10 Answers
১।কেসিও। ২।এলিসন। ৩।পেলে। ৪।কাকা। ৫।নেইমার। এবং এদের মধ্যে আমার মতে সবেচেয়ে ভাল কাকা।
দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা (জন্ম ৩০ অক্টোবর ১৯৬০) একজন আর্জেন্টিনীয় ফুটবল কোচ সেইসাথে একজন ম্যানেজার এবং প্রাক্তন খেলোয়াড়। অনেক বিশেষজ্ঞ, ফুটবল সমালোচক, প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং ফুটবল সমর্থক তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গন্য করেন। তিনি ফিফার বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ে পেলের সাথে যৌথভাবে ছিলেন।
আমার মতে সর্বকালের সেরা ৫ ব্রাজিলীয়ান হচ্ছে, ১।পেলে। ২।রবার্তো কার্লোস। ৩।রোনালদো। ৪।রোনালদিনহো। ৫।কাফু। আর এদের মধ্যে সেরা হচ্ছে পেলে।
১. পেলে (১৯৫৭-৭১, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯২টি, গোল ৭৭টি) : ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন পেলে। বর্ণিল ক্যারিয়ারে পেলে নিজেকে এমন এক রেকর্ডে পৌঁছে দিয়েছেন যেটি এখনো পর্যন্ত আর কেউ ভাঙ্গতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনি ফুটবলকেও পৌঁছে দেন অনন্য এক উচ্চতায়। ফুটবল ক্যারিয়ারে তার ১২৮১ গোলের রেকর্ডটি ফিফার অফিসিয়াল রেকর্ডের শীর্ষস্থান দখল করে রয়েছে। আর তিনিই হলেন ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের মেডেল লাভ করেছেন। কৈশোর বয়সে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে পা রাখা এই ফুটবলার ১৯৭০ সালে নিজেকে বসিয়ে দেন ফুটবলের রাজার আসনে। ক্লাব পর্যায়ে তিনি ৪০টির ও বেশি শিরোপা লাভ করেছেন। যার বেশিরভাগই এসেছে স্যান্টোস ক্লাবের হয়ে। তার অবস্থানের সময় ওই ক্লাবটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে মোহনীয় ক্লাব।২. গ্যারিনচা (১৯৫৫-৬৬, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৫০টি, গোল ১২টি) : ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে যদি পেলের চেয়ে সেরা হিসেবে কাউকে মনোনীত করা হতো তাহলে সেই জায়গাটি লাভ করতেন এই ফুটবল কিংবদন্তী। ফুটবলের ইতিহাসে সেরা ড্রিবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা গ্যারিনচা দু’টি বিশ্বকাপ শিরোপাসহ জয় করেছেন ক্লাব পর্যায়েরও শিরোপা। ৩. রোনালদো (১৯৯৪-২০১১, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯৮, গোল ৬২): তিনি তিনবার ফিফা বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব অর্জন করেছেন। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন রোনালদো। চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি দখল করেন। ১৫তম গোল করে তিনি টপকে যান গার্ড মুলারকে। ৪. জিকো (১৯৭৬-৮৬, আন্তর্জাতিকম্যাচ ৭১টি, গোল ৪৮টি): আইএফএফএইচএস-এর তালিকায় বিংশ শতাব্দির অষ্টম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জিকোকে। অসাধারণ পাস ও ফ্রি-কীকের জন্য তিনি বেশি নাম কামিয়েছেন। তিনি ছিলেন খুবই বিপজ্জনক ফিনিশার ও ক্যারিয়ার শেষ করেছে ক্লাব পর্যায়ের ৭০০ ম্যাচে ৫০০টি গোল করে। তিনবার দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব লাভ করেছেন জিকো। ৫. রোমারিও (১৯৮৭-২০০৫, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৭০টি, গোল ৫৫টি) : ‘গোল এলাকার জিনিয়াস’ হিসেবে বর্ণনা করা যায় রোমারিওকে। কিংবদন্তী জন ক্রুইফ ও রোমারিওকে সবচেয়ে প্রতিথজশা ও বস্তুনিষ্ঠ স্ট্রাইকার হিসেবে মনে করা হয়। তিনি বার্সেলোনার হয়ে লা লীগা শিরোপা জয়ের পাশাপাশি পিএসবি এনডোভানের হয়ে তিনবার জয় করেছেন ইরাডিভাইস শিরোপা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি দুইবার কোপা দেল রে শিরোপা এবং ১৯৯৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। ৬. রোনালদিনহো (১৯৯৯-বর্তমান, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯৭টি, গোল ৩৩টি) : সেরা সময়ে ফুটবল ইতিহাসের খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড় রয়েছে যারা রোনালদিনহোর সমকক্ষ দাবী করতে পারেন। