2 Answers

দেব-দেবীদের মুর্তি পূজা করার নিয়ম যদি হিন্ধু ধর্মের বেদ আর পুরাণ স্বীকৃতই হবে তাহলে তাদের এতো শতশত জাতপাতের ভেতরে প্রতিটি জাতের মধ্যেই একই নিয়ম চালু থাকার কথা ছিলো কিন্তু তা আমরা দেখিনা। কারণ হিন্দু ধর্মের ভেতরে বর্ণহিন্দু বলে একটি কথা প্রচলিত আছে অনেক আগে থেকেই যারা তাদের বিত্ত আর ঐশর্য প্রদর্শনের জন্য এই দুর্গা পূজা টাইপের হিন্দু ধর্মের প্রধান উৎসবের সৃষ্টি করেছিলো একটা সময়। এখানে উল্লেখ করতে হয় এই বর্ণহিন্দু ছাড়া তখনকার সময়ে তথাকথিত নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে যারা একটু বিত্তশালী ছিলো তারাও একটা সময়ে এই দুর্গা পূজা টাইপের উৎসব করতো যা নিজেদের সম্মান বাড়ানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। তারা (নিন্মবর্ণের হিন্দুরা) এই উচ্চবর্ণের হিন্দুদের অনুকরনের চেষ্টা করতো মাত্র। আর তাদের এই চেষ্টা সেই বর্ণ হিন্দুরা বা বিশেষ করে ব্রাহ্মনেরা একদম পছন্দ করতো না। শুধু তাই নই তারা এটাও প্রচার করে বেড়াতো যে নিম্নবর্ণের বা ছোট জাতের বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত দেব-দেবী বা ভগবানের মূর্তি (প্রতিমা) প্রণামও করা যাবে না। তারমানে এটাই প্রমাণিত হয় তাদের বিভিন্ন জাতের মধ্যে দেবতাও আলাদা আলাদা। আর তাই যদি না হবে তাহলে একই ভগবান তারা কেন একযায়গায় পূজা করে আরেকযায়গায় প্রণাম করতেও নিষেধ করে।

হিন্দু ধর্মের বেদ বা রামায়ন টাইপের যত পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আছে তাদের কোনটার মধ্যেই এই পূজা বা বিশেষ করে দুর্গাপূজার অস্তিত্ব বা আদেশ-উপদেশ আমরা পায়না। এই দুর্গা পূজার নিয়ম কিছু হিন্দু ধনাঢ্য ব্যাক্তির সম্পদ ও প্রতিপত্তি প্রদর্শনের ফলস্বরুপ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের মাঝে চালু হয়। এই দুর্গাপূজা যে তাদের বেদসম্মত নয় তার অনেক প্রমাণ আছে যেটা ভালো বলতে পারে কোন বেদ আর পুরাণ জানা বোঝা ভালো হিন্দু ঠাকুর বা পুরোহিত। আর্য সভ্যতা ও বৈদিক সভ্যতার কিছু বৈদিক পূজার ছাপ দেওয়ার জন্য হিন্দুরা তাদের বেদের দেবী সূক্তটির ব্যবহার নানা যায়গায় করে থাকে। তবে এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে হবে, আর তা হচ্ছে, এই বেদে যে “হৈমবতী উমার” কথা লেখা আছে যা কখনই হিন্দুদের দেবী দুর্গা নয় বা “হৈমবতী উমার” সাথে দেবী দুর্গার কোন সম্পর্কই নেই তাহলে দুর্গাকে কেন তারা পূজা করে আর দেবী মানে। আর একটি কথা হচ্ছে “বাল্মীকির রামায়ন” বলে পরিচিত হিন্দুদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ যে সময়ে রচনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয় সেই সময়ে তাদের “মার্কণ্ডেয় পুরাণের” জন্ম হয়নি আর তার মানে বর্তমানে হিন্দুদের বহুল পরিচিত দেবী কথিত “দুর্গার” আগমন তখনও ঘটেনি। মার্কেণ্ডেয় পুরাণ যুগের ভিত্তিতে পরবর্তিতে “শ্রীশ্রীচন্ডী” লিখিত হয়েছে। পৌরাণিক শাক্তাচারের শক্তির আদিমতম অবস্থাকে সংস্কৃতিতে বলা হয় “আদ্যাশক্তি” আর এই আদ্যশক্তির চণ্ডরুপই চণ্ড শক্তি বা “চণ্ডী” নামে পরিচিত। ধারনা করা হয় ৭০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মহাভারতে “মার্কণ্ডেয় পুরাণ” নামে পরিচিত যার সংক্ষিপ্ত নাম “চণ্ডী” প্রচলিত ছিলো তাতে এই দুর্গার নাম প্রথম খুজে পাওয়া যায় এর আগে দুর্গা বলে হিন্দু ধর্মে কোন দেবী ছিলোনা। তবে এই সময়ের সেই চণ্ডীতে দেবী “দুর্গা” আর “সুরথ” রাজার গম্প থাকলেও তাতে হিন্দুদের বহুল পরিচিত মুখ “রামের” কোন দেখা পাওয়া যায়না। সেই সাথে রাম যে দুর্গার পূজা করেছিলো বলে হিন্দু ধর্মের গল্প প্রচলিত আছে সেই গল্পও এই চণ্ডীতে ছিলো না। এসবই আসলে পরবর্তীতে যোগ করা হয়েছে নিজেদের মনগড়া ইচ্ছা অনুযায়ী।

