2 Answers

ইসলামের দৃষ্টিতে পুরুষের জন্যে টাখনূর নিচে কাপড় পরা উচিত নয়।

2926 views

দেহের নিম্নাংশের পরিধেয় পোষাক টাখনুর নিচে ঝুলানোর দ্বারা যদি অহংকার প্রকাশ উদ্দেশ্য হয় , তাহলে তার শাস্তি হচেছঃ “ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়া‘ লা তার দিকে তাকাবেন না, তার সাথে কথা বলবেন না, তাকে (পাপ হতে) পবিত্র করবেন না এবং তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। পক্ষান্তরে যদি তা দ্বারা অহংকার প্রকাশ উদ্দেশ্য না হয়, তাহলে তার শাস্তি হচেছঃ “ দু ‘ টাখনু হতে যা নিচে নামবে সেই অংশকে আগুন দ্বারা শাস্তি দেয়া হবে। কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ তিন ব্যক্তি যাদের সাথে আল্লাহ তায়া ‘ লা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, যাদের দিকে তাকাবেন না, যাদেরকে পবিত্র করবেন না, এবং যাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি , তারা হলোঃ- যে ব্যক্তি পায়ের টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে , দান করার পর যে ব্যক্তি খুঁটা দেয় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে যে তার পন্যদ্রব্য বিক্রয় করে ৷ তিনি আরোও বলেনঃ- “ যে ব্যক্তি অহংকার করে তার পোষাক ঝুলালো আল্লাহ তার দিকে কিয়ামতের দিন তাকাবেন না” । এই শাস্তি ঐ ব্যক্তির জন্য , যে অহংকার বশতঃ তার পোষাক ঝুলাবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অহংকারের উদ্দেশে ঝুলায় না তার শাস্তি হলোঃ যা সহীহ বুখারীতে হযরত আবু হুরায়রাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ লুঙ্গির যেটুকু গিরার নিচে হবে সেটুকু অংঙ্গ জাহান্নামে যাবে ”। এই হাদীসটি অহংকারের সাথে শর্তযুক্ত নয় এবং ইতিপুর্বে বর্ণিত হাদীসেও (অহংকারের) শর্ত যুক্ত করা প্রকাশ পায়না । তার আরোও প্রমান আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস , তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ মুমিন ব্যক্তির পরিধেয় পোষাক পায়ের গোছার অর্ধাংশ পর্যন্ত এবং তাতে কোন গুনাহ নাই” । অথবা বলেনঃ “ পায়ের গোছা এবং গিরার মধ্য পর্যন্ত পোষাক পরলে কোন গুনাহ হবে না, আর এ থেকে যেটুকু অংশ গিরার নীচে হবে সেটুকু অংঙ্গ জাহান্নামে যাবে ” ।( হাদীসটি ইমাম মালেক, আবু দাউদ, নাসাঈ , ইবনে মাজা , ও ইমাম ইবনে হিব্বান (রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম জামীআ) বর্ণনা করেন এবং ইমাম ইবনে হিব্বান তার তারগীব ও তারহীব গ্রন্থে পোষাকের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান অধ্যায়ে তা উল্লেখ করেন। (৩নং খন্ড , ৮৮ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য ) আরোও দলিল হলোঃ——- দু ‘ টি কাজই ভিন্ন এবং দু ‘ টি কাজের শাস্তিও ভিন্ন , আর যখন বিধান এবং কারণ ভিন্ন হবে তখন এর মাঝে বৈপরিত্ব অপরিহার্য হওয়ার কারণে আম বা সাধারণকে খাস বা নির্দিষ্টের উপর চাপিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ। আর যে ব্যক্তি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসকে দলিল স্বরূপ পেশ করে , তাকে আমরা বলবঃ দু‘ টি কারণে তার মধ্যে আপনার পক্ষে দলিল সাব্যস্ত হচ্ছে নাঃ প্রথমতঃ স্বয়ং আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ “ আমার পোষাকের দু ‘ পার্শ্বের কোন এক পার্শ্বের কাপড় ঢিল হয়ে ঝুলে পড়লে তার প্রতি আমি খুব সতর্ক থাকি যেন আর কখনও ঝুলে না পড়ে” । তিনি স্বেচ্ছায় অহংকার বশতঃ তার কাপড় ঝুলিয়ে দেননি , বরং তা নিজেই ঢিল হয়ে ঝুলে গেছিল , তা সত্বেও তিনি তার প্রতি সতর্ক ছিলেন। আর যারা তাদের পোশাক টাখনু বা গিরার নিচে ঝুলিয়ে দেয় এবং দাবী করে যে , তারা অহংকারের ইচ্ছা করে না , তবে ইচ্ছা করে তারা তাদের কাপড় ঝুলিয়ে দেয় , তাদের উদ্দেশ্যে বলব – টাখনু বা পায়ের গিরার নিচে আপনার কাপড় নামিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য যদি অহংকার না হয় , তবে শুধুমাত্র জাহান্নামের আগুন দ্বারা আপনার ঐ অংশটুকুকে আযাব দেয়া হবে যেটুকুর উপর কাপড় নেমেছে। আর যদি আপনি কাপড় ঝুলিয়ে দেন অহংকার বশতঃ তাহলে আপনাকে এর চাইতে বড় শাস্তি দেয়া হবে । আর তা হচ্ছেঃ “ কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়া‘ লা আপনার সাথে কথা বলবেন না , আপনার দিকে তাকাবেন না , আপনাকে ( পাপ থেকে ) পবিত্রও করবেন না এবং আপনার জন্য রয়েছে জাহান্নামের যন্ত্রনাদায়ক আযাব। দ্বিতীয়তঃ আর আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর প্রশংসা স্বয়ং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন এবং তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে , তিনি ঐ সমস্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত নন যারা অহংকার বশতঃ এটা করে । সুতরাং যারা টাখনু বা পায়ের গিরার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে দেয় তাদের কেউ কি ঐ রকম প্রশংসা পত্র এবং সাক্ষ্য বা সার্টিফিকেট অর্জন করতে পেরেছে ? কিন্তু শয়তান কিছু মানুষের জন্য কিতাব ও সুন্নাতের দলীলের অনুর্রপ ( সদৃশ আমলের ) অনুসরণের দ্বার উম্মুক্ত করে , যেন তারা যা করছে তা থেকে তাদের নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন তাকে তিনি সোজা সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। আল্লাহ তায়া‘ লা আমাদেরকে সোজা সরল পথের উপর চলার তাওফীক দান করুন । আমীন। টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার কিছু ক্ষতিকর দিকঃ 1. এর মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করা হয়। 2. অর্থের অপচয় এবং শয়তানকে খুশি করা হয়। 3. নিম্নাংশের ঝুলানো অংশটি তাড়াতড়ি ময়লা হয়। 4. এ সম্পর্কে বর্ণিত সমস্ত হাদীসগুলির অপব্যাখ্যা করা হয়। 5. ইসলামি কৃষ্টি ও কালচার সমাজ থেকে উঠে যায়। 6. সৎ আমল করার উৎসাহ নষ্ট হয়ে যায়। 7. অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য রাখা হয়। 8. এর মাঝে বিনয়ী ও নম্রতা ভাব প্রকাশ পায় না। 9. ইসলামি পোষাক এবং অন্যান্য পোষাকের মাঝে যে ব্যবধান রয়েছে তার তোয়াক্বা করা হয় না। 10. কোরআন ও হাদীসের উপর নিজের মতকে প্রাধান্য দেয়া হয়। 11. ইসলামি লেবাসের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাবে পক্ষান্তরে সমাজে কুরুচিপূর্ণ ও অশালিন লেবাস বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সত্য জানা ও তার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন।

2926 views

Related Questions