2 Answers

নিয়মিত নখ কাটা ইসলামের অন্যতম বিধান ও সুন্নাত। নখ কাটার জন্য কোন নির্ধারিত নিয়ম বা দিবস রাসুল (সাঃ) শিক্ষা দেননি। বিভিন্ন বই এ নখ কাটার বিভিন্ন নিয়ম, উল্টোভাবে নখ কাটা, অমুক নখ থেকে শুরু করা ও অমুক নখে শেষ করা, অমুক দিনে নখ কাটা বা না কাটা ইত্যাদির ফযীলত বা ফলাফল বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলি সবই পরবর্তী যুগের প্রবর্তিত নিয়ম। মুহাদ্দিস গণ একমত যে, এ বিষয়ে যা কিছু প্রচলিত আছে সবই বাতিল, বানোয়াট ও মিথ্যা। নখ কাটার জন্য এ সকল নিয়ম পালন করাও সুন্নাত বিরোধী কাজ। রাসুল (সাঃ) নখ কাটতে নির্দেশ দিয়েছেন। কোন বিশেষ নিয়ম বা দিন শিক্ষা দেননি। কাজেই যে কোন ভাবে যে কোন দিন নখ কাটলেই এই নির্দেশ পালিত হবে। কোন বিশেষ দিনে বা কোন বিশেষ পদ্ধতিতে নখ কাটার কোন ফযীলত কল্পনা করার অর্থ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর শিক্ষাকে অপূর্ণ মনে করা এবং তাঁর শিক্ষাকে পূর্ণতা দানের দুঃসাহস দেখানো।  শরীরের চুল, পশম ও নখ কাটা সুন্নত। প্রতি সপ্তাহে একবার কাটা মোস্তাহাব। জুমুআর নামাযের পূর্বেই এ থেকে পাক সাফ হয়ে মসজিদে যাওয়া উত্তম। অন্তত সপ্তাহে একবার কাটলেও চলবে।চল্লিশ দিনের বেশী না কাটা অবস্থায় অতিবাহিত হলে গোনাহ হবে।

12836 views

সমাজে প্রচলিত হচ্ছে শুক্রবার নখ কাটা সুন্নত। অনেকে বলে থাকেন বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার উভয় দিনের যে কোনো একদিন নখ কাটা সুন্নত। পাশাপাশি অনেকে বলে থাকেন শনিবার নখ কাটা নিষেধ। এলাকা ভেদে এরকম নানা কথা লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। সঠিক কথা হলোঃ নখ বড় হওয়া মাত্রই কাটা সুন্নত। নবীজি (সা) বা সাহাবীগণের থেকে নখ কাটার সুন্নাহ সম্পর্কিত কোনো দিনের উল্লেখ পাওয়া যায় না। আবার এমন কোনো কথাও পাওয়া যায় না যে, শনিবার নখ কাটা নিষেধ।

নখ কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা একটি ফিতরাত বা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। এরকম স্বভাবজাত প্রকৃতির মধ্যে আর কী কী রয়েছে সে বিষয়ে নিম্নে একটি হাদীস তুলে ধরা হলোঃ
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ফিতরাত পাঁচটি অথবা পাঁচটি জিনিস স্বভাবজাতঃ খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখসমূহ কাটা, বগলের পশম তুলে ফেলা এবং মোচ কাটা। (ইবনে মাজাহ – ২৯২)

প্রত্যেকটি রুচিশীল মানুষই নিয়মিত নখ কেটে পরিচ্ছন্ন থাকেন। আমরা প্রতিদিন অন্তত পাঁচ বার সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহর সামনে দাঁড়াই। মুনাজাতে আল্লাহর কাছে হাত তুলি। সেই হাতের নখগুলো যদি হয় নোংরা ও অপরিষ্কার তাহলে বিষয়টি মোটেও সুন্দর হলো না। আল্লাহর সামনে সালাতে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আদব হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পারিপাটি হয়ে উত্তম পোশাক পরে সালাত আদায় করা। আবু ওয়াসিল বলেন, আমি আবু আইয়ূব রা.-এর সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম। মোসাফাহার সময় তিনি আমার নখ বড় দেখে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ কেউ আসমানের খবর জিজ্ঞাসা কর। অথচ তার হাতের নখগুলো পাখির নখের মতো, যাতে জমে থাকে ময়লা-আবর্জনা! (মুসনাদে আহমদ; আলমুজামুল কাবীর, তবারানী)

তাই একজন মু’মিন ব্যক্তির করণীয় হচ্ছে নিয়মিত নখ কেটে পরিচ্ছন্ন থাকা।

12836 views

Related Questions