আমার ছোট ভাগ্নীর পায়খানার সাথে একফোটা মতো রক্ত পরেছে। প্লীজ আমাকে জানান, কেন হয় এমন?
আমার ভাগ্নীর বয়স ১৬ বছর। ২-৩ দিন যাবৎ ওর জ্কাবর ছিল। কালকে জ্বর সেরে গেছে। আজ হঠাৎ কিছুটা পাতলা পায়খানা হয় এবং মলদ্বার ধোয়ার সময় একফোটা রক্ত পড়ে। এরপরও আরও একবার পায়খানা হয়েছে, তবে সেবার রক্ত পড়েনি। কিসের কারনে এমনটা হতে পারে? খুবই চিন্তিত আছি। কেউ কিছু জানলে প্লীজ জানান।
2 Answers
মলের সাথে রক্ত যাওয়া মানেই কি পাইলস্? মলের সাথে রক্ত যাওয়ার অনেক কারন আছে। সাধারন ভাবে অনেকেই ভাবেন যে, পাইলস এর কারনেই মনে হয় রক্ত যায়। এটি আংশিক সত্য। কারন পাইলস ছাড়া আরোও বহুবিধ কারনে মলের সাথে রক্ত যায়। আমার একজন রোগীর ইতিহাস বলছি, যা থেকে সবাই খানিকটা হলেও এর গুরুত্ব বুঝতে পারবেন। ভদ্রমহিলার বয়স ৫৫ বৎসর, গৃহিনী, প্রায় ২ বৎসর ধরে মলের সাথে রক্ত যায়। একজন জেনারেল ফিজিশিয়ান কে দেখালেন। উনি বললেন পাইলস এর অপারেশন করাতে হবে। ভদ্রমহিলা একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে পাইলস অপারেশন করালেন, কিন্তু তার ব্যাথা ও রক্ত যাওয়া বন্ধ হয়না। অপারেশনের তিনমাস পর আমাকে দেখাতে আসলেন। সাথে বায়োপসি রিপোর্ট ছিল যা ক্যানসার শনাক্ত করতে পারেনি। আমি পরীক্ষা করে দেখি তার মলদ্বারে টিউমার (ক্যান্সার)। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজন মাংশ পরীক্ষা ( বায়োপসি)। উনার অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উনাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলাম। উনি আবার গেলেন ঢাকার একটি ক্লিনিক -এ। এবার ও তারা বায়োপসি করে ক্যানসার পেল না। কিন্তু আমি আবার দেখার পর প্রায় নিশ্চিত হলাম যে, এটি ক্যানসার ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু মাংশ পরীক্ষা ছাড়া শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার কোন সুযোগ নাই তাই আমি রোগীকে পুনরায় মাংশ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিলাম এবং এইবার আমি নিজেই বিশেষ ফরসেফের মাধ্যমে মাংশ সংগ্রহ করলাম। পরীক্ষার রিপোর্ট এইবার ক্যানসার এর উপস্থিতি নিশ্চিত করল। এই রকম ঘটনা ঘটার তিনটি কারন হতে পারে, এক. যথা স্থান থেকে মাংশ সংগ্রহ করা হয়নি। দুই. অভিজ্ঞতার অভাব। তিন. উপযুক্ত যন্ত্রের অভাব (বায়োপসি ফরসেপ)। যাইহোক, সেই রোগীর অপারেশন সফল ভাবে সম্পন্ন করেছি এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি এখন ভালো আছেন এবং ক্যানসার মুক্ত আছেন। শিক্ষনীয় বিষয় হলো, মলদ্বারে বা মলের সাথে রক্ত যাওয়ার কারন শুধু মাত্র পাইলস না, ফিশার, পলিপ, ইনফেকশন, আলসার এবং ক্যানসারের মতো বহুবিধ কারনে মলের সাথে রক্ত যেতে পারে। তাই এই উপসর্গ কে অবহেলা না করে একজন বিশেষঞ্গ চিকিৎসকের সরনাপন্ন হয়ে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা গ্রহন করুন।