ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক শারীরিক মিলন সম্পর্কে?
8 Answers
ইসলামী শরীয়তে এটি নির্ধারিত নয়। সেটি আপনাদের মনমানসিকতা, সুবিধার উপর নির্ভর করবে। ইসলাম শুধু স্ত্রীর গুহ্যদ্বার ও মাসিকের সময় মিলন করতে বারণ করেছে। এছাড়া স্বামী/স্ত্রী যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে মিলন করতে পারবে।
ভাই ইসলামি শরিয়ত অনুযায়া নারী থাকবে উপরে আর পুরুষ থাকবে নিচে।যদি পুরুষ উপরে থাকে তাহলে তা কুকুর এর মিলনের মত হবে ।তাই নারী উপরে থাকবে।
ইসলামে শরীয়া মতে পুরুষ (স্বামী) উপরে এবং নারী (স্ত্রী) নিচে থাকবে। আর শরীরের উপর যে কোন প্রকার কাপড় দেয়া থাকতে হবে।
আর স্ত্রী যখন নিচে থাকবে এবং স্বামী তার উপর উপুড় হয়ে থাকবে তখনই স্বামীর শরীর দ্বারা স্ত্রীর শরীর ঢাকা পড়বে। তাছাড়া এ পন্থাই সর্বাধিক আরামদায়ক। এতে স্ত্রীরও কষ্ট সহ্য করতে হয়না এবং গর্ভধারণের জন্যেও তা উপকারী ও সহায়ক। বিখ্যাত চিকিতসা বিজ্ঞানী বু-আলী ইবনে সীনা তার অমর গ্রন্থ "কানুন" নামক বইয়ে এই পন্থাকেই সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে উলেখ করেছেন এবং 'স্বামী নিচে আর স্ত্রী উপরে' থাকার পন্থাকে নিকৃষ্ট পন্থা বলেছেন। কেননা এতে পুংলিংগে বীর্য আটকে থেকে দুর্গন্ধ যুক্ত হয়ে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আনন্দঘন মুহুর্তটা পরবর্তিতে বেদনার কারণ হয়ে না দাড়ায়। তাই ইসলামী জীবন বিধান মেনে চলুন আনন্দকে অনন্দ হিসেবে উপভোগ করুন। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে বিধান অনুযায়ী মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।
ইসলামের দৃষ্টিতে শারীরিক মিলন যৌনচার বিষয়ে ইসলাম বলতে সেইসব ইসলামিক অনুশাসন বোঝায় যেগুলো দ্বারা মানুষের যৌনাচার নিয়ন্ত্রিত হবে। এইসব অনুশাসন বহির্ভুত সকল প্রকার যৌনাচার ইসলামী মতে নিষিদ্ধ বাহারাম। মানব জীবনের যৌন চাহিদা ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত কিন্তু যৌনাচারের পন্থা সম্পর্কে রয়েছে অনুশাসন। মানুষের বিবিধ যৌনাচার অনুমোদনযোগ্য কি-না তা দুটি বিষয় থেকে অনুমানযোগ্য। প্রথমত: যৌনাচারের মূল উদ্দেশ্য বংশবৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত: নারী ও পুরুষ কেবল রীতিসিদ্ধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে যৌনাচারের প্রাধিকার অর্জন করে। যৌনতা বিষয়ক ফিকহ বা ইসলামিক শারীরিক মিলনআইনশাস্ত্র এবং ইসলামে যৌনতা বিষয়ক নিয়মাবলি ইসলামী প্রধান ধর্মগ্রন্থ কুরআন, হাদীস নামে পরিচিত ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণী ও কর্ম, ইসলামিক নেতৃবৃন্দ কর্তৃক প্রদত্ত ফতোয়াপ্রভৃতিতে ব্যাপক ও বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে, যা নারী ও পুরুষের মধ্যকার নিয়মতান্ত্রিক শারীরিক মিলন সম্পর্কের মধ্যে সীমিত। ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহবহির্ভুত শারীরিক মিলন সম্পুর্ন হারাম! এমনকি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানীতঃ যে সকল নর-নারী বিবাহপুর্ব শারীরিক মিলন করেছে তারা বিবাহ পরবর্তী যৌন জীবনে অসুখী। আর যে সকল নর- নারী বিবাহপুর্ব শারীরিক মিলনে লিপ্ত হননি – তারা বিবাহ পরবর্তী সুখি জীবনযাপন করেন। তাই বিবাহের আগে শারীরিক মিলন থেকে বিরত থাকুন। যারা বিবাহ ব্যতিরেকে শারীরিক মিলন করতে চাইছেন তাদের প্রতি:- “ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। ” (সূরা আন-নূর , আয়াত নং -০৩ )
এবিষয়ে কোথাও কোন মতবাদ পাওয়া যায় নি। স্বামি স্ত্রীর মিলনের সময় কে নিচে থাকবে আর কে উপরে থাকবে এটা তারা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী নির্বাচন করবে। নিচের আয়াতটি লক্ষ করুন---- 2:223 نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنّٰى شِئْتُمْ ۖ وَقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوٓا أَنَّكُم مُّلٰقُوهُ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ অর্থ > তোমাদের স্ত্রী তোমাদের ফসলক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের ফসলক্ষেত্রে গমন কর, যেভাবে চাও। আর তোমরা নিজদের কল্যাণে উত্তম কাজ সামনে পাঠাও। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় তোমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে । আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও। আয়াতের বিশ্লেষণ : ............................. তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছে [১] গমন করতে পার। আর তোমরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু করো [২] এবং আল্লাহকে ভয় করো। এবং জেনে রেখো, তোমরা অবশ্যই আল্লাহর সম্মুখীন হবে। আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন। [১] আল্লাহ এখানে স্ত্রীদের সাথে সংগমের কোন নিয়মনীতি বেঁধে দেননি। শুইয়ে, বসিয়ে, কাত করে সব রকমই জায়েয। তবে যৌনাঙ্গ ছাড়া অন্যান্য অঙ্গ যেমন, পায়ূপথ, মুখ ইত্যাদিতে সংগম করা জায়েয নেই। কেননা, তা বিকৃত মানসিকতার ফল। এ ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীসে নিষেধ এসেছে। [২] এখানে ভবিষ্যতের জন্য কিছু কর' বলতে অনেকের মতেই সন্তান-সন্ততির জন্য প্রচেষ্টা চালানো বুঝানো হয়েছে।