রাসুল (সঃ) রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবী পরার পর আবার কি তাহাজ্জুত পড়তেন ৮ রাকাত?
রাসুল (সঃ) রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবী পরার পর আবার কি তাহাজ্জুত পড়তেন ৮ রাকাত? প্রমান সহ জানতে চাই।
1 Answers
হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বাকি এগারো মাস যেভাবে তাহাজ্জুদ পড়তেন, ঠিক সেইভাবে রমদান মাসেও পড়তেন। নিম্নে বিস্তারিত সহ প্রমাণ দেখুন:- ★★★ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ، ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﺄَﻝَ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ : ﻛَﻴْﻒَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺻَﻼَﺓُ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ؟ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺰِﻳﺪُ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻭَﻻَ ﻓِﻲ ﻏَﻴْﺮِﻩِ ﻋَﻠَﻰ ﺇِﺣْﺪَﻯ ﻋَﺸْﺮَﺓَ ﺭَﻛْﻌَﺔً، ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺃَﺭْﺑَﻊَ ﺭَﻛَﻌَﺎﺕٍ، ﻓَﻼَ ﺗَﺴْﺄَﻝْ ﻋَﻦْ ﺣُﺴْﻨِﻬِﻦَّ ﻭَﻃُﻮﻟِﻬِﻦَّ، ﺛُﻢَّ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ، ﻓَﻼَ ﺗَﺴْﺄَﻝْ ﻋَﻦْ ﺣُﺴْﻨِﻬِﻦَّ ﻭَﻃُﻮﻟِﻬِﻦَّ، ﺛُﻢَّ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺛَﻼَﺛًﺎ، ﻓَﻘُﻠْﺖُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻨَﺎﻡُ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﺗُﻮﺗِﺮَ؟ ﻗَﺎﻝَ : « ﺗَﻨَﺎﻡُ ﻋَﻴْﻨِﻲ ﻭَﻻَ ﻳَﻨَﺎﻡُ ﻗَﻠْﺒِﻲ হযরত আবু সালমা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত তিনি আয়েশা রাঃ এর কাছে জানতে চান নবীজী সাঃ এর নামায কেমন হত রামাযান মাসে? তিনি বললেন-রাসূল সাঃ রামাযান ও রামাযান ছাড়া ১১ রাকাত থেকে বাড়াতেন না। তিনি ৪ রাকাত পড়তেন তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জানতে চেওনা। তারপর পড়তেন ৪ রাকাত তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা বিষয়ে জানতে চেওনা, তারপর পড়তেন ৩ রাকাত। হযরত আয়েশা রাঃ বলেন-তখন আমি বললাম-হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতর পড়ার পূর্বে শুয়ে যান? তিনি বললেন-হে আয়েশা! নিশ্চয় আমার দু’চোখ ঘুমায় আমার কলব ঘুমায়না। (সহীহ বুখারী-১/১৫৪) ♠♠♠♠♠ উক্ত হাদীসে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করে রাখুন। যথা- ১-এ হাদীসের আলোচ্য হল রমজান ও গায়রে রমজান তথা সারা বছরে পড়া রাতের নামায বিষয়ে। ২-যে নামায রাসূল সাঃ চার রাকাত করে পড়তেন। ৩-আট রাকাত পড়তেন সারা বছর। ৪-শেষে এসে রাসূল সাঃ তিন রাকাত বিতর পড়তেন। ★★★ ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺗﻐﻴﺮ ﻟﻮﻧﻪ، ﻭﻛﺜﺮﺕ ﺻﻼﺗﻪ، ﻭﺍﺑﺘﻬﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ، ﻭﺃﺷﻔﻖ ﻟﻮﻧﻪ হযরত আয়শা রাঃ বলেনঃ যখন রমজান মাস আসে, তখন রাসূল সাঃ এর চেহারার রং বদলে যেত, তিনি তখন অনেক বেশি নামায পড়তেন। খুবই কাকুতি মিনতির সাথে দুআ করতেন। আর আল্লাহ তাআলাকে খুবই ভয় পেতেন। {শুয়াবুল ঈমান-৩/৩১০, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১৮০৬২} ★★★ ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺯﻭﺝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻧﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺷﺪ ﻣﺌﺰﺭﻩ ﺛﻢ ﻟﻢ ﻳﺄﺕ ﻓﺮﺍﺷﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﻨﺴﻠﺦ রাসূল সাঃ এর সম্মানিতা স্ত্রী হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ ইরশাদ করেনঃ যখন রমজান মাস আসে, তখন রাসূল সাঃ কোমর বেঁধে ফেলেন। তিনি তার বিছানায় আর ফিরে আসতেন না রমজান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত। {সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৩৪২, শুয়াবুল ঈমান-৩/৩১০, ♣♣♣♣♣ তারাবীর পর তাহাজ্জুদের প্রমাণ:- আমরা ইতোপূর্বে জেনেছি রাসূল সাঃ রমজানে সারারাত ইবাদত করতেন। বিছানায় যেতেন না। আর আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিজী, ইবনে মাজায় আবু জর গিফারী রাঃ থেকে হাদীসে এসেছে রাসূল সাঃ তিনদিন সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে মসজিদে জামাতের সাথে তারাবী পড়িয়েছেন। প্রথম রাতে রাত্রের তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত, দ্বিতীয় দিন রাতের অর্ধেক পর্যন্ত, তৃতীয় দিন শেষ রাত্র পর্যন্ত। এখন প্রশ্ন হল রাসূল সাঃ প্রথম রাতে তিন ভাগের এক ভাগ ও দ্বিতীয় দিন অর্ধেক রাতে মসজিদে তারাবী শেষ করে বাসায় গিয়ে কি ঘুমিয়েছিলেন? তাতো অসম্ভব যা ইতোপূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কারণ নবীজী সাঃ রমজানে ঘুমাতেন না। তাহলে তিনি ঘরে গিয়ে কি নামায পড়েছেন? সেটি নিশ্চিয় তাহাজ্জুদ হবে। কারণ তারাবীতো সাহাবীদের সাথে মসজিদে পড়েই চলে এলেন। তাহলে রাসূল সাঃ থেকেও তারাবীর পর তাহাজ্জুদ পড়ার পরিস্কার ইংগীত পাওয়া যায়।