গর্ভাবস্থায় কোন কোন খাবার খাওয়া উচিৎ নয়?
কোন কোন খাবার খেলে গর্ভস্থ ভ্রুন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
3 Answers
গর্ভবতী নারীর খাবারের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যে খাবারগুলো খেলে গর্ভপাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে সেসব খাবার এড়িয়েই চলা উচিত। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু খাবারের কথা।
১. কাঁচা ডিম
গর্ভবতী নারীর কখনোই ভালোভাবে ভাজা বা রান্না ছাড়া ডিম খাওয়া উচিত নয়। এক্ষেত্রে এমন কোনো খাবারও খাওয়া উচিত নয় যেখানে ডিম ভালোভাবে রান্না ছাড়াই দেওয়া হয়। এগুলো স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হতে পারে, যা গর্ভপাতও ঘটাতে পারে।
২. কাঁচা দুধ
গর্ভবতী নারীর কাঁচা কিংবা পাস্তরিত নয় এমন দুধ পান করা যাবে না। কারণ এগুলো ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে। এতে গর্ভপাতসহ আরও বিপদের কারণ হতে পারে।
৩. শজনে
শজনে খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। কিন্তু গর্ভবতী নারীর এ সবজিটি খাওয়া মোটেই উচিত নয়। কারণ সজনেতে রয়েছে আলফা-সিটোস্টেরল। এটি গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।
৪. কলিজা
কলিজা স্বাভাবিক অবস্থায় পুষ্টিকর হলেও তা যদি অসুস্থ প্রাণীর হয় তাহলে তাতে প্রচুর ক্ষতিকর পদার্থ থাকতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীর কলিজা এড়িয়ে চলা উচিত।
৫. ঘৃতকুমারী
ঘৃতকুমারী গাছের নির্যাস থেকে তৈরি কোনো খাবার গর্ভবতী নারীর খাওয়া বা পান করা উচিত নয়। বিশেষত গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এটি পেলভিক হেমারেজের কারণ হতে পারে।
৬. অঙ্কুরিত বা সবুজ আলু
গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক আলু খেতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আলুটি যদি হয় অঙ্কুরিত তাহলে তাতে বহু ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে। আর এটি গর্ভবতী নারী ও তার অনাগত শিশুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
৭. পেঁপে
পেঁপে গর্ভবতী নারীর গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। বিশেষত কাঁচা পেপে একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে গর্ভাবস্থায়।
৮. আনারস
আনারসে রয়েছে ব্রোমেলাইন নামে একটি উপাদান। এটি ইউটেরাইন মাংসপেশিকে শীথিল করে। এতে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সন্তান জন্মদানের সময় হলে অবশ্য আনারসের জুস পান করলে সন্তান প্রসব সহজ হয়।
http://www.kalerkantho.com/home/printnews/464793/2017-02-17
প্রেগন্যান্ট অবস্থায় যে খাবারগুলো খাওয়া উচিৎ : ১। ফল ও শাকসবজি দিনে ৫ বার ফল ও ৭ বার সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। ফলের চেয়ে শাকসবজি বেশি খান। জুস ও স্মুদি ও পান করতে পারেন। তবে এগুলোর সুগার ব্লাড সুগার লেভেল বৃদ্ধি করতে পারে এবং দাঁতেরও ক্ষতি করতে পারে। তাই এগুলো সীমিত পরিমাণে পান করাই ভালো। তাজা ফল ও সবজি খাওয়াই বেশি স্বাস্থ্যকর। ২। স্টার্চ জাতীয় খাবার আলু, লাল চালের ভাত, রুটি, পাস্তা ইত্যাদি স্টার্চ জাতীয় খাবার আপনার প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় রাখুন। শর্করা জাতীয় খাবার শরীরে এনার্জি প্রদানে সাহায্য করে। ৩। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার চর্বিহীন মাংস, মুরগী, মাছ, ডিম, ডাল (মটরশুঁটি, মসূর ডাল) ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। সপ্তাহে ২ দিন বা তারচেয়েও বেশি মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন। সারডিন, স্যামন এর মত তৈলাক্ত মাছ বা সামুদ্রিক মাছ সপ্তাহে ১ দিন খেতে পারেন। আমিষ জাতীয় খাবার গর্ভের শিশুর শরীরের নতুন টিস্যু গঠনের জন্য সাহায্য করে। ৪। দুগ্ধজাত খাবার দুধ, পনির, দই ইত্যাদি খাবারগুলো ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস। এগুলোর চিনি ও ফ্যাটের পরিমাণ যেন কম থাকে সেটি খেয়াল করতে হবে। ফ্যাট জাতীয় খাবার শিশুর মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় যত সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাবেন, আপনার সন্তান ততই সুস্থ স্বাভাবিক হবে।
তাছাড়া নিয়মিত- ডিম, দুধ, ডাবের পানি, আনাড় এবং অন্যান্য ফলমূলাদি খেতে পারেন।
মনে রাখবেন, শিশুর সুস্থতার জন্য মায়ের পুষ্টির কোন বিকল্প নেই।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy