4 Answers
ইসলামী আইনের মূলনীতি হচ্ছে- সাধারণভাবে সবকিছু জায়েজ, যতক্ষণ না সেটি হারাম হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়। এই মূলনীতি অনুয়ায়ী আমরা যদি উল্লিখিত মাসআলাটি বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাই যে, পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানোর ব্যাপারে কোনো আদেশ বা নিষেধ কোনটিই নেই। এমতাবস্থায় পশ্চিম দিকে পা দেওয়া হারাম ঘোষণা করতে হলে-এর বিপক্ষে গ্রহণযোগ্য দলিল পেশ করতে হবে। অথচ আমাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী আমরা সাধারণভাবে ‘পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো নিষেধ’ মর্মে কোনো বক্তব্য কোরআন, হাদিস বা ইমামদের বক্তব্য থেকে জানতে পারি না। তাই এটি নিষেধ করার কোনো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ নেই বলে দাবি করা যায় অনেকে পশ্চিম দিকে (কিবলার দিকে) মুখ ফিরিয়ে বা পিঠ ফিরিয়ে পায়খানা-প্রশ্রাব করার নিষেধাজ্ঞায় বর্ণিত হাদিসের ওপর কিয়াস করে পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসাকে নাজায়েজ বলে থাকেন। অথচ এমন কিছু ধারণা করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। খোলা স্থানে কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে বা পিঠ ফিরিয়ে পায়খানা-প্রশ্রাব করা নিষেধ; এ মর্মে স্পষ্ট হাদিস রয়েছে (সুনান আন-নাসাঈ, হাদীস নং-২১, জামি আত-তিরমিযী, হাদীস নং-০৮) কিন্তু কিবলার দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা নিষেধ মর্মে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি। তাই কিবলার দিকে তথা পশ্চিম দিকে পা দিয়ে ঘুমানো বা বসা নাজায়েজ- এ কথাটি অপ্রমাণিত ও ভুল। সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বাজকে (রহ.) এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। কোনো ব্যক্তি যদি তার দুই পা কিবলার দিকে ফিরিয়ে রাখে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এমনকি কেউ যদি মসজিদে হারামে বসেও কাবার দিকে পা ফিরিয়ে রাখে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উছাইমীনও (রহ.) বলেন, কিবলার দিকে পা দিয়ে ঘুমাতে বা বসতে কোনো দোষ নেই। কিবলা ও কাবা অত্যন্ত মর্যাদাবান দু’টি বিষয়। এগুলো ইসলামের শিআর বা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোকে কোনোভাবে অসম্মান করা, অবজ্ঞা করা বা এগুলোর প্রতি কোনো অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা মহা অন্যায়। তাই কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের কাজ হলে তা মহা অন্যায় ও কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। পশ্চিম দিকে পা রাখার কারণে গুনাহ হবে কি হবে না-তা নির্ভর করে যে পা রাখছে তার ইনটেনশন বা নিয়তের উপর। পশ্চিম দিকে পা রাখা যদি হারাম হয় তাহলে বিছানায় বা সমান কোনো স্থানে বসা কোনো মাজুর ব্যক্তি (অসুস্থতা বা কোনো সমস্যার কারণে পা সামনে রেখে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি) কিভাবে বা কোন দিকে পা রেখে সালাত আদায় করবে? অবশ্যই পশ্চিম দিকে অর্থাৎ কিবলার দিকে পা রেখেই সলাত আদায় করতে হবে। ফিকহ বিশারদরা বলেন, যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বা বসে নামাজ পড়তে না পারেন, তাহলে কিবলা মুখ করে এক পাশে শুয়ে নামাজ আদায় করবেন। যদি সেটাও না পারেন তাহলে চিত হয়ে শুয়ে কিবলার দিকে পা দিয়ে নামাজ পড়তে হবে। যদি পশ্চিম দিকে পা রাখা হারাম বা নাজায়েজ হতো তাহলে সলাত আদায় কালেও তা হারাম হতো। আর যদি এটি ব্যতিক্রম হিসাবে নাজায়েজ হতো তাহলে তাও ফিকহের কিতাবে ও ফতোয়ায় উল্লেখ থাকতো। তাই ‘কিবলার দিকে বা পশ্চিম দিকে পা রেখে ঘুমালে হায়াত কমে যায়’ এ ধরনের অপ্রমাণিত ও অগ্রহণযোগ্য কথা বিশ্বাস, প্রচার ও প্রসার থেকে নিজে বিরত থেকে অন্যকেও বিরত রাখতে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। সুতরাং বলা যায় কথাটি ভিত্তিহীন।
কিবলার দিকে থুথু ফেলা, পা প্রসারিত করা বা প্রস্রাব পায়খানা করা সবই গুনাহের কাজ।
দেখুন এই পিডিএফ বইটি ডাউনলোড করে মসজিদ সমূহ সুবাসিত রাখুন (“ঞ“ অনুচ্ছেদের ১ নং বইটি),
আরো দেখুন গোসলের পদ্ধতি অনুচ্ছেদটি
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy