1 Answers

মানসিক রোগ হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের রোগ৷ এ ধরনের অসুস্থতায় মানুষের আচার আচরণ কথা-বার্তা চিন্তা-ভাবনা অস্বাভাবিক হয়ে যায়৷ মানসিক রোগ দু ধরনের হতে পারে: * মৃদু ধরনের মানসিক রোগ * তীব্র ধরনের মানসিক রোগ মৃদু ধরনের মানসিক রোগ এ ক্ষেত্রে জীবনের স্বাভাবিক অনুভূতিগুলো (দুঃখবোধ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি) প্রকট আকার ধারণ করে৷ এ ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হলো: অহেতুক মানসিক অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা-ভয়ভীতি, মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, বুক ধরফর করা, একই চিন্তা বা কাজ বারবার করা (শুচিবাই), মানসিক অবসাদ, বিষণত্না, অশান্তি, বিরক্তি, অসহায় বোধ, কাজে মন না বসা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা, আত্মহত্যার করার প্রবণতা বেড়ে যায় ইত্যাদি৷ তীব্র ধরনের মানসিক রোগ এ ক্ষেত্রে আচার আচরণ কথাবার্তা স্পষ্টভাবে অস্বাভাবিক হয় ফলে আশেপাশের মানুষরা এটা বুঝতে পারে৷ এ ক্ষেত্রে যে সকল লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হলো: অহেতুক মারামারি, ভাঙচুর করা, গভীর রাতে বাড়ির বাইরে চলে যাওয়া, আবোল-তাবোল বলা, সন্দেহ প্রবণতা, একা একা হাসা ও কথা বলা, নিজেকে বড় মনে করা, বেশি বেশি খরচ করা, স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়া, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করে না৷ সাধারণ কিছু মানসিক রোগের নাম নিচে দেওয়া হলো- ১. সিজোফ্রেনিয়া ২. মৃগী রোগ ৩. হিসটেরিয়া ৪. বিষন্নত ৫. মাদকাসক্তি সিজোফ্রেনিয়া সিজোফ্রেনিয়া একটি মারাত্মক মস্তিকের রোগ৷ এতে মনের স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায় এবং মস্তিস্কের বিঘ্ন ঘটে৷মূল কারণ জানা না গেলেও সিজোফ্রেনিয়ার জন্য নিম্নলিখিত কারণগুলো দায়ী বলে মনে করা হয় - * পারিবারিক এবং বংশগত হতে পারে ( মা, বাবার কারো থাকলে তাদের বাচ্চাদের হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে)৷ * গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে অনেক সময় দেখা দেয়৷ * পুষ্টিহীনতার কারণে হতে পারে৷ * রোগজীবাণু দ্বারা মস্তিস্কের সংক্রমণ ঘটলে হতে পারে৷ যেমন-ভাইরাস * বিভিন্ন ঔষুধের কারণে হতে পারে৷যেমন-ডায়ইউরেটিস * মাথায় আঘাতজনিত কারণে হতে পারে৷ লক্ষণ: * রোগীর চিন্তাশক্তি নষ্ট হয়ে যায়৷ * রোগী সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারে না এবং সমাজ থেকে পৃথক হয়ে যায়৷ * মানসিক জীবন খণ্ডিত হয়ে যায়৷ * মানসিকভাবে অস্থিতিশীল হয়৷ * রোগীর মনে হয় অন্যেরা তার চিন্তাভাবনা টের পেয়ে যাচ্ছে৷

2747 views Answered

Related Questions

Next steps