2 Answers
অতিরিক্ত সাদাস্রাব, জ্বরায়ুতে প্রদাহ বা ইনফেকশন হলে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিপ্রটোজোয়াল জাতীয় ঔষধী মেট্রোনিডাজল খেতে পারেন,বাজারে metro/amodis নামে পাওয়া যাই।তাছাড়া আরো অনেক কারণে তলপেটে ব্যথা করতে পারে, যেমন:(১)গনোরিয়া(Gonorrhea) হচ্ছে একটি যৌনবাহিত রোগ।Neisseria gonorrhoeae (নিশেরিয়া গনোরি) নামক জীবাণু এই রোগের জন্য দায়ী। পুরুষের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া (ডিজইউরিয়া) ও মূত্রনালি দিয়ে পূয বের হয়। স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না আবার কারো ক্ষেত্রে যোনিপথে পূয বের হয় এবং তলপেটে ব্যথা হতে পারে। যদি সময়মত এই রোগের চিকিৎসা না করালে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই এই রোগ আশেপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং পুরুষের এপিডিডাইমিস ও মহিলার তলপেটে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। গনোরিয়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি এটি শরীরের অস্থিসন্ধিসমূহ ও হার্টের ভালবকেও আক্রান্ত করতে পারে,২৫ বছরের নিচে যৌনকার্যে সক্রিয় সকল নারীদের প্রতিবছর এই রোগের পরীক্ষা করানো উচিত। বিস্তার সম্পাদনা যৌনমিলনের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেকজনের দেহে এই রোগের জীবাণু ছড়ায়। এটা যোনিপথ, মুখগহ্বর বা পায়ুপথ যে কোনো পথেই ছড়াতে পারে। গনোরিয়ায় আক্রান্ত মহিলার সাথে একবার যৌনকর্ম করলে পুরুষলোকের এই রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ২০%, তবে সমকামী পুরুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও অনেক বেশি।আক্রান্ত পুরুষের সাথে একবার যৌনমিলনে একজন মহিলার এই রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি প্রায় ৬০-৮০%। চিকিৎসা : এই রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয় যেমন সেফট্রায়াক্সন, এজিথ্রোমাইসিন, ডক্সিসাইক্লিন ইত্যাদি। চিকিৎসার তিন মাস পর পুনঃপরীক্ষার সুপারিশ করা হয় (২)শ্রোণীর প্রদাহ রোগ বা পি আই ডি ( Pelvic Inflammatory Disease) বা পেলভিক ইনফ্লেমেটরি ডিজিজ সাধারণত জরায়ু, ডিম্বনালি ও অন্যান্য প্রজনন অংগের সংক্রামণকে বলা হয়। এই রোগ কেবল মহিলাদের ক্ষেত্রে হতে দেখা যায়।কোনো একজন মহিলার যোনী অথবা জরায়ু মুখ থেকে ব্যাক্টেরিয়াগুলি যখন ক্রমশ ওপরের প্রজনন অংগগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ ঘটায় - তখন এই রোগ আরম্ভ হয়। পি আই ডি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কিন্তু যৌন সংক্রামক দুটি রোগের ব্যাক্টেরিয়ার জন্য মূলত এই রোগ হতে দেখা যায়। এই দুটো হল: ক্লামিডিয়া ও গনোরিয়া। যৌনসংগমে সক্রিয় মহিলার প্রস্রাবের জায়গায় সংক্রমণ হওয়ার ভয় বেশি। ২৫ বছরের মহিলাদের এমন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ২৫ বছরের বেশি বয়সের মহিলাদের থেকে অধিক। যেহেতু কিশোরী ও যুবতীদের জরায়ু মুখ ভালভাবে পরিণত নয়, সেজন্য সেইসব মহিলার পি আই ডি র সাথে যৌনসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, বন্ধ্যাত্ব এমনকি ক্যান্সারের কারণও হতে পারে। লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ সম্পাদনাঃ এই রোগের লক্ষণগুলি কখনও বাহ্যিক ভাবে দেখা দেয় না, আবার কখনো খুব সাংঘাতিক ধরণের দেখা দেয়। ক্লামোডিয়ার ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রামিত হ’লে মহিলাদের কোনো উপসর্গই দেখা দেয় না বা অল্প দেখা দেয়। কিন্তু আভ্যন্তরীণ প্রজনন অংগগুলির ভয়াবহ ক্ষতি হয়। পি আই ডি তে আক্রান্ত মহিলার সাধারণ একটি উপসর্গ হ’ল- তলপেটে ব্যথা; অন্যান্য উপসর্গগুলির ভিতরে জ্বর, অস্বাভাবিক বেয়া গন্ধযুক্ত যোনিস্রাব, যৌন সংগম করার সময়ে কষ্ট পাওয়া ও অনিয়মিত ঋতুস্রাব। প্রতিরোধ সম্পাদনাঃ যেকোনো যৌন সংক্রমণ প্রতিরোধের উচিত উপায় হ’ল-যৌন সম্পর্ক না করা অথবা যৌন সংক্রামক রোগ না থাকা একজন ব্যক্তিকে যৌন সংগী করে নেওয়া। (৩)পারপেরাল সংক্রমণ, যা প্রসবোত্তর সংক্রমণ, পারপেরাল ফিভার বা চাইল্ডবেড ফিভার নামেও পরিচিত, সেটি হলো বাচ্চার জন্ম বা গর্ভপাতের পর নারীর প্রজননতন্ত্রের যেকোনো ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ । লক্ষণ ও উপসর্গসমূহের মধ্যে রয়েছে এমন জ্বর যা ৩৮.০ °সে (১০০.৪ °ফা) হালকা জ্বরের চেয়ে বেশি, কাঁপুনি, তলপেটে ব্যথা, এবং যোনি থেকে বের হয়ে আসা তরল পদার্থের সম্ভাব্য দুর্গন্ধ। এটি সাধারণত প্রসবের ২৪ ঘন্টা পরে এবং প্রথম দশ দিনের মধ্যে ঘটে থাকে। সবচেয়ে কমন সংক্রমণ হলো গর্ভাশয় এবং এর চারপাশের টিস্যুর সংক্রমণ যা পারপেরাল সেপসিস বা পোস্টপার্টাম মেট্রিটিস নামে পরিচিত। ঝুঁকির নিয়ামকগুলোর অন্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সিজারিয়ান সেকশন, যোনিপথে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি যেমন: গ্রুপ বি স্ট্রেপ্টোকক্কাস, সময়ের আগেই ঝিল্লি ছিঁড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রসব বেদনা । বেশিরভাগ সংক্রমণের সাথে বিভিন্ন ধরনের অনেকগুলো ব্যাকটেরিয়া জড়িত। যোনিপথ বা রক্তের কালচার পরীক্ষা দ্বারা রোগ নির্ণয়ে খুব কমই সহায়তা পাওয়া যায়৷ যাদের উন্নতি ঘটে না তাদের জন্য মেডিকেল ইমেজিং এর দরকার হতে পারে। প্রসবোত্তর জ্বরের অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে: স্তন প্রদাহ, মুত্রনালীর সংক্রমণ, তলপেটের কাটা জায়গা বা এপিসিওটমি-তে সংক্রমণ এবং অ্যাটেলেক্টাসিস । সি-সেকশন পরবর্তী ঝুঁকিসমূহের কারণে অস্ত্রোপচারের সময়কালে সব মহিলাদের জন্য এম্পিসিলিন এর মত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধক ডোজ গ্রহণের সুপরিশ করা হয়। এযাবত জ্ঞাত সংক্রমণগুলোর চিকিৎসা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই করা হয় যেখানে বেশিরভাগ রোগীই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সেরে ওঠেন। হালকা রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হতে পারে, অন্যথায় শিরায় গ্রহণের অ্যান্টিবায়োটিক সুপারিশ করা হয়ে থাকে। সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে রয়েছে, যোনিপথে প্রসবের ক্ষেত্রে এম্পিসিলিন ও জেন্টামাইসিন এর সমন্বয় অথবা যাদের সি-সেকশন করা হয়েছে তাদের জন্য ক্লিন্ডামাইসিন ও জেন্টামাইসিন। যথাযথ চিকিৎসায় সেরে উঠছেন এমন ব্যক্তিদের ফোঁড়ার মত অন্য কোনো জটিলতা থাকলে তা বিবেচনায় নেয়া উচিত। উন্নত বিশ্বে প্রায় এক থেকে দুই শতাংশের মধ্যে যোনিপথে প্রসবের পর গর্ভাশয়ের সংক্রমণ দেখা যায়। প্রতিরোধক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের আগে, যাদের আরও বেশি প্রসবকালীন জটিলতা ছিল তাদের ক্ষেত্রে এটি পাঁচ থেকে তের শতাংশ এবং সি-সিজারিয়ান করা হয়েছে এমন মহিলাদের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ২০১৩ সালে এই সংক্রমণ ২৪,০০০ মৃত্যুর কারণ ঘটিয়েছিল যা ১৯৯০ সালের ৩৪,০০০ মৃত্যুর চেয়ে কম ছিল। অবস্থাটির সর্বপ্রথম জ্ঞাত বিবরণ পাওয়া যায় কমপক্ষে খৃষ্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে হিপোক্রেটসের লেখা থেকে।এই সংক্রমণগুলোই ছিল শিশু জন্মদানের সময়কালব্যাপী মৃত্যুর অতি সাধারণ কারণ যা কমপক্ষে ১৮ শতাব্দীতে শুরু হয়ে ১৯৩০ এর দশক পর্যন্ত চলেছে, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রচলন হওয়ার আগ পর্যন্ত৷ ১৮৪৭ সালে অস্ট্রিয়াতে ইগনাজ সেমেলউইস ক্লোরিন দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা চালু করে এই রোগজনিত মৃত্যুর হার প্রায় বিশ শতাংশ থেকে দুই শতাংশে নামিয়ে এনেছিলেন। (এছাড়া আরো কারণে হতে পারে।)