আরো কিছু প্রমাণের ভেতরে হাজির করা যায় মোঘল যুগের কবি “তুলসী দাসের” কিছু লেখা থেকে। তুলসী দাসের “রামচিতমানস্থ” যেখানে এই রাম কর্তৃক দুর্গাকে পূজার কোন কথা উল্লেখ নেই। তাহলে এবার দেখুন এই দুর্গা পূজার প্রচলন কিভাবে চালু হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভেতরে। পাঠান যুগের বাংলা আর বরেন্দ্রভুমির ইতিহাস পড়লে আমরা তখনকার একজন রাজার নাম পাই যার নাম ছিলো “কংস নারায়ণ রায়”। এই কংস নারায়ণ রায় বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহীর বরেন্দ্রভুমির তাহেরপুর নামক অঞ্চলের রাজা ছিলেন বলে জানা যায়। এই তাহেরপুরের নামকরণ করা হয়েছিলো তৎকালীন গৌড় রাজ্যের শাসকদের একজন জায়গীরদার “তাহের খাঁ” এর নামানুসারে যার পুর্বে এই অঞ্চলের নাম ছিলো “সাপরুল”। এই তাহের খাঁ কে কংস নারায়ণ যুদ্ধে পরাজিত করে এবং তাহেরপুর সহ আশপাশে তার যত জমিজমা ও সম্পদ ছিলো তা দখল করে নেয়। এরপর সেসময় এই অঞ্চলে এই রাজা কংস নারায়ন ব্যাপক লুটপাট চালায় ও ধীরে ধীরে অকল্পনীয় ধন সম্পদের মালিক বনে যায়। এরকম সময় কংস নারায়ণ সীদ্ধান্ত নেয় তার নিজের শক্তি ও মহিমা সর্বজনে প্রকাশ করে দেখাবে যাকে বলা হয়ে থাকে “অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সংকল্প”। কংস নারায়ণের সময় তার আন্ডারে বেশ কিছু ব্রাহ্মন পণ্ডিত বা ঠাকুর ছিলো যারা এই রাজাকে বিভিন্ন ধর্মীয় যুক্তি দিয়ে থাকতো।

একসময় কংস নারায়ণ তার কয়েকজন ঠাকুরকে ডেকে তাদের বললো “আমি রাজসুয় কিংবা অশ্বমেধ যজ্ঞ করতে চাই” এর জন্য যা কিছু করার দরকার তা করা হোক। 

6178 views

১. না তাস্তে প্রাতীমা আস্থি ( রীগ বেদ ৩২ অধ্যায় ৩ নং অনুচ্ছেদ ) অর্থাৎ ঈশ্বরের কোন প্রতি মূর্তি নেই । _____ ______ ২. যারা নিজের বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে তাঁরাই মূর্তি পূজা করে ( ভগবৎ গীতা অধ্যায় ৭, অনুচ্ছেদ ২০ নম্বর ) । রেফারেন্স সহ দিলাম আশা করি আপনার প্রশ্নোত্তর পেয়েছেন।।।।

6178 views

Related Questions

ল্যরি কিং কে?
1 Answers 2506 Views