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের প্রধান নায়ক ছিলেন তিনি। চার বছর পর ফের দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিলেও সফল সমাপ্তি ঘটাতে পারেননি। পরপর তিনি ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব অর্জন করেন। অতি সম্প্রতি তিনি ২০১৩ সালের কোপা লিবারটাডোরস ও নতুন করে রাইজিং সাউথ আমেরিকান ফুটবলার অব দ্য ইয়ার খেতাবে ভুষিত হয়েছেন। ৭. কাফু (১৯৯০-২০০৬, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১৪২টি, গোল ৫টি) : ব্রাজিলের হয়ে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেয়া সবচেয়ো স্পেশাল খেলোয়াড় হচ্ছেন কাফু। তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে ১৪২বার জাতীয় দলের পোশাক জড়িয়েছেন গায়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে কাফু হচ্ছেন একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিনটি আলাদা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার নজীর স্থাপন করেছেন। ক্লান্তিহীন এই রাইট ব্যাক পরপর ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ব্রাজিলের ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী দলেরও গর্বিত সদস্য ছিলেন। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কাফু ২১টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। তন্মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ১৬টি ম্যাচে জয়লাভ করেছেন। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকের বর্ষসেরা ফুটবলের খেতাব লাভ করেন কাফু। ৮. সক্রেটিস (১৯৭০-৮৬, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৬০টি, গোল ২২টি): দীর্ঘদেহী এবং রুচিশীল এই মিডফিল্ডার ১৯৮২ সালে জিকো, ফ্যালকাও ও ইডরকে নিয়ে এমন এক মধ্যমাঠ সৃষ্টি করেছিলেন যা ছিল এক অর্থে ভয়ঙ্কর। অধিনায়ক হিসেবে তিনি অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শনের পরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে জয় করতে পারেননি বিশ্বকাপের শিরোপা। ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা খেলোয়াড়ের খেতাবও লাভ করেন সক্রেটিস। ৯. জাইরজিনহো (১৯৬৪-৮২, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৮১টি, গোল ৩৩টি) : ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আরেক নায়ক। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার এক অনন্য নজীর সৃষ্টি করেন এই ওয়েঙ্গার। তার পারফর্মেন্সের কল্যাণে ওই আসরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ওই টুর্ণামেন্ট তিনি সাত গোল করেন। চার বছর পর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তার করা দুই গোলে ভর করে সেমি-ফাইানালে পৌঁছে যায় ব্রাজিল। ১০. রবার্তো রিভেলিনো (১৯৬৫-৭৮, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯২টি, গোল ২৬টি) : স্বাগতিক ব্রাজিলের হয়ে যারা ফুটবল বিশ্বে আলো ছড়িয়েছেন তাদের মধ্যে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ১০ অবস্থানে রয়েছে এই ফুটবল তারকা। নিখুত পাস, সূক্ষ্ম ফুটবল শৈলী এবং ফ্রি-কিকের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের দলে তিনি ছিলেনঅপ্রতিদ্বন্দ্বী। মেলিমহকোতে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টে যোগ্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে টুর্ণামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন তিনি।
সর্বকালের সেরা পাঁচ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার- ১. পেলে (ম্যাচ ৯২, গোল ৭৭) ২. রোনালদো (ম্যাচ ৯৮,গোল ৬২) ৩. রোমারিও (ম্যাচ ৭০, গোল ৫৫) ৪. রিভালদো (ম্যাচ ৭৪, গোল ৩৫) ৫. রোনালদিনহো (ম্যাচ ৯৭, গোল ৩৩) এটা অামার নিজস্ব মতামত। অামার মতের সাথে অনেকের মতের মিল নাও থাকতে পারে।
ইংলিশ গণমাধ্যম টোটাল স্পোর্টেক বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা ১০ জন ফুটবলারের রেটিংয়ের মাধ্যমে নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলেন ১) পেলে: ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলে। এডসন আরানতেস দো নাসিমেন্তো, বিশ্বজুড়ে তার আদুরে নাম পেলে। তিনবারের বিশ্বকাপ শিরোপাজয়ী এ ব্রাজিলিয়ানকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার মানেন বোদ্ধারাও। পেশাদার ক্লাব ফুটবলে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডটিও পেলেরই। ক্যারিয়ারে পেলের রয়েছে ১২৭৯ গোল। ২) লিওনেল মেসি: পেলের পরই মেসির অবস্থান। সমান সংখ্যক (৪৭) পয়েন্ট নিয়ে সর্বকালের সেরা ফুবলারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি ৩) ডিয়েগো ম্যারাডোনা: পেলে-মেসি থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট কম, ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ৪) জিনেদিন জিদান: সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন জিনেদিন জিদান। ম্যারাডোনা থেকে এক পয়েন্ট কম ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় জিদানের অবস্থান চতুর্থ। তিনি বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। ৫) ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার: জার্মানের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার রয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ১০ জনের তালিকায়। জিদানের সমান সংখ্যক পয়েন্ট, ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনি রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। ৬) ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও উঠে এসেছেন সর্বকালের সেরাদের তালিকা। সেরা ১০ জনের মধ্যে তার অবস্থান ষষ্ঠ। তার পয়েন্টের সংখ্যা জিদান-ফ্রাঞ্জর সমানই ৪৪। ৭) আলফ্রেডো ডি স্টেফানো: সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন তিনি। তবে দুঃখ জনক খবর হলো ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়েও দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডি স্টিফানোর কখনো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা হয়নি। তার পয়েন্টের সংখ্যা ৪১। ৮) জোহান ক্রুইফ: ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম এক সেরা ফুটবলার। ১৯৭১,১৯৭৩ এবং ১৯৭৪ সালে সর্বমোট তিনবার তিনি ইউরোপ সেরা ফুটবলার ব্যালন ডি অর এ ভূষিত হন । রাইনাস মিশেলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি টোটাল ফুটবল দর্শনের সূচনা করেন।সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় তার নামটি বহুলভাবে উচ্চারিত হয়। তার পয়েন্টের সংখ্যা ৪০। ৯) মাইকেল প্লাতিনি: মাইকেল প্লাতিনি, ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় তো বটেই, দেশ-কাল নির্বিশেষে সর্বকালের সেরাদেরই তিনি একজন। ৪০ পয়েন্ট নিয়ে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তার অবস্থান নবম। ১০) জাভি হার্নান্দেজ: সর্বকালের সেরাদের তালিকায় জাভি হার্নান্দেজের অবস্থান ১০। স্পেনিশ এ ফুটবলার বিদায় নিয়েছেন বেশ কিছুদিন আগে। ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনি আছেন পেলে-মেসি-ম্যারাডোনাদের সাথে।
পেলে (ম্যাচ ৯২, গোল ৭৭) রোনালদো (ম্যাচ ৯৮,গোল ৬২) রোমারিও (ম্যাচ ৭০, গোল ৫৫)
রিভালদো (ম্যাচ ৭৪, গোল ৩৫)রোনালদিনহো (ম্যাচ ৯৭, গোল ৩৩)