2 Answers
যুগে যুগে পৃথিবীতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নবী-রসূলগণকে প্রেরণ করেছেন তাঁর সত্য বাণীর প্রচার ও প্রসারের জন্য। কিন্তু নবী ও রসূলদের অবর্তমানে নায়েবে রসূল বা ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া বা নবীদের উত্তরাধিকারী হিসাবে কাজ করে থাকেন, কুরআন ও হাদীসের বিশেষজ্ঞ আমলদার আলেম, ওলামা, পীর মাশায়েক, অলি আউলিয়াগণ। তেমনি একজন ছিলেন গাওসুল আজম বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ:)। তিনি ৪৭০ হিজরিতে ইরাকের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। আর ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু দিবসকে ফাতেহা ইয়াজদাহাম বলা হয়। ফাতেহা অর্থ দোয়া আর ইয়াজদাহাম অর্থ এগারো রবিউস সানি। আবদুল কাদের জিলানী (রহ:) তাঁর মূল নাম হলেও বিশেষভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি বিভিন্ন গুণবাচক নামে পরিচিত। এতদঞ্চলে তিনি পরিচিত কুতুবল আযম নামে। কোন দেশে তিনি আখ্যায়িত হন মাহবুবে সোবহানী নামে। কোথাও তিনি কুতুবে রব্বানী নামে পরিচিত। কোন কোন দেশে তাঁকে আখ্যায়িত করা হয় দস্তগীর আফজালুল আউলিয়া নামে। কোন কোন দেশে তিনি নূরে ইজদানী নামে পরিচিত। আবার তিনি সর্বদেশে গাওছে ছামদানী মুহীউদ্দীন নামেও সুপরিচিত। এছাড়া তাঁর আরও অনেক গুণবাচক নাম রয়েছে। মুসলিম সমাজের নিয়মানুসারে বড়পীর আবদুল কাদের (রা.) শৈশবকালে সর্বপ্রথম কুরআন শরীফ পাঠ আরম্ভের মাধ্যমেই শিক্ষা শুরু করেন এবং অতি শৈশবেই প্রথম কুরআন পাঠ শিক্ষা করার পর জিলান নগরীর এক মক্তবেতাঁকেবিদ্যাশিক্ষার্থে ভর্তি করানোহয়। অবশ্য তিনি এই মক্তবে ভর্তি হওয়ার পূর্ব হতে গৃহ বসে জননীর মুখে কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করে তার অনেকাংশই মুখস্থ করে ফেলেছিলেন। বড়পীর সাহেবকে (রহ.) মক্তবে ভর্তি করার সময় ওস্তাদগণ তাঁর সাথে প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অতঃপর তাঁকে একান্ত প্রাথমিক স্তরের ছাত্র মনে করে শিক্ষক তাঁকে তাসমিয়া পড়ে শুনাতে করেন। ছাত্র তাসমিয়া পাঠান্তে থামবে, আবার ওস্তাদ দ্বিতীয় সবক প্রদান করবেন এটাই সাধারণ নিয়ম। কিন্তু ঘটে গেল অন্যরকম। বালক আবদুল কাদের (রহ.) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ে আর থামলেন না। তিনি পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরা হতে মুখস্থ পাঠ করতে লাগলেন। ওস্তাদজী তাঁকে মুখস্থ পাঠ করতে দেখে মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলেন। বড়পীর (রহ.) থামেননি। তিনি নির্ভুলভাবে পুলকিত কণ্ঠে অনর্গল পাঠ করে চললেন। ওস্তাদজী অবাক হয়ে বালকের সুমধুর কণ্ঠের পবিত্র কুরআন পাঠ শ্রবণ করে চললেন। সময় চলে যেতে লাগল। এক ঘণ্টা, দুই ঘন্টা, এক পারা, দু'পারা, তিনপারা এমনি করে আঠারো পারা পর্যন্ত পড়ে তিনি থেমে গেলেন। বড়পীর (রহ.)-এর এই অলৌকিক কান্ড দেখে ওস্তাদজী সবিস্ময়ে বললেনঃ প্রিয় কাদের তুমি থামলে কেন বাবা, আরও পাঠ কর। তোমার তেলাওয়াত খুবই সুন্দর। আমার শুনতে ইচ্ছা করছে। তুমি পড়ে যাও। বিনীত কণ্ঠে বললেন, ওস্তাদজী আমি তো আর জানি না। এ পর্যন্তই শিখেছি। মাতৃগর্ভে থেকেই ১৮ পারা পর্যন্ত মুখস্থ করেছিলাম। এখন বাকী অংশ আপনার কাছে শিখব। ওস্তাদজী আরও বিস্মিত হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন, এটা কি করে তুমি সম্ভব করলে? গাউসুল আযম (রহ.) বললেন: হুজুর আমার সম্মানিত মা পবিত্র কুরআন শরীফের আঠারো পারার হাফেজ। তিনি আমার গর্ভে থাকা অবস্থায় অধিকাংশ সময় তেলাওয়াত করতেন। আমি তা শুনতে পেতাম। এইরূপ শুনে শুনে গর্ভে থাকা অবস্থায়ই আমারও এ পর্যন্ত মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। বুজর্গ ওস্তাদজী বালকের মুখে এরূপ কথা শুনে যারপর নেই প্রীত হলেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে তাঁর জন্য দোয়া করলেন।
ফাতেহা দোয়াজদহম : দোয়াজদহম অর্থ হল বারোতম। অর্থাৎ ১২ই রবিউল আউয়ালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মকে কেন্দ্র করে যে রীতি পালন করা হয় তাই ফাতেহা দোয়াজদহম। এটা পালন করা ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বিদআত। সুতরাং এটা বর্জনীয়।
ফাতেহা ইয়াজদহম : ইয়াজদহম অর্থ এগারোতম। হযরত বড় পীর আব্দুল কাদের জীলানী রহ. এর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে এ দিনটি পালন করা হয়। যেহেতু ১১ই রবিউস সানী তার ওফাত হয় তাই এই দিনটিকে ঘিরে যে রীতি পালন করা হয় সেটাই ফাতেহা ইয়াজদহম। এটাও ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী একটা বিদআত কাজ। এটাকেও বর্জন করা আমাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।