বোন হিসেবে পরনারীরর সাথে কথা বলা কি জায়েজ?
1 Answers
আপনার প্রশ্নটি অনেক সুন্দর।! ভাই, আপনাকে এটি জানতে হবে যে, ইসলাম হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান এবং এটি পরিপূর্ণ করা হয়েছে মানব জাতির ব্যাক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল সমস্যার সমাধান দিয়ে। এটি শান্তি ও মানবতার ধর্ম। ইসলাম ফিৎনা-ফাসাদকে ঘৃণা করে তাই সর্বদা ফিৎনা ফাসাদ থেকে সমাজ ও জীবনকে নিরাপদ রাখার সব রকম নিয়ম ও পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে। আপনি পরনারীকে বোন বলে সম্বোধন করেন এটা অবশ্যই ভাল। ইসলাম বলে, “আল মুসলিমু আখুল মুসলিম” অর্থাত মুসলমান মুসলমানের ভাই। তেমনি মুসলমান নারী-পুরুষও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভাই-বোন। কিন্তু তাই বলে কেবল বোন ডাকলেই কারো সাথে কথা বলার বৈধতা ইসলাম দেয়নি। আপনি হয়ত ভাবছেন, আপনার মনে কোন কুচিন্তা নেই, তাহলে কেন পরনারী দুজনের সাথে কথা বলা ও দেখা সাক্ষাত করা অবৈধ হবে? ভাই, আপনি নিজে অবশ্যই ভাল মানুষ, কিন্তু শয়তান তো বসে নেই। পবিত্র কুরআন ঘোষণা করছে-“ইন্নাশ শাইতনা লাকুম আদুউউম মুবিন।” অর্থাত শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সুতরাং আপনি যতই ভাল থাকতে চান না কেন, শয়তান আপনাকে প্ররোচনা দিতেই থাকবে। পাশাপাশি আপনি হয়ত ভালই থাকবেন কিন্তু শয়তান তো আপনার ডাকা “বোন” দেরও প্ররোচনা দিবে। সে জন্যই ইসলাম পরনারী ও পরপুরুষে কথাবার্তা অবৈধ ঘোষণা করে দিয়েছে। হাদীস বলছে, যখন কোন পরপুরুষ ও পরনারী একত্রে দেখা সাক্ষাত ও কথা বার্তা বলে তখন তাদের মধ্যে তৃতীয়জন হিসেবে থাকে শয়তান। সর্বোপরি ইসলাম যেমন বিবাহ বহির্ভূত যেনা-ব্যভিচারকে অবৈধ করেছে তেমনি এর জন্য আনুষাঙ্গিক সকল কার্যক্রমকেও অবৈধ করেছে। পবিত্র কুরআন দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিচ্ছে- “ওয়ালা তাকরবুজ ঝিনা...” অর্থাত “তোমরা ব্যাভিচারের কাছেও যেও না”। এই কথার দ্বারা বুঝানো হয়েছে, ব্যভিচার তো করবাই না, ব্যভিচার সংঘটিত হতে পারে এমন কার্যক্রমের সাথে দূরতম সম্পর্কও রাখবে না। সুতরাং ইসলাম যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তাদের কে ছাড়া অন্য যে কোন নারীই পরনারী এবং পরনারীর সাথে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনরকম দেখা-সাক্ষাত ও কথা-বার্তা অবৈধ। এ অবৈধ কাজের জন্য আপনার “ইসলামে পর্দার বিধান” লঙ্ঘন করার শাস্তি হবে। আশা করি আপনার উত্তরটি পেয়েছেন।