়ালেন।
(সুনানে নাসায়ীঃ ৪/৬৯ হাদীস নং ১৯৭০)
গায়েবানা জানাযা নামাজ জায়েজ কি না এ নিয়ে ইমামদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। ইমাম মালেক এবং ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতানুসারে গায়েবানা জানাযা নামাজ জায়েয নেই। তাদের যুক্তি হলো, নাজাশী রা. এর গায়েবানা জানাযা নামাজের ব্যাপারটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বিশেষায়িত ছিলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একমাত্র নাজাশী রা. এর ক্ষেত্রেই দূর থেকে জানাযা নামাজ পড়েছিলেন। অন্য কারো ক্ষেত্রে এমনটি করেন নি। আর ইমাম শাফী এবং ইমাম আহমদ রহ. এর মতে গায়েবানা জানাযা নামাজ জায়েয।তাদের যুক্তি হলো, নাজাশির ঘটনাটি ব্যাপক ভিত্তিক বিধানের অন্তর্গত হবে। তবে যারা জায়েয বলেন, তারা এটাকে সবার ক্ষেত্রে জায়েয বলেন না। বরং তারা বলেন, ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে যারা উঁচু মর্গের তাদের ক্ষেত্রে গায়েবানা জানাযা পড়া যাবে। সাধারণদের ক্ষেত্রে নয়। https://islamqa.info/ar/